‘দেশের বাস্তবতা চিন্তা করতে হবে,’বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক :বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, আমাদের বিদ্যুৎ প্রয়োজন, তাই বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার বিশ্বের আধুনিক প্রযুক্তিগুলো গ্রহণ করে পরিকল্পনা করেছে ও পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে তুলনা না করে আমাদের দেশের বাস্তবতা চিন্তা করতে হবে।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি রুমে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

নসরুল হামিদ বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প গ্রহণের জন্য যতটুকু খোলা জমি দরকার সেটিও আমাদের পর্যাপ্ত নেই। তবে এটি নিয়ে আমরা কাজ করছি, গবেষণা করছি। বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও এ কাজে যুক্ত হতে পারে। গবেষণার জন্য তাদেরকে সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত। সম্মিলিত উদ্যোগে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা ও উন্নয়নে আমরা কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছি।

সভাপতির বক্তব্যে বাপার সহ-সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক বলেন, আমরা পরিবেশবান্ধব জ্বালানি চাই। দেশ ও জনগণের স্বার্থে সম্মিলিতভাবে আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। আমরা আশা করি, বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সরকার পরিবেশ ও জনবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

এর আগে সূচনা বক্তব্যে পাওয়ার সেলের প্রাক্তন মহাপরিচালক প্রকৌশলী রহমতুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির অপার সম্ভাবনা থাকা সত্বেও জীবাস্ম জ্বালানির দিকে ঝুঁকে পড়ছে সরকার। অথচ জীবাস্ম জ্বালানি পরিবেশ-মাটি-প্রকৃতিবান্ধব নয়। এ থেকে সরে এসে সারা বিশ্ব নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে আমাদের এগুতে হবে।

জ্বালানি সেলের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য একটি লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করেছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাতেও এটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এটি নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও গবেষণা হচ্ছে। যেসকল প্রতিবন্ধকতা রয়েছে সেটি সমাধান করে কীভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো যায় সে প্রচেষ্টা সরকার করে যাচ্ছে।

অধ্যাপক ড. ড্যানিয়েল এম ক্যামেন বলেন, ভারত, দুবাই, ব্রাজিল, অস্টেলিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বড় বড় সোলার প্রকল্প চালু হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন চিন্তা করতে হলে সৌর জ্বালানির ওপর অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশে এই সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল।

তিনি আরো বলেন, রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো ব্যয়বহুল কয়লাভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য যুক্তিহীন।

আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইমাম, বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্কের (বেন) এনার্জি প্যানেলের চেয়ারম্যান ড. আহমেদ বদরুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনার্জির পরিচালক এবং বাংলাদেশ সোলার এনার্জি সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক সাইফুল হক প্রমুখ।