দুর্বৃত্তকারীরা সাভার উপজেলায় নিখোঁজ মফিজুরকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে হত্যা করেছে

প্রকাশিত

সাভার প্রতিনিধিঃ সাভার উপজেলায় নিখোঁজ ব্যাক্তিকে কেরাণীগঞ্জে হাত-পা ও মাথাবিহীন অজ্ঞাত লাশ হিসেবে পাওয়া গেছে। ধর্ষণের প্রতিশোধ নিতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে খুন করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ এ হত্যাকান্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়। ঢাকার সহকারী পুলিশ সুপার রামানন্দ সরকার, ঢাকা দক্ষিণ গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শাহ্ জামান, কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. সাইদুর রহমান বলেন, অজ্ঞাতনামা নিহত ব্যাক্তির নাম মো. মফিজুর রহমান (৪০) সে সাভার উপজেলার কাইসারচর ভাকুর্তা এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে।
মফিজুর রহমান ওই এলাকার বটতলা বাজারে তার একটি জুয়েলার্সের দোকান রয়েছে। তাছাড়া তিনি কবিরাজি করতেন।
কেরাণীগঞ্জের তারানগর ইউনিয়নের একটি ডোবা থেকে মফিজুরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তা সাইদুর বলেন, লাশ উদ্ধারের পর আশপাশের থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাভার থানায় একটি নিখোঁজের জিডি হয়েছে। পরিবারকে খবর দিলে তারা এসে মাথা ও হাত-পা না থাকায় লাশ শনাক্ত করতে পারেনি। পরে ডিএনও টেস্টে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়। এরপর যে এলাকায় লাশ পাওয়া গেছে, সেই বেউতা এলাকায় অনুসন্ধানে নামে পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তা সাইদুর বলেন, “বেউতা এলাকার লোকজন জানায়, কবিরাজ মফিজুর মাঝে মধ্যে এই এলাকায় একটি বাড়িতে গিয়ে এক নারীকে চিকিৎসা দিতেন।
“ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকান্ডের তথ্য বেরিয়ে আসে। তার দাবি, চিকিৎসার নামে ব্ল্যাকমেইল করে মফিজুর তাকে ধর্ষণ করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একই এলাকার সালাহ উদ্দিন (২৮) ও সাভারের ভাকুর্তা এলাকার নজরুল ইসলাম নজুর সঙ্গে এক লাখ টাকায় হত্যাকান্ড ঘটানোর চুক্তি করেন বলে স্বীকার করেছেন এই নারী।”
ওই নারী সহ সালাহ উদ্দিন ও নজুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তা সাইদুর বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক, মফিজুল ওই নারীর বাড়িতে গেলে তরকারির সঙ্গে তাকে বেশ কয়েকটি ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়।
“ঘুমিয়ে পড়লে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। লাশ গুম করার জন্য দেহ থেকে মাথা, হাত ও পা আলাদা করে আট টুকরা করেন তারা। নজরুল ও সালাহ উদ্দিন সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে টুকরাগুলো বিভিন্ন ডোবায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে দেন। কিন্তু দেহটি ভেসে ওঠে।”
এর তিন দিন পর একই এলাকার আরেকটি ডোবা থেকে বিকৃত মাথাটি উদ্ধার করা হলেও হাত-পায়ের টুকরাগুলো এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, পুলিশ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি, চাপাতি ও অটোরিকশা জব্দ করেছে।
অন্যদিকে নিহত মফিজুরের পরিবার পুলিশের দেয়া হত্যা কান্ডের মূল কারণ ধর্ষণ হিসেবে মানতে নারাজ তারা এখানে অন্যকোন ঘটনা লুকিয়ে আছে বলে সন্দেহ পোষণ করছে তারা এ ব্যাপারে আরো অনুসন্ধান করার জন্য পুলিশের প্রতি আহবাণ জানায়।