দেখা মিলছে না কাঞ্চনজঙ্ঘা আফসোসে পর্যটকরা

প্রকাশিত

 

এস কে দোয়েল –
ফেসবুকের টাইমলাইন থেকে শুরু করে বিভিন্ন গ্রæপ ও পেজে এখন ট্রল হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা। দেশের একমাত্র উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড় হতেই সুস্পষ্ট কাছ থেকে দেখা মেলে পৃথিবীর সুউচ্চ এ দুই পর্বতশৃঙ্গ। চলতি মৌসুমে গত এক সপ্তাহ মেঘমুক্ত আকাশে হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হওয়ায় পর্যটকের ঢল নেমেছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে আসছেন সহ¯্র ভ্রমণ পিপাসু পর্যটক। কেউ আবহাওয়ার খবর নিয়ে আসছেন, কেউ খবর না নিয়েই আসছেন। এতে করে প্রচুর পর্যটকের সমাগমের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। এ সমাগমে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে হোটেল-রেস্তোরা, আবাসিক হোটেলগুলো। ব্যস্ত হয়ে উঠেছে তিন চাকার ভ্যান আর অটোরিকশার মতো যানগুলো। পঞ্চগড়ের বিভিন্ন স্পটে দেখা গেছে ভ্রমন পিপাসুদের ভীড়।

পর্যটকদের কেন এতো আগ্রহ কাঞ্চনজঙ্ঘা
ভারতের পাহাড়কন্যা দার্জিলিং, কাঞ্চনজঙ্ঘা আর নেপালের আকাশচুম্বী হিমালয় পর্বত দেখতে ভ্রমণ করেন হাজার হাজার পর্যটক। পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে সারা পৃথিবী থেকে সিকিম নেপাল ও পশ্চিমবঙ্গে ভীড় জমান। কাঞ্চনজঙ্ঘা মূলত হিমালয় পর্বতমালার পর্বতশৃঙ্গ। মাউন্ট এভারেস্ট ও কেটু’র পরে এটি পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ। যার উচ্চতা ২৮হাজার ১৬৯ ফুট বা ৮হাজার ৫৮৬ মিটার। ভারতের সিকিম রাজ্যের সঙ্গে নেপালের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে অবস্থিত নান্দনিক টুরিস্ট স্পট কাঞ্চনজঙ্ঘা। পশ্চিমবঙ্গের বহু জায়গা থেকেই দেখা যায় পাহাড়ের রানী কাঞ্চনজঙ্ঘা।

রঙ বদলায়, দৃষ্টি মোহিত করে
শুভ্র সাদা বরফে আচ্ছাদিত পর্বতমালা কাঞ্চনজঙ্ঘা। কাঞ্চনজঙ্ঘার ওপর সূর্যোদয়ের দিনের প্রথম সূর্যকিরণের সৌন্দর্যের ঝিলিক মারে। ভোরে উষার সময় কাঞ্চনজঙ্ঘার ওপর রোদ পড়ে সেই রোদ যেন ঠিকরে পড়ে দু’চোখে। দিনের স্বচ্ছ রৌদ্র আলোয় দেখা মেলে হিমালয়ের সর্বোচ্চ পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘার নানা রুপ। একই অঙ্গে অনেক রূপ এই কাঞ্চনজঙ্ঘার। প্রথমে কালচে, এরপর ক্রমান্বয়ে টুকটুকে লাল, কমলা, হলুদ এবং সাদা রং ধারণ করে।

কাছ হতে দেখা
যারা পাসপোর্টÑভিসার অভাবে নেপালের হিমালয় আর ভারতে সিকিমে কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড় দেখার সুযোগ হয় না। তাদের জন্য বিনা পাসপোর্ট ছাড়াই দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে খুব কাছ হতে দেখার সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন হয় না দূরবীন বা কোন বাইনোকুলারের। খালি চোখেই কাছ হতে দেখা যায় দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় আসলেই। প্রতিবেশী দেশ ভারত কাঁটাতারে ঘিরে রাখলেও সীমান্তক থেকে খুব কাছ হতেই দেখা যায় ভারতের পাহাড়কন্যা দার্জিলিং , কাঞ্চনজঙ্ঘা আর নেপালের আকাশচুম্বী হিমালয় পর্বত।

কেন এতো কাছে কাঞ্চনজঙ্ঘা :
রাজধানী থেকে পঞ্চগড়ের দূরত্ব ৫শ কিলোমিটার হলেও ভারতের সীমান্তের কোল হতে ভারতের সিকিমের দূরত্ব অতি কাছে। দেশের চারদেশীয় ব্যবসা ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর। এ বন্দর থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব মাত্র ১১ কিলোমিটার। নেপালের দূরত্ব মাত্র ৬১ কি.মি, এভারেষ্ট চূড়া ৭৫ কি:মি, ভূটান ৬৪ কি:মি:, চীন ২০০ কি:মি: ভারতীয় পশ্চিমবঙ্গে সমৃদ্ধ শহর শিলিগুড়ি ও শৈল্যশহর শহর দার্জিলিং। এ বন্দর হতে শিলিগুড়ির দূরত্ব মাত্র ৮ কিলোমিটার ও দার্জিলিংয়ের দূরত্ব ৫৪ কিলোমিটার। পাসপোর্ট-ভিসা থাকলে এ বন্দর দিয়ে ঘুরে আসা যাবে এসব দৃষ্টিনন্দিত পর্যটন স্পটগুলো।
কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপশৈর্য কাছ হতে দেখতে প্রতিদিন ছুটে আসছেন শতশত পর্যটক। মেঘমুক্ত নীল আকাশে উত্তর-পশ্চিম কোণে দৃশ্যমান হয়ে উঠা কাঞ্চনজঙ্ঘাকে দেখতে পেয়ে বিমোহিত হচ্ছেন। দেখছেন, ঘুরছেন, ছবি তুলছেন। প্রযুক্তির উৎকর্ষে ক্যামেরা ও স্মার্টফোনে ধারণ করা ছবি-ভিডিও সোস্যাল নেটওয়ার্ক ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোষ্ট ও শেয়ার করছেন। এভাবে যতো প্রচার বাড়ছে, ততোই আকৃষ্ট হয়ে প্রতিদিন পারি দিচ্ছেন ভ্রমণ পাগল পর্যটক।

গত এক সপ্তাহে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসা পর্যটকদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। কথা হয় মৌরি হাসান, তানিয়া হামিদ, কাশমিরা জাহান, নিশাত, লুবনা রহমান, আব্দুল্লাহ মাহমুদ, তাহসানের সাথে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ফেসবুকে জেনেছি, এই সময়টাতে তেঁতুলিয়া হতে কাছ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা ও হিমালয় দেখা যায়। তাই ছুটে এসেছি। কাছ হতে দেখতে পেয়ে খুব ভালো লেগেছে। মুগ্ধ হয়েছি। এছাড়াও এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও দর্শনীয় স্থানগুলোও মুগ্ধ করার মতো। সময় পেলে আবার ছুটে আসবো।

গত পাঁচদিন ধরে কুয়াশা ও মেঘের আবছা থাকায় দেখা যায়নি বহুল প্রত্যাশিত কাঞ্চনজঙ্ঘা। তাতে মন্দ ভাগ্য বলে কষ্ট পেয়েছেন অনেক ভ্রমণ পিপাসু। তারা আবহাওয়া বার্তা না জেনেই ছুটে এসেছেন তেঁতুলিয়া। গতকাল শুক্রবার ডাকবাংলোর পিকনিক কর্ণারে কথা হয় কায়সার মাহমুদ চঞ্চল, আরমান হোসাইন, আলীমুল হাসান, সিয়াম মাহমুদ, কাকলী আক্তারসহ বেশ কয়েকজন পর্যটক। তারা একরাশ হতাশা নিয়েই বলেন, আশা করে এসেছিলাম কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পাব বলে। কিন্তু কুয়াশা ও ঝাপসা থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পেলাম না। আগামী এক সপ্তাহেও দেখা যাবে না বলতে জানতে পারলাম। তবে এটা দেখতে না পেলেও এখানকার প্রকৃতি, চিত্তবিনোদনের পর্যটনস্পটগুলো মুগ্ধ করেছে।

কাঞ্চনজঙ্ঘা নিয়ে কথা হয় আলোকচিত্রী ফিরোজ আল সাবাহর সাথে। তিনি জানান, আমি ২০১০ সাল থেকে ডিজিটাল ক্যামেরায় কাঞ্চনজঙ্ঘার ছবি তুলে আসছি। এ অঞ্চলের সৌন্দর্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। তেঁতুলিয়া হতে ভারতের সিকিমে অবস্থিত শুভ্র বরফে আচ্ছাদিত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এখন প্রচুর পরিমাণে পর্যটক আসছে দেখে বেশ ভালো লাগছে। পর্যটন শিল্প অঞ্চল হিসেবে ঘোষনা করার দাবি এ আলোকচিত্রীর।

 

Be the first to write a comment.

Leave a Reply