দেলদুয়ারে যৌন নির্যাতনের শিকার মাদ্রাসা ছাত্রী একঘরে

প্রকাশিত

আরিফুল ইসলাম, টাঙ্গাইল:
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে প্রেম করে পরিবারের অমতে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করে স্বামী ও স্বামীর পরিবার কর্তৃক অমানসিক যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে অষ্টাদশী মাদ্রাসা ছাত্রী। ঘটনাটি উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের প্রয়াগজানী গ্রামের।
জানা যায়, ওই গ্রামের শাহজাহান মিয়ার দাখিল পাস ছাত্রী ফাতেমার এক বছর পূর্বে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে পার্শ্ববর্তী বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের মটরা গ্রামের সিদ্দিক ওরফে আলীর ছেলে রানা সিকদারের সঙ্গে। তিন মাস আগে তারা পরিবারের অমতে পালিয়ে আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ের ঘোষনা দেয়। এরপর স্ত্রীকে শ্বশুর বাড়ি রেখে চলে যায় রানা সিকদার। মাঝে মধ্যে এসে যোগাযোগ করলেও নিজ বাড়ি তুলতে রাজি ছিল না স্বামী রানা। পরে ৬ আগস্ট মাইক্রোবাস যোগে স্ত্রীকে বাড়ি নিয়ে যায়। এরপর ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় একটি ঘরে আটকিয়ে চাচা শ্বশুর শাহজাহান, ভাসুর রনি, স্বামী রানা, ননদ শিখা ফাতেমাকে অমানসিক যৌন নির্যাতন চালায়। এ নোংরা কাজে সহযোগিতা করে শ্বশুর সিদ্দিক, শাশুড়ী শাহনাজ ও খালা শাশুড়ী। পরে অজ্ঞান অবস্থায় ফাতেমার মুখ, হাত-পা বেঁধে রাত ৯টায় প্রয়াগজানী গ্রামের বাড়ির পাশে পাকা রাস্তায় ফেলে রেখে মোবাইল ফোনে ফাতেমার পরিবারকে জানায়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে তাকে সাতদিন চিকিৎসা দেয়া হয়। এঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে মামলা হয়েছে। এদিকে সমাজবিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগ এনে প্রয়াগজানী গ্রামের মাতবর খালেক মহাজন, সিরাজ উদ্দিন, কালাম, আলী আকবর, রাজমনি ফাতেমার পরিবারকে একঘরে করেছে বলে জানিয়েছেন তার বাবা-মা।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলী আজম জানান, ঘটনাটি সমাজবাসীর চোখে দৃষ্টিকটু হওয়ায় পরিবারটিকে একঘরে করেছে।
ডুবাইল ইউপি চেয়ারম্যান ইলিয়াস মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কোনো পরিবারকে একঘরে করার নিয়ম নেই।
প্রয়াগজানী গ্রামের মাতবর খালেক মহাজন বলেন, গ্রামে একটা ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি সমাজবাসীকে না জানানোয় তারা জুমা’র নামাজ শেষে ওই পরিবারের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ফাতেমার স্বামী রানা সিকদারের সঙ্গে তার ব্যবহৃত চারটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সবক’টিই বন্ধ পাওয়া যায়।