ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি : আটক ৬

প্রকাশিত
ঢাবি রিপোর্টার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল ডিভাইস দিয়ে জালিয়াতির চেষ্টাকালে ৫ ‘জালিয়াত’ ও এক অভিভাবকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরের কেন্দ্র থেকে শুক্রবার পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে তাদের আটক করা হয়। তবে পুরো জালিয়াত চক্রকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে আটকদের নাম-পরিচয়  প্রকাশ করেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আকটরা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।  আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের প্রশাসনের জিম্মায় রাখা হয়েছে৷
পরীক্ষা শেষে প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, দুইজনকে আমরা আটক করে প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে রেখেছি। ওদের দুজনের কাছেই ডিজিটাল ডিভাইস পাওয়া গেছে। এরমধ্যে একজন তার অভিভাবকের সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছে। আমরা সেই অভিভাবকেও আটক করেছি। এছাড়া অন্য তিনটি কেন্দ্র থেকে আরও তিনজনকে একই কারণে আটক করা হয়েছে। তাদের নিয়ে আসার জন্য আমাদের সহকারী প্রক্টররা গিয়েছেন।
জালিয়াতির জন্য প্রক্টর একাধিক কোচিং সেন্টারকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, নামসর্বস্ব একাধিক কোচিং সেন্টার এতে জড়িত। আমাদের কাছে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ আছে। আমরা তদন্ত করে সবকিছু প্রকাশ করবো। এছাড়া অন্যান্য কেন্দ্রে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক রাব্বানী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভূক্ত ক-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরে ৮৪ টি কেন্দ্রে শুক্রবার সকাল ১০টায় শুরু হয়। দেড় ঘণ্টার এই পরীক্ষায় ১২০ নম্বরের  এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় পরীক্ষার্থীদের।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সকালে পরীক্ষা শুরুর পর কয়েকটি হল পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ক ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়ক অধ্যাপক মো. আব্দুল আজিজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন   ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান।
বরাবরের মতই মোবাইল ফোনসহ টেলিযোগাযোগ করা যায় এমন যে কোনো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রের প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টরে তল্লাশি করে পরীক্ষার্থীদের হলে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। যে কোনো ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতি ঠেকাতে পরীক্ষার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ বছর ক ইউনিটের ১৭৫০টি আসনের জন্য ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীর সংখ্যা ৮১,০৯৬জন। অর্থাৎ প্রতি আসনের বিপরীতে লড়াই করছেন ৪৬ জন প্রার্থী। সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ইউনিটে ৭ হাজার ১২৮টি আসনের বিপরীতে এবার মোট ২ লাখ ৭২ হাজার ৫১২জন আবেদন করেছে।
আগামী ১২ অক্টোবর ঘ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি যুদ্ধ শেষ হবে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল  বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (admission.eis.du.ac.bd) থেকে জানা যাবে।