তিন পাত্তি গোল্ড, মোবাইলে কোটি কোটি টাকার জুয়া !

প্রকাশিত

তুহিন সারোয়ার – অনলাইন জুয়ায় নাম ‘তিন পাত্তি গোল্ড’। ক্যাসিনোর চেয়েও ভয়ঙ্কর এই নেশায় দিন দিন আসক্ত হচ্ছে দেশের বিভিন্ন বয়সী মানুষ। এদের মধ্যে বেশিরভাগই স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।‘তিন পাত্তি গোল্ড’ খেলাটি ২৪ ঘণ্টা খেলা যায়। এটি খেলতে ক্লাবে যেতে হয় না। ঘরে বসে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খেলা যায়। প্রাথমিকভাবে এই ভার্চুয়াল জুয়া খেলতে কম খরচ হলেও মাস শেষে মোটা অঙ্কের অর্থ খোয়া যায়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাজীপুর টঙ্গী কলেজের এক ছাত্র

বলেন, এখনো তিন পাত্তি খেলি। নেশাটা ছাড়তে পারিনি। বাবার কাছ থেকে খরচের কথা বলে টাকা নিতাম। এ টাকা তিন পাত্তিতে উড়িয়ে দিয়েছি। এ পর্যন্ত ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নষ্ট করেছি।

তিনপাত্তি গেম খেলে প্রায় ৩ লাখ টাকা হেরেছি। গত ৩ বছর ধরে একই ভাবে এই গেমটি খেলছি। কিন্তু কোনদিন জিততে পারিনি। প্রায় প্রতিদিনই দুইশো থেকে তিনশো টাকার চিপস (কয়েন) কিনতে হয়। কথা গুলা বলছিলেন গাজীপুর ডেগেরচালা এলাকার তিন পাত্তি গোল্ডের এক খেলোয়াড় সাজ্জাদ ( ছদ্দনাম) ।

সাজ্জাদের কথার সূত্র ধরে,গত ২৮ জুলাই বিকালে সুজন ইসলাম নামের এক চিপস ডিলারের সঙ্গে ব্যবসায়ী সেজে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিন পাত্তির চিপসের রেট জানতে চাইলে তিনি ইমো নম্বরে কথা বলতে বলেন।
তার ইমুতে কল দেয়ার আগেই তিনি ইমুতে একটি তালিকা পাঠান।  তিনি বলেন, আমাদের কাছে ব্যাংক প্লেয়ার আইডি পাবেন।
আমরা খেলে জেতা চিপস বিক্রি করি না। চিপস কেনার নিয়ম হিসেবে ইমোর মেসেজে তিনি লেখেন, ০১৮৭৭-****৪৯ বিকাশ নম্বরে পারসোনাল বিকাশ থেকে সেন্ডমানি করবেন।
দয়া করে এজেন্ট থেকে টাকা পাঠাবেন না। যে নম্বর থেকে টাকা পাঠাবেন, সেই নম্বর আর প্লেয়ার আইডির মেসেজ দিন। ২ মিনিটের মধ্যে চিপস পেয়ে যাবেন।
তিনপাত্তি গোল্ড’ একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনের গেমস। এটি গুগল প্লে স্টোরে পাওয়া যায় অথবা গুগলে সার্চ দিলে এই গেমস ডাউনলোডের জন্য অনেক সাইট চলে আসে। এই সফটওয়ারটি ১০ মিলিয়নের বেশি মানুষ ডাউনলোড করেছে। এই গেমসটি খেলতে হলে ইন্টারনেট কানেকশন যুক্ত অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ও একটি ফেসবুক আইডির প্রয়োজন পড়বে। এটি হচ্ছে ৩টি তাসের খেলা। খেলার সবচেয়ে বড় কার্ড হলো তিন টেক্কা আর সবনিন্ম কার্ড ২৩৫।

কিছু শিক্ষার্থী লেখাপড়া ছেড়ে রাতের পর রাত তিন পাত্তিতেই মগ্ন থাকছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিন পাত্তি জুয়ায় আসক্ত এক  শিক্ষার্থী বলেন, তিন পাত্তি গোল্ড জুয়ায় এক কোটি চিপস ৬০ টাকা দিয়ে পাওয়া যায়। তা হারাতে খুব একটা সময় লাগে না। যতক্ষণ বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা থাকত ততক্ষণ খেলতাম। এখন লেখাপড়া বাদ দিয়ে বাড়ি চলে এসেছি। ওই শিক্ষার্থী আরো বলেন, এখনো তিন পাত্তি খেলি। নেশাটা ছাড়তে পারিনি। বাবার কাছ থেকে খরচের কথা বলে টাকা নিতাম। এ টাকা তিন পাত্তিতে উড়িয়ে দিয়েছি। এ পর্যন্ত ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নষ্ট করেছি। তার মতে, এ খেলায় বেশিরভাগই বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী আসক্ত। অন্যান্য পেশার লোকজনও এ জুয়া খেলেন। কারণ হিসেবে জানান, এটি বাসায় বসেই খেলা যায়। ক্লাবে গেলে নানা ভয় থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একশ্রেনীর মানুষ এই গেমসটিকে আয়ের একমাত্র উৎস হিসেবে বানিয়ে ফেলেছে। তারা ৪-৫ টি মোবাইলের মাধ্যেমে একসঙ্গে সিন্ডিকেট করে খেলে। যার ফলে তারা শুধুই জিতে, কখনও হারে না। আর তারা তদের জেতা চিপস বিক্রি করে অন্য খেলোয়াড়ের কাছে। এমন ব্যাক্তিরা প্রতিমাসে কমপক্ষে ১ থেকে দেড় লাখ টাকার চিপস বিক্রি করে থাকে।’

অনলাইন জুয়া প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের এডিসি নাজমুল ইসলাম চ্যানেল সিক্সকে বলেন, অনলাইনে জুয়া প্রতিরোধে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এর আগেও অনলাইনের অন্যান্য জুয়া বন্ধ করেছি। জুয়ার কারবারিরা একটা বন্ধ করলে আরেকটা খোলে। আমাদের নজরদারি রয়েছে। তিনি আরো বলেন, অনলাইনে চিপস বিক্রির ডিলারদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছি। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। কারণ এ জুয়া বাসায় বসেই খেলা হয়।

-চলবে