তথ্য-প্রযুক্তি যুগের প্রজন্ম পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ ঢেঁকি ছাঁটা চালের ভাত খাওয়ার স্বাদ হতে বি ত নরসিংদী’তে ঐতিহ্যবাহী “’ঢেঁকি” শিল্পের বিলুপ্তি

প্রকাশিত

নরসিংদী প্রতিনিধিঃ ঐতিহ্যবাহী কাঠের ঢেঁকি’র মাধ্যমে ধানের খোসা ছাঁটিয়ে চাল তৈরীতে জনপ্রিয় ছিল সবুজ-শ্যামল ছায়াঘেরা মাছে-ভাতে বাঙ্গালী’র প্রধান মাধ্যম। তৎকালীন বাঙ্গালী কৃষক-কৃষাণীদের ঘরে ঘরে ঢেঁকি’র ব্যাপক প্রচলন ছিল। ঢেঁকি ছাঁটা চালের ভাতে ছিল এক অনন্য স্বাদ। কালের বিবর্তনে আজ গ্রাম বাংলার সেই ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি’র প্রচলন প্রায় বিলুপ্তির পথে। আধুনিকতার জোয়ারে গ্রাম বাংলার কৃষক-কৃষাণীদের চির-চেনা ঢেঁকির ছন্দময় শব্দ আজ হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রাম-গঞ্জ, পাড়া-মহল্লানহ সর্বস্তরে আজ যান্ত্রিকতার ঢেউ উঠেছে।
গ্রাম-বাংলার ঘরে ঘরে ব্যবহৃত কাঠের ঢেঁকি দিয়ে চাল, চিড়া, আটাসহ হরেক রকমের পিঠা তৈরীর চালের গুড়ো করা হতো। যুগ-যগান্তরের ঐতিহ্যবাহী আদি কাঠের ঢেঁকি আজ ইঞ্জিন চালিত মেশিনের আবিস্কারসহ ব্যাপকহারে প্রচলন হওয়ায় ঢেঁকি’র ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বিলুপ্তি ঘটেছে। ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকির যাবতীয় কাজ এখন বাঙ্গালী কৃষান-কৃষানীরা ইঞ্জিন চালিত মেশিনে করছে। তৎকালীন গ্রাম-বাংলার নারীদের মাঝে ঢেঁকি নিয়ে জনপ্রিয় গান ও প্রবাদ বাক্য রচিত ছিল। গ্রাম বাংলার তরুণী-নববধূসহ কৃষাণীদের কণ্ঠে বেজে উঠত “ও… বউ চাল ভাঙ্গেরে… ঢেঁকিতে পাড় দিয়া, নতুন চাল ভাঙ্গে হেলিয়া দুলিয়া, ও… বউ চাল ভাঙ্গেরে ঢেঁকিতে পাড় দিয়া” ।
প্রবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি দেশের বিভিন্ন অ লের ন্যায় নরসিংদী জেলা থেকেও বিলুপ্তি ঘটেছে। কালের বিবর্তণে ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি আজ কালের সাক্ষী হিসেবে শুধু ঐতিহ্যের স্মৃতি বহন করছে। আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি এখন আর আগের মত চোঁখে দেখা যায় না। গ্রাম-বাংলার বধূ’রা দিন-দুপুরসহ গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ঢেঁকি’র ছন্দময় শব্দের তালে-তালে, গানে-গানে ধানের খোঁসা ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে চাল তৈরী করতো।
অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে কৃষক ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গে কৃষাণ-কৃষাণীদের মাঝে নবান্নের উৎসবের আয়োজন করা হতো। ঘরে ঘরে ধানের নতুন চাল তৈরীসহ আতপ চাল দিয়ে পিঠা, পুলি, ফিরনি, পায়েস তৈরীর ধুম পড়ে যেত। পুষ্টিমানসহ গুনে-মানে সমৃদ্ধ ঢেঁকি ছাঁটা আউশ-আমন চালের ভাত খেতে খুব স্বাদ পেতো। বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তি যুগের প্রজন্ম ঢেঁকি ছাঁটা চালের ভাত খাওয়ার স্বাদ হতে তারা বি ত। বাঙ্গালী আজ আধুনিকতার মহা-বলয়ে আবর্তিত গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি’র প্রচলন হারিয়ে কতিপয় কৃষাণ-কৃষাণীরা বাড়ীতে স্মৃতিচারণ হিসেবে ঢেঁকি রাখলেও তা ব্যবহার করছে না। তৎ-কালীন গ্রাম-বাংলার অ-স্বচ্ছল দরিদ্র নারীরা জীবিকা নির্বাহের তাগিদে মানুষের বাড়ি-বাড়ি যেয়ে ঢেঁকি’র কাজ করতো। প্রাচীন সভ্যতার বিকাশে ঢেঁকির আবির্ভাব হলেও ধারাবাহিক আধুনিকায়নে উন্নত তথ্য-প্রযুক্তি’র ব্যবহারের ফলে টেঁকি শিল্পের বিলুপ্তি ঘটে।
আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী “ঢেঁকি” শিল্প সংরক্ষণের বৃহত্তর স্বার্থে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতাসহ গণ-সচেতনতা সৃষ্টি এবং সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা একান্তভাবে অপরিহার্য বলে সচেতনমহল মনে করেন।