দুই দলের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ, জাপাকেই চায় :

প্রকাশিত

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, সব ধর্মের সমান অধিকার দিয়েছিলাম। এখন মন্দির লুট হয়, জমি দখল হয়। আমাদের সময় এগুলো হয়নি। দুই দলের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ। তাই মানুষ আমাদের চায়।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. সাহিদুর রহমান টেপা রচিত ‘জাতীয় পার্টি কেন করবেন’ এবং ‘তোমার জন্য’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, বর্তমানে মেধার চেয়ে দলের কদর বেশি। গতকালও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ মারামারি করেছে। এজন্যই ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করেছিলাম। আমার সময় মাথা কাটা লাশ দেখতে হয়নি। পরিবর্তন দরকার। পরিবর্তনের জন্য জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় আসতে হবে। মানুষ সুখে, শান্তিতে, নিরাপদে ছিল। কাটাকাটি, হানাহানি, মারামারি, হিংসা, গুম, হত্যা, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন ছিল না। এ কারণেই দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বলেন, এটা ভাষার মাস। বাংলা ভাষার জন্য অনেকে শহীদ হয়েছেন। কিন্তু কেউ সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করেনি, আমি চালু করেছি। এজন্য ১৯৮৭ সালে আইন পাশ করেছিলাম। বাংলা ভাষায় সরকারি অফিস, আধা সরকারি অফিস, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বাংলা লেখা বাধ্যতামূলক করেছিলাম। ইংরেজি সাইন বোর্ডের নিচে বাংলায় লিখতে হবে- আমিই অগ্রদূত।

‘জাতীয় পার্টি কেন করবেন’ বইটির মোড়ক উন্মোচন শেষে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, বইটি পড়লেই আপনারা সবকিছু জানতে পারবেন। আমার উন্নয়ন, সংস্কার ও নির্মাণের কথা জানতে পারবেন। গ্রাম-গঞ্জে কাঁচা রাস্তা ছিল, গরুর গাড়ি চলত। গ্রাম থেকে শহরে আসার পাকা রাস্তা আমিই করেছিলাম।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় পার্টি সরকারের আমলে ১৯টি জেলা থেকে ৬৪টি জেলা এবং ৪৬০টি উপজেলা করেছিলাম। আমরা ক্ষমতায় আসলে আগের মতো উপজেলা কার্যক্রম চালু করব।

‘যুবকদের কর্মসংস্থানের প্রয়োজন। মাদকে ছেয়ে গেছে সমাজের সর্বত্র। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে যুবকদের উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক প্রদান প্রথম আমিই চালু করেছিলাম। শুক্রবার সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি আমিই ঘোষণা করেছিলাম’, বলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও বইয়ের প্রকাশক আলমগীর সিকদার লোটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বিশিষ্ট লেখক মো. সাহিদুর রহমান টেপা, সুনীল শুভ রায়, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, এফবিসিসিআইর পরিচালক হেলেনা জাহাঙ্গীর প্রমুখ।

জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক সুলতান মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এম এ সাত্তার, অধ্যাপিকা মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী, মো. শফিকুল ইসলাম সেন্টু, উপদেষ্টা রিন্টু আনোয়ার, সৈয়দ দিদার বখত, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, শেখ আলমগীর হোসেন, জহিরুল আলম রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইসহাক ভুইয়া, আমির উদ্দিন আহমেদ ডালু, ফকরুল আহসান শাহজাদা, মো. বেলাল হোসেন, এম এ রাজ্জাক খান, এ বি এম লিয়াকত হোসেন চাকলাদার, শারমিন পারভীন লিজা, সৈয়দা পারভীন তারেক, আবু সাঈদ স্বপন প্রমুখ।