ঢাকায় আগামীকাল থেকে প্লাস্টিক মেলা শুরু

প্রকাশিত

অর্থনৈতিক রিপোর্টার: দিন দিন বাড়ছে প্লাস্টিকের ব্যবহার। গৃহস্থলি থেকে শুরু করে ভবন নির্মাণ, শিল্প কলকারখানা, কৃষি, ব্যবসা ও প্যাকেজিং সেক্টরে প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বর্তমানে দেশের একজন মানুষ বছরে ৫ থেকে ৭ কেজি প্লাস্টিক ব্যবহার করে। ২০৩০ সাল নাগাদ এর ব্যবহার বেড়ে দাঁড়াবে ৩০ থেকে ৩৫ কেজিতে। তাই কোনোভাবেই কমানো যাবে না প্লাস্টিকের ব্যবহার।
গতকাল সোমবার দুপুরে ১৩তম আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক মেলা-২০১৮ উপলক্ষে বিপিজিএমইএ কর্তৃক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিপিজিএমইএ’র সভাপতি মো: জসিম উদ্দিন।
জসিম উদ্দিন বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই প্লাস্টিকের ব্যবহার। বর্তমানে কাঠ ও লোহার পরিবর্তেও প্লাস্টিক ব্যবহার করা হচ্ছে। যত দিন যাবে এর ব্যবহার আরো বাড়তে থাকবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জসিম উদ্দিন বলেন, প্লাস্টিক দ্রব্য পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এটা আমর স্বীকার করি। কিন্তু বর্জ ব্যবস্থাপনা উন্নত করলে প্লাস্টিক ব্যবহারে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না। এ জন্য আমাকে, আপনাকে, সরকারকে ও জনগণকে সচেতন হতে হবে।
উদাহারণ দিয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর একজন মানুষ ১০০ কেজি প্লাস্টিক ব্যবহার করে কিন্তু সেখানে কোনোভাবে পরিবেশ বিপর্যস্ত হয় না। কারণ তারা সবাই এ ব্যাপারে সচেতন। আমরাও যদি তাদের মতো সচেতন হই তাহলে আমাদেরও কোনো ক্ষতি হবে না।
তিনি বলেন, প্লাস্টিকের ক্ষতি থেকে বাঁচতে আমরা প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই। পুরাতন প্লাস্টিক নতুন করে ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে আমরা সরকারি বেসরকারিসহ সকল পর্যায়ের সহযোগিতা কামনা করছি।
বিপিজিএমইএ সভাপতি এ সময় জানান, আগামী ৩১ জানুয়ারি থেকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে ১৩তম আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক মেলা ২০১৮’এর আয়োজন করা হয়েছে। যা চলবে ৩ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত। মেলায় ৪৮০টি স্টলে ১৫টি ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করবে দেশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো। মেশিনারিজ, মোল্ড, কাঁচামাল উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে এবারের মেলায়।
প্লাস্টিক সেক্টর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতি বছর অভ্যন্তরীণভাবে প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকার প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন ও বিপণন হচ্ছে। এই সেক্টর থেকে সরকারি কোষাগারে প্রতি বছর জমা হচ্ছে ৩,৫০০ কোটি টাকা। প্লাস্টিক রফতানিতে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ১২তম স্থানে অবস্থান করেছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে প্লাস্টিক ক্ষাত আরো এগিয়ে যাবে।
বিপিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি এ এস এম কামাল উদ্দিন, উইসুফ আশরাফ, ফেরদৌস ওয়াহেদ, বিপিজিএমএ’র সহ সভাপতি কে এম ইকবাল হোসেন প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।