ঢাকা ১৮ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর নির্বাচনি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত

ডেস্ক রিপোর্ট ঃ আজ সন্ধ্যা ৬.০০ টায় ঢাকা ১৮ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর নির্বাচনি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পীর সাহেব চরমোনাই মনোনিত হাতপাখা মার্কার প্রতীকে ঢাকা-১৮ আসনের এমপি পদপ্রার্থী আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।  বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদ এছাড়াও অন্যান্য নেতৃবন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের জনগণ এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। সাধারণ মানুষের মাঝে বিরাজ করছে এক অজানা আতঙ্ক। আগামী দিনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রধান দুটি রাজনৈতিক জোটের যুদ্ধাংদেহি মনোভাব দেশের সর্বত্র এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। আর এসবই হচ্ছে ইসলামী অনুশাসন না মানার কারণে।

তিনি বলেন, মানুষ ইসলাম বাদ দিয়ে দুনিয়ার মোহে পড়ে দিক-বেদিক ছুটোছুটি করছে। ইসলামের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে জোট ও মহাজাটের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। এতে ইসলাম ও মানবতার কোন কল্যাণ নেই। সর্বত্র অশান্তির আগুন জ্বলছে, আরও জ্বলবে। এ থেকে মুক্তি পেতে সবাইকে ইসলামে ফিরে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যতদিন মুসলমানরা ইসলামের ওপর অটল ও অবিচল ছিলো, ইসলামের আলোকে জীবন পরিচালনা করেছিল, জীবনের সবকিছুর উর্ধ্বে নববীর সুন্নতকে আঁকড়ে ধরেছিল, ততদিন বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা নেতৃত্ব দিয়েছিল। ইসলাম ছেড়ে, কুরআন-সুন্নাহ ছেড়ে দুনিয়ার মোহে নানাদিকে ছুটাছুটির কারণে সর্বত্র মুসলমানরা অপমানিত ও অপদস্ত হচ্ছে।

তিনি ঢাকা-১৮ আসনের এমপি পদপ্রার্থী আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেনকে জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাতপাখায় ভোট দিয়ে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠায় সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশ ক্রমেই অস্থিরতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। সরকার ও দেশের জনগণ মুখোমুখি অবস্থা। সরকারের প্রতি জনগণের কোন আস্থা নেই। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই এই অস্থিরতা দূর হয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর বলা হয়েছিল কিছুদিন পর সবার অংশগ্রহণে আরেকটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেওয়া হবে। কিন্তু চার বছরেও তা দেওয়া হয়নি। জনগণকে দেওয়া কথা রাখেনি ক্ষমতাসীনরা। নির্বাচন না দিয়ে পুরো সময়টাই পার করে নিয়ে নিল সরকার। তিনি বলেন, এটা কোন ধরনের গণতন্ত্র? সরকার সংবিধানের মূল কাঠামো থেকে সরে যাচ্ছে। এখন ন্যায়বিচার পাওয়াই মুশকিল। উচ্চ ও নিম্ন আদালতের দিকে তাকালে দেখা যায় আইনের শাসনের কত অভাব। সরকারি দলের জন্য এক ধরনের আইন আর সাধারণ মানুষের জন্য আরেক ধরনের আইন। নূ্যূনতম সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন সরকার হবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন আছে।

সভাপতি তাঁর বক্তব্যে আগামী নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করার দাবীতে দেশবাসীকে ৫ অক্টোবর’১৮ইং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় মহাসমাবেশে যোগ দানের আহ্বান জানান।