দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ওয়ালটনের আরেকটি ধাপ সম্পন্ন

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে শিল্পায়নের দিকে ঝুঁকেছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো। এক্ষেত্রে দেশে কারিগরি খাতে দক্ষ জনবলের সংকট প্রকট। এই সমস্যা সমাধানের অংশ হিসেবে অনেকটা সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবেই দেশের ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য খাতে অভিজ্ঞ ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কাজ করছে ওয়ালটন গ্রুপ। এবার এই কর্মযজ্ঞের আরেকটি সফল ধাপ সম্পন্ন হলো।

দেশের বিভিন্ন পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে পাস করা তিন শতাধিক ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ওয়ালটন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের অধীনে ইন্টার্নশিপ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর তাদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়।

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ওয়ালটন গ্রুপের করপোরেট অফিসে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট সার্টিফিকেট গিভিং সিরিমনি’র আয়োজন করা হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক্স, ইলেকট্রিক্যাল ও হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ডব্লিউএসএমএস হিসেবে পরিচিত ‘ওয়ালটন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক এসএম জাহিদ হাসান। আরো উপস্থিত ছিলেন গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নজরুল ইসলাম সরকার, ওয়ালটন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের প্রধান মুজাহিদুল ইসলাম, এইচআর হেড শিবলী সাদিক, ডব্লিউএসএমএস’র অ্যাকাউন্টস বিভাগের প্রধান সিরাজুল ইসলাম, ওয়ালটনের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার রওশন আলী বুলবুল, ওয়ালটনের টিভি সার্ভিসিং শাখার প্রধান ব্রজ গোপাল কর্মকার, ওয়ালটনের সেলফোন শাখার প্রধান শাহাদাত হোসেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডব্লিউএসএমএস’র কর্মকর্তা আইরিন পারভিন হোসেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসএম জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমরা এখন শিল্পায়নের চরম উৎকর্ষতার যুগে আছি। এই যুগে কারিগরি খাতে দক্ষ জনবলের খুব চাহিদা, আবার খুব অভাবও। তাই এই পেশায় নিজেকে উন্নতির সর্বোচ্চ পর্যায়ে আসীন করানো সম্ভব।’

ওয়ালটন গ্রুপের পলিসি, এইচআরএম অ্যান্ড অ্যাডমিন বিভাগের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট কিছু পেশায় কখনোই শেখার শেষ নেই। এর মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং পেশা অন্যতম। তাই প্রতিনিয়ত অনুসন্ধিৎসু মনকে জাগিয়ে রাখতে হবে। উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে নিত্যনতুন সৃষ্টির প্রতি আগ্রহী থাকতে হবে।’

ইন্টার্নশিপ সমাপনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজকের এই স্বীকৃতির মাধ্যমে আপনাদের পেশাগত জীবন শুরুর একটি সোপান পার হলেন। এরপর যে পেশাতেই আপনারা থাকুন না কেন, অনুসন্ধিৎসু মনকে কখনোই বন্ধ করে দেবেন না।’

তিনি বলেন, ‘সভ্যতার বিকাশ হয়েছে প্রযুক্তিবিদ, ইঞ্জিনিয়ারদের হাত ধরে। আপনাদের মধ্যেও সেই সম্ভাবনা রয়েছে। এটাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন, তাহলে উন্নতি আপনা-আপনি হাতের মুঠোয় ধরা দেবে।’

অনুষ্ঠানে সিরাজুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘প্রতিনিয়ত শেখার মানসিকতা নিয়ে কাজ করে যেতে হবে। না হলে পেশাগত জীবনে উন্নতি করা কষ্টকর হবে। কাজকে নেশা এবং পেশা হিসেবে নিতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যে শিক্ষার্থী যে বিষয়ে পড়াশুনা করে, তার সে বিষয়ে ক্যারিয়ার গঠনের লক্ষ্য স্থির করা উচিত। কারণ লক্ষ্য ছাড়া ব্যক্তিগত উন্নতি হয় না।’

ইন্টার্নশিপ সমাপনকারীদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে একটি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। ঢাকা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে পাস করা একজন প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ‘চোর ধরার যন্ত্র’ শীর্ষক নিজের উদ্ভাবিত একটি প্রজেক্ট তুলে ধরেন। প্রজেক্টটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- অন্ধকার ঘরে কোনো চোর বা অসাধু লোক টর্চ হাতে ঢুকলেই স্বয়ক্রিয়ভাবে বেজে উঠবে এলার্ম।

আইএসও সনদপ্রাপ্ত ওয়ালটন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। উচ্চমানের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকার ও অদক্ষরা পরিণত হচ্ছেন দক্ষ মানবসম্পদে। প্রশিক্ষণ নিয়ে যাদের অনেকই দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশেও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রশিক্ষণের কাজটি হচ্ছে প্রধাণত চারভাবে। একদিকে বিএসসি প্রকৌশলীদের স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগ। দ্বিতীয়ত, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ এবং নিয়োগ। তৃতীয়ত, ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে প্রকৌশলীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ। অন্যটি হচ্ছে অদক্ষ বা বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ টেকনিশিয়ানে পরিণত করা।

২০০০ সালে ওয়ালটন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যাত্রা শুরু করে। তখন থেকেই ওয়ালটনের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে পাস করা ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রকৌশলীরা মূলত ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট কোর্সের আওতায় ওয়ালটন সার্ভিস সেন্টারে তিন মাস মেয়াদি ইন্টার্নশিপ প্রোগামে অংশ নেন। এছাড়া বিভিন্ন ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং ইউসেপের মতো কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেও শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নশিপ বা প্রশিক্ষণের জন্য ওয়ালটনে আসেন।

প্রতিবছর আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে শতাধিক ডিপ্লোমা প্রকৌশলীকে উচ্চমানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণকালীন তারা প্রাতিষ্ঠানিক কাজেরও অভিজ্ঞতা লাভ করেন। সফলভাবে ইন্টার্নশিপ শেষ করার পর অভিজ্ঞতার সনদ দেওয়া হয়। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে যা সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

সূত্রমতে, ওয়ালটন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে ২০১৪ সালে ১১০ জন, ২০১৫ সালে ১৯৪ জন, ২০১৬ সালে ৩২০ জন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ইন্টার্নশিপ করেন। ২০১৭ সালে ইন্টার্নশিপের জন্য এক হাজার প্রকৌশলী আবেদন করেন। যাদের মধ্যে থেকে ৩২৮ জনকে ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার তাদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ওয়ালটন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে ওয়ালটন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এসব প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নের সুযোগ করে দেয় শিক্ষার্থীদের। এটি কোম্পানির করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতারও (সিএসআর) একটি অংশ।