তরুণীকে হত্যার পর চাদরে ঢেকে রেখে গেছে খুনি

প্রকাশিত

নিজের ঘরে চাদরে গা ঢেকে শুয়ে ছিল তরুণী। চাদর সরিয়ে আঁতকে উঠেছে তারই ভাই। মাথা-মুখ রক্তে মাখামাখি। ধড়ে প্রাণ নেই। কাছেই পড়ে আছে রক্তমাখা কোদাল। কে যেন ঘরে ঢুকে তাকে খুন করে দিয়ে গেছে!

মাত্র ১৯ বছর বয়স ভারতের রানাঘাটের পায়রাডাঙার সুস্মিতা সরকার ওরফে মণির। হুগলির শেওড়াফুলির এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। সে বিয়ে টেকেনি। নতুন গোপালপুরে বাপের বাড়িতেই ফিরে এসেছিল সে।

পাড়াপড়শিরা বলছেন, তার বন্ধু ছিল অনেক। সারাক্ষণ ফোন আসত। কিন্তু কে তাকে খুন করে গেল, তা পুলিশের কাছে স্পষ্ট নয়। এক যুবককে রানাঘাট থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

মণিকে খুন হয়ে পড়ে থাকতে প্রথম দেখে তার ১২ বছরের ভাই সৌরভ। সোমবার বিকেলে সে মাঠে খেলতে গিয়েছিল। তাদের বাবা লটারি বিক্রেতা গোপাল সরকার ডাক্তারের কাছে ছানি পরীক্ষা করাতে গিয়েছিলেন। মা বীণা গিয়েছিলেন আয়ার কাজে।

সৌরভ জানান, দিদি তখন ঘরে একাই ছিল। খেলা শেষ করে সন্ধ্যা বাড়ি ফিরি। ‘দিদি’ বলে ডাক দিয়েও সাড়া পাইনি। ঘরে ঢুকে দেখি, মুখ ঢাকা দিয়ে শুয়ে রয়েছে। চাদর সরাতেই দেখি রক্ত!

রাতেই পুলিশ মরদেহ রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। মণির মা বীণা ঘন ঘন জ্ঞান হারাতে থাকায় তাকে ভর্তি করানো হয়েছে ওই হাসপাতালেই। পরিবারের পক্ষ থেকে খুনের অভিযোগ করা হয়েছে।

মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে পুলিশ উল্লেখ করেছে, কোদাল দিয়ে মাথায় মেরে খুন করে আততায়ী ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। যে কারণে, সদর দরজা খোলাই ছিল। রক্তমাখা সেই কোদাল পুলিশ জব্দ করেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রানাঘাট ১ নম্বর পায়রাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন গোপালপুরেই অন্য এক জায়গায় আগে থাকত মণিরা। ১২ বছর আগে নতুন বাড়ি করে উঠে আসে। এখনো বাইরে প্লাস্টারের কাজ শেষ হয়নি।

মণিরা দুই বোন, এক ভাই। দিদির বিয়ে হয়ে গেছে। বছর তিনেক আগে শেওড়াফুলির একটি ছেলের সঙ্গে মণিরও বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বছরখানেক হলো, শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। বাপের বাড়িতেই ছিল।

পুলিশ জেনেছে, মণি হাসিখুশি মেয়ে। একাধিক যুবকের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। ফোনে টানা কথা বলতেও দেখা যেত বহু সময়ে। মাস তিনেক হলো, রানাঘাটের দে চৌধুরীপাড়ার এক মোমো বিক্রেতা যুবকের সঙ্গে তাকে ঘুরতে দেখা যাচ্ছিল। পুলিশ তাকে জেরা করেছে