তুরাগের মাঠ গুলোতে খেলতে মানা

প্রকাশিত

মৃণাল চৌধুরী সৈকত : রাজধানীর তুরাগে থানা এলাকার এক স্কুল খেলার মাঠে দিনের বেলা খেলাধুলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষীকা ও ম্যানেজিং কমিটি। ফলে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ ও নিরব উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে কোন মুর্হুতে আশংকাজনক দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারনা করছে এলাকাবাসী। এ মাঠে খেলতে আসা শিশু-কিশোরদের স্কুল কমিটি হুমকিধামকি ও পুলিশ দিয়ে হয়রানির করার অভিযোগও রয়েছে।
এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার তুরাগ থানাধীন হরিরামপুর ইউনিয়নের মধ্যে ছোট বড় ৩৩টি গ্রাম রয়েছে। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে ঘটিত হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদ। রয়েছে ৯জন মেম্বার, ৩জন সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার ও একজন চেয়ারম্যান। এই ইউপিতে রয়েছে দুইটি থানা। এ ইউনিয়নে খেলাধুলার জন্য কামারপাড়া স্কুল এন্ড কলেজ মাঠ ও ধউর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলিয়ে ২টি স্কুল মাঠ রয়েছে। তাছাড়া, দখল হয়ে যাচ্ছে তুরাগ থানা এলাকার অন্যান্য ছোট বড় খেলার মাঠগুলো। এক সময় তুরাগ থানা এলাকায় একাধিক খেলার মাঠ ছিল। বর্তমানে সেখানে গড়ে উঠেছে অ্যাপার্টমেন্ট, সরকারি সংস্থার বিভিন্ন ভবন, বিপণি বিতাণসহ বিভিন্ন স্থাপনা। শিশু-কিশোরদের খেলার সুযোগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। যান্ত্রিকভাবে বড় হয়ে উঠছে এ এলাকার শিশুরা। মাঠগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। দিনে দিনে সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে খেলাধুলাসহ সাংস্কৃতিক পরিবেশ। রাজধানী ঢাকার তুরাগ এলাকার কামারপাড়া, বেড়িবাধ, রানাভোলা, চন্ডালভোগ, ফুলবাড়িয়া, ধরঙ্গার টেক, নয়ানগড়, ডিয়াবাড়ি, নলভোগ, পাকুড়িয়া, আহালিয়া, দলিপাড়া, বাউনিয়া, উলুদাহা ও ধউরসহ বিভিন্ন এলাকার খেলাধুলার উপযোগী একাধিক মাঠ ছিল। আর সে সময় খেলাধুলায় মুখর থাকত এসব মাঠ। এলাকার মানুষও অবসর কাটাত এখানেই।

সরেজমিনে ধউর সরকারি স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে খেলার মাঠে ইট, বালু ও রড দিয়ে স্কুল মাঠটি বাউন্ডারি দিচ্ছে। কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা মো. আকাশের সাথে। তিনি জানান, আগে এই মাঠে এলাকার ছেলে মেয়েরা খেলাধুলা করলেও এখন বাউন্ডারি নির্মাণের পর খেলাধুলা বন্ধ রাখা হয়েছে। একাধিকবার চেষ্টা করেও খেলাধুলা করতে পারছে না এলাকার ছেলে মেয়েরা। হঠাৎ করে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদেও খেলাধুলা বন্ধ হওয়ায় নিজের কাছে অনেক খারাপ লাগছে।
ধউর সরকারি প্রাথমিক স্কুলের ছাত্র কবির ও মো. নয়ন বলেন, এক সময় স্কুলের টিফিনের পর অনেক খেলাধুলা করতাম। মাঠে খেলার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে একটা অংশের টাকা দিয়েও খেলেছি। গত রমজানের পূর্বে একটি লীগ খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দু‘গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হওয়াতে কিছু লোক আহত হয়। এ ঘটনার পর থেকে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা এ মাঠে খেলা বন্ধ করে দেয়। ছাত্র-ছাত্রীরা আরো অভিযোগ করে বলেন, স্কুলে আসার আগে ও পরে অনেক খেলাধুলা করতে পারতাম। এ খেলা নিয়ে দু‘গ্রুপের মধ্যে সংর্ঘষের পর এ মাঠে ম্যাডামসহ ম্যানেজিং কমিটি খেলতে দেয় না।
ধউর সরকারি প্রাথমিক স্কুল মাঠটি খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য উন্মুক্তের দাবি করা হচ্ছিল। মাঠটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিভিন্নভাবে খেলাধুলা বন্ধ করে রেখেছে। তুরাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছেলে মেয়েদের জন্য খোলা জায়গা রক্ষায় এখনই পদক্ষেপ নেয়া দরকার। খেলার মাঠ ও পার্ক বেদখলের বিরুদ্ধেও নেয়া দরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। কোনো সরকারি খোলা জায়গায় যেন বস্তি গড়ে না ওঠে সে দিকেও নজর দেয়া দরকার সরকারের। রাজধানীতে স্বস্তিকর পরিবেশ বজায় রাখতেই পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান থাকা একান্ত দরকার বলে মনে করেন স্থানীয় বোদ্ধা মহল।
ধউর এলাকার মো. আকরাম বলেন, বিকেলে মাঠে খেলতে নামলে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেয়। এ ভয়ে গত তিন মাস যাবৎ এ মাঠে খেলতে পারছি না। ধউর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ ছাড়া অন্যকোন মাঠও নেই। খেলাধুলা ছেড়ে দেয়ার পর থেকে অবসর সময় আর ভাল লাগছে না। মাঠ থাকা সত্তেও খেলাধুলা করতে পারছি না। এতে করে আমাদের মত তরুণ প্রজন্মের ছেলেরা মাদকাসক্তসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করেন তিনি।
কামারপাড়া এলাকার মো. আব্দুল হাকিম বলেন, তুরাগ এলাকা জুড়ে ২টি মাত্র মাঠ। তারমধ্যে ধউর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে খেলাধুলা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে করে যুব সমাজকে ধ্বংশের দিকে ফেলে দিচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। গত কয়েক মাস যাবৎ খেলাধুলা করতে হলে টঙ্গীর প্রত্যাশা মাঠে যেতে হচ্ছে। ব্যস্ততম ঢাকা-আশুলিয়া সড়ক পার হতে হয়। এতে কওে প্রতিদিন দূর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে এলাকার কোমলমতি ছেলেদের। গত শনিবার আমার এক বন্ধু অল্পের জন্য প্রাণে বেচে যায়। আমরা তুরাগ বাসির দাবী অতিদ্রুত ধউর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠটি সকলের জন্য উন্মক্ত কওে দেয়া হউক। এতে আমাদের যুব সমাজ মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড থেকে মুক্ত পাবে।
এবিষয়ে ধউর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উত্তম কুমার বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সাথে আলোচনা করে খুব শিঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এব্যাপারে ধউর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসরিন সুলতানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্কুলের মাঠে খেলাধুলা বন্ধ কেন এটা কোন খবরের বিষয় না। তাছাড়া স্কুলের চারদিকে বাউন্ডারি হচ্ছে। ম্যানেজিং কমিটির অনুমতি স্বাপেক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের খেলাধুলার অনুমতি দেয়া হবে। তবে, বহিরাগত কাউকে এ স্কুল মাঠে খেলতে দেয়া হবে না।
##