তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ থানা স্থাপন

প্রকাশিত

 

তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি :
দেশের পর্যটন কেন্দ্র ও পর্যটকদের নিরাপত্তায় অন্যান্য জেলার মতো পঞ্চগড়েও চালু হয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রম। এখন হতে পর্যটকরা পঞ্চগড়ে ভ্রমণে আসলে নিরাপত্তা নিতে পারবেন ট্যুরিস্ট পুলিশের। দেশের অন্যতম পর্যটন অঞ্চল এখন হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়। সীমান্তঘেষা এ জেলাটিতে রয়েছে চোখ জুড়ানো নানান দর্শনীয় স্থানের সমাহার। রয়েছে ঐতিহাসিক স্থাপনা। আর সীমান্ত জুড়ে রয়েছে প্রাকৃতিক নয়নাভিরাম সৌন্দর্য। বিশেষ করে দেশের একমাত্র, যেখানে দাঁড়িয়ে উপভোগ করা যায় নেপালের আকাশচুম্বী হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা। রয়েছে শেষ সীমান্তের জিরো পয়েন্ট। এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে সারা বছরই হাজার হাজার দেশি-বিদেশী পর্যটকদের আগমন ঘটে এখানে। পর্যটন শিল্পের অত্যাধিক গুরুত্ব বহন করায় ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে এসেছে স্বস্তি।

পর্যটন শিল্পের জন্য নানাদিক থেকেই উত্তরের এ জেলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটন শিল্প অঞ্চল ঘোষণার দাবি এ অঞ্চলের সর্বসাধারণের। দেশের সংসদীয় আসনের এক থেকে শুরু হয়েছে কার্যক্রম। প্রতি বছর নেপালের মাউন্ট এভারেস্ট তথা হিমালয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পারি জমায় লক্ষ লক্ষ ভ্রমণ পিপাসু পর্যটক। সেই হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা কাছ থেকে দেখা মেলে একমাত্র এ জেলায় আসলে। শরৎ থেকে শীত ঋতুতে পরিস্কার আকাশে সুস্পষ্ট দেখা যায় এই হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা। মাত্র ৫৮ কিলোমিটার দূরেই এ পর্বত দুটি।
এখানে রয়েছে দেশের অন্যতম চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন। এ ইমিগ্রেশন সুবিধায় যাওয়া যায় ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের মতো চারটি দেশে। রয়েছে বিশাল জিরোপয়েন্ট। ইংরেজ আমলের স্থাপনা ডাকবাংলো। ৩০ হাজার শ্রমিকের জীবন-জীবিকার প্রবাহিত নদী মহানন্দা, সবুজ চা বাগান, আনন্দধারা পার্ক, মহারাজা দিঘী, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতœতত্বের দূর্গনগরী, রক্স মিউজিয়াম, বার আউলিয়া মাজার, শাহী মসজিদ, ইমাম বাড়া, বদেশ্বরী মন্দির, গোলকধাম মন্দির, চীন-মৈত্রী সেতুসহ আরো দর্শনীয় স্থান। পর্যটন শিল্পের উপর গুরুত্ব দিয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার দেশের প্রধান প্রধান পর্যটন স্পটগুলোতে বাড়াচ্ছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ।

সম্প্রতি পঞ্চগড়ের প্রধান পর্যটন স্পট তেঁতুলিয়ায় স্থাপিত হয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যালয়। ট্যুরিস্ট পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম আসার পরপরই নিয়েছেন নানান উদ্যোগ। পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদানে তৈরি করেছেন কার্যক্রমের ছক। পাশাপাশি পর্যটন স্পটসমূহে কোন প্রকার অপরাধ, ইভটিজিং, মাদকমুক্ত পরিবেশ তৈরিতে কাজ শুরু করে দিয়েছেন তিনি। যদিও দেশের শান্তিপ্রিয় জেলার মধ্যে পঞ্চগড় অন্যতম। এখানে নেই চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসী কার্যকলাম। তারপরেও এখানকার পর্যটন শিল্প অঞ্চলে পর্যটকরা যাতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে নিরাপত্তা পায়, সেরকম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান ট্যুরিস্ট পুলিশের এ ইনচার্জ।

এ বিষয়ে সোমবার বিকেলে জেলার ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, পঞ্চগড় জেলার যেসমস্ত পর্যটনস্পট রয়েছে, সেসব পর্যটনস্পটগুলোতে পর্যটকদের সুস্থ্য বিনোদন নিশ্চিত করতে কোন প্রকার আইনশৃংখলা বিরোধী কার্যক্রম, ইভটিজিংয়ের ঘটনা যাতে না ঘটে ট্যুরিস্ট পুলিশ সর্বদা নিয়োজিত রয়েছে। সেই সাথে কোন পর্যটক যাতে কোন প্রকার হয়রানি, বিরম্বনার শিকার না হোন সেদিকে ট্যুরিস্ট পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে। আর বিদেশী পর্যটকদের বিশেষ নিরাপত্তা দিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে বলে তিনি জানান।

দেশের অন্যতম পর্যটন অঞ্চল হিসেবে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত চাওয়া ছিল ট্যুরিস্ট পুলিশের। দীর্ঘদিনের চাওয়া পঞ্চগড়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের জোন থানা তেঁতুলিয়া উপজেলায় স্থাপন হওয়ায় অভিনন্দন জ্ঞাপন করেছেন এ অঞ্চলের সচেতন নাগরিকমহল।

 

Be the first to write a comment.

Leave a Reply