দূর্ভোগের চরমে গাজীপুরের গণপরিবহন,যাত্রীরা জিম্মী,ইচ্ছেমত ভাড়া আদায়!

প্রকাশিত

তুহিন সারোয়ার,চ্যানেল সিক্স-

দূর্ভোগ আর ভোগান্তির চরম সীমায় ঠেকেছে গাজীপুরের গণপরিবহন যাত্রীসেবা। সরকারী ছুটি বা সাপ্তাহিক ছুটি কিম্বা গাজীপুরের কোনো সমাবেশও নয়, তারপরও নগরীর রাস্তায় গণপরিবহন চলাচলের দৃশ্য দেখে মনে হতে পারে দেশে বাসের আকাল লেগেছে। তবে এ দৃশ্য স্বাভাবিক নয়, এটি কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে বলে দাবি সাধারণ যাত্রীদের। সিটিং সার্ভিস বন্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পর থেকেই গাজীপুৱে গণপরিবহন সেবায় দেখা দিয়েছে সংকট।গাজীপুরের গণপরিবহন যাত্রীসেবার নৈরাজ্য এ নিয়ে সরেজমিন ঘুরে চ্যানেল সিক্স এর পাঠকদের জন্য সবিস্তারে লিখেছেন সাংবাদিক তুহিন সারোয়ার। মোটরযান আইন কিংবা বিআরটিএর ভাড়া নির্ধারণ নীতিমালায় স্পেশাল সার্ভিস, গেটলক কিংবা সিটিং সার্ভিস বলে কোনো শব্দ নেই। এ ধরনের সার্ভিসের আড়ালে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি। নগরীর বাস ভাড়া নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি রয়েছে। সে কমিটির নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী ভাড়া আদায়ের নিয়ম থাকলেও গাজীপুরেৱ বেশির ভাগ বাসেই সে তালিকা নেই। ফলে যাত্রীদের কাছ থেকে ‘সিটিং সার্ভিস’-এর নামে চিটিং করে ইচ্ছামতো পকেট কাটা হচ্ছে।

এমনকি তারা ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য ভাড়া আদায় করছে ২০ টাকা! স্কাইলাইন, প্রভাতী বনশ্রী, ভিআইপি-২৭, বলাকা সার্ভিস,সুপ্রভাত, আজমেরী,অনাবিলসহ এ ধরনের বেশ কয়েকটি স্পেশাল, গেটলক, সিটিং সার্ভিস বাসগুলোৱ যাত্রীদেৱ কাছ থেকে গলাকাটা ভাড়া আদায় করছে যেন যাত্রীদেৱ স্বার্থ দেখার যেন কেউ নেই। এসব বাসেৱ একাধিক যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, গাজীপুৱ থেকে ঢাকা গন্তব্যে চলাচলরত সিটিং সার্ভিসগুলোতে ওঠামাত্রই ২০ টাকা ভাড়া আদায় করছে। ১৫ টাকার নিচে কোনো ভাড়া নেই এমন ঘোষণা দিয়েই তারা রাজপথে প্রকাশ্যে এমন বেআইনি কার্যকলাপ চালাচ্ছে। গাজীপুরা কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্ধা টংগী সৱকাৱী কলেজেৱ ছাত্র আৱাফাত হোসেন (২০) জানান,গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড থেকে  ছেড়ে যাওয়া সুপ্রভাত সার্ভিসগুলো গাজীপুৱা থেকে কলেজগেট ১ কিঃ মিঃ দুরত্বেৱ ৱাস্তা তবুও ১০ টাকা আদায় করছে।

সরেজমিনে এই প্রতিবেদক সম্প্রতি যাত্রীবেশে চান্দনা চৌৱাস্তা থেকে বোর্ডবাজার যাবার জন্য বলাকা সার্ভিস নামক একটি বাসে উঠে, ৫ কিঃমিঃ এৱ মত দুরত্ব রাস্তার ভাড়া চাইলো ২০ টাকা। এর এক পয়সাও কম ভাড়া দেওয়া যাবে না,কন্ডাক্টর এমন হাঁক দিলেন। চৌরাস্তা থেকে বোর্ডবাজার দূরত্ব মাত্র ৫ কিলোমিটারের বেশি নয়। এত স্বল্প দূরত্বের ভাড়া ২০ টাকা কেন? কন্ডাক্টর এর কোনো সদুত্তর না দিয়ে বলল, কোম্পানির দেওয়া তালিকা অনুযায়ীই ভাড়া নেওয়া হয়, যা বলার আপনি কোম্পানিকে বলবেন। বিআরটিএর ভাড়া নির্ধারণ কমিটির স্বাক্ষর করা ভাড়ার তালিকা কোথায় প্রশ্ন করলে কন্ডাক্টর বলল, ‘সেটা গিয়ে কমিটিওয়ালাদের জিজ্ঞেস করেন। বাসে অনেক যাত্রী রয়েছে। আপনি শুধু শুধু গায়ে পড়ে ঝগড়া করছেন কেন?’ গাজীপুর থেকে আজিমপুর চলাচলরত ভিআইপি ২৭, সার্ভিসের অবস্থা আরো ভয়াবহ। কিলোমিটাৱ হিসেবে নয়, তাদের গাড়িতে উঠলেই ৩০ টাকা ভাড়া দিতে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিএর একজন কর্মকর্তা জানান, সিটিং সার্ভিসেৱ অন্তরালে নিজেদের মতো করে ভাড়া নির্ধারণ কিংবা ভাড়া আদায় করা সম্পূর্ণ বেআইনি। বিআরটিএর ভাড়া নির্ধারণ কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে এক পয়সা বেশি আদায় করা দণ্ডনীয় অপরাধ। আর সে জন্য বিআরটিএর নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন। যাঁরা নিয়মনীতি অমান্যকারী বাস সার্ভিসগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবেন। কিন্তু বাস্তবে সেটা চোখে পড়ে না। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিআরটিএর ভাড়া নির্ধারণী কমিটির সদস্য খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘ভাড়া সঠিকভাবে আদায় হচ্ছে কি না তা দেখভালের দায়িত্ব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রের ও পুলিশের। এখানে বিআরটিএর করার কিছু নেই! সিটিং সার্ভিসের নৈরাজ্য বন্ধে আমরা এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’