দশম জাতীয় সংসদের চার বছর পূর্তি সোমবার

প্রকাশিত

ডেস্ক রিপোর্ট : বিএনপি-জামায়াত জোটের নির্বাচন বর্জনের কারণে শুরুতে প্রশ্ন দেখা দিলেও গত চার বছরে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে দশম জাতীয় সংসদে সক্রিয় ছিল ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল। স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির পাশাপাশি নানা ইস্যুতে সরব হতে দেখা গেছে উভয় দলের সংসদ সদস্যদের। চার বছরে সংসদ বর্জনের সংস্কৃতির অবসান হয়েছে। তবে সংসদে দলীয় উপস্থিতি না থাকলেও সংসদীয় আলোচনায় থেকেছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ তাদের পরিবার। অনেক ক্ষেত্রে একতরফা আলোচনা ও বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত বর্তমান দশম সংসদের চার বছর পূর্ণ হচ্ছে সোমবার।

২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই সংসদের মেয়াদ শেষ হবে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি। ওই ২৮ জানুয়ারির আগের তিন মাসের মধ্যে হবে এগারতম সংসদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত হবে এগারতম সংসদ। ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনী তৎপরতা শুরু হয়েছে। এ নির্বাচনে এই সংসদের সদস্যদের সফলতা-ব্যর্থতার হিসাব হবে।

দশম সংসদের চার বছরে বড় ধরনের কূটনৈতিক সফলতা অর্জনের বিষয়টি সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছে। জাতীয় সংসদের উদ্যোগে ঢাকায় সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশগুলোর বৃহত্তর দুটি সংগঠন কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) ও ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সম্মেলন হয়েছে। এই সংসদে গত চার বছরে জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে আলোচনায় নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। সংসদ অধিবেশনগুলোতে আগের যেকোনো সময়ের থেকে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো স্বীকৃতি দেওয়ায় সংসদের সবাই একই সুরে প্রশংসা করেছে। সংসদে সর্বসম্মত ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এই সংসদ একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে স্বোচ্চার ছিল। এ বিষয়ে সংসদে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এই সংসদ ‘বর্জন সংস্কৃতি’অবসানকারী সংসদ বলে মনে করে সরকার ও বিরোধী দল।

সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়, গত চার বছরের ১৯ অধিবেশনে বৈঠক হয়েছে ৩২৮ দিন। এর মধ্যে সবচেয়ে লম্বা অধিবেশন ছিল প্রথমটি। ৩৬ কার্যদিবসের এই অধিবেশন শেষ হয় ১০ এপ্রিল। আর সব থেকে ছোট অধিবেশন ছিল মাত্র ৫ কার্যদিবসের- ১৫ ও ১৭তম অধিবেশন।

গত ৭ জানুয়ারি ১৯তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অধিবেশনেই দেশের নতুন ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এই সংসদে এ পর্যন্ত ১২৮টি আইন পাস হয়েছে। বিল পাস, প্রশ্নোত্তরসহ অন্যান্য ইস্যুতেও সক্রিয় ছিলেন সংসদ সদস্যরা। সর্বশেষ ৪ লাখ কোটি টাকার বাজেট পাস করে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে এই সংসদ।

বিগত বছরগুলোতে জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারকে চাপে রাখতে একাধিকবার সংসদ বর্জন (ওয়াক আউট) করেছিল বিরোধী দল। সর্বশেষ চলতি অধিবেশনে ব্যাংক কোম্পানি আইন পাসের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন তারা। জাতীয় নির্বাচনের এ বছরের শুরু থেকেই অবশ্য সরকারের বিরুদ্ধে সংসদে উত্তাপ ছড়াচ্ছে বিরোধী দল। বিশেষ করে ব্যাংক খাত নিয়েই তারা সংসদ গরম করছেন। প্রতিটি বিল উত্থাপন ও পাসের সময় তাদের রুটিন বিরোধিতাও অব্যাহত রয়েছে। এর আগে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ২০১৫ সালে তারা প্রথমবার সংসদ বর্জন করেছিল। বিরোধী দলের পাশাপাশি সরকারি দলের সদস্যরাই মাঝে মাঝে সরকারের নেওয়া জনবিরোধী সিদ্ধান্তগুলো কঠোর বিরোধিতা করে সংসদকে প্রাণবন্ত রাখেন। বিভিন্ন ইস্যুতে দলীয় এমপিদের এই সংসদীয় আক্রমণে রীতিমতো বিব্রত হয়েছেন একাধিক মন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতায় নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্ববাসীর প্রশংসা অর্জন নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বর্তমান জাতীয় সংসদ অতীতের যেকোনো্ সময়ের থেকে বেশ কার্যকর। এই সংসদের রেকর্ড সংখ্যক আইন পাসের পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের পাশাপাশি বিরোধী দলও ভূমিকা রাখছে। তাদের সহযোগিতায় দেশে দুটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববাসী স্বচক্ষে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিসহ অন্যান্য বিষয় দেখার সুযোগ পেয়েছে। এটা বাংলাদেশের জন্য বয়ে এনেছে অনন্য সম্মান।

তিনি আরো বলেন, সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিদেশি অতিথিরা বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এর মাধ্যমে বিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। যা আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় বড় ভূমিকা রাখবে।