দ্বিতীয় ইনিংসের সেঞ্চুরিকে এগিয়ে রাখলেন মুমিনুল

প্রকাশিত

ক্রীড়া প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম থেকে :চট্টগ্রাম টেস্টে ম্যাচ বাঁচানো দ্বিতীয় ইনিংসের সেঞ্চুরিকে এগিয়ে রেখেছেন মুমিনুল হক।

চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশকে পরাজয় চোখ রাঙানি দিচ্ছিল। ৭ উইকেট হাতে রেখে ১১৯ রানে পিছিয়ে থেকে পঞ্চম দিনের লড়াই শুরু করে বাংলাদেশ। মুমিনুলের নতুন সঙ্গী লিটন কুমার দাস। প্রথম ইনিংসে ১৭৬ রান করা মুমিনুল ছিলেন আত্মবিশ্বাসী, কিন্তু লিটন ছিলেন লাইমলাইটের পেছনে। কিন্তু প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তারা।

১৮০ রানের জুটি গড়ে শুধু ম্যাচ বাঁচাতেই বড় ভূমিকা রাখেননি তারা, চালকের আসনে নিয়ে এসেছিলেন দলকে। তাদের ব্যাটিংয়ে মনোবল হারায় শ্রীলঙ্কা। যেখান থেকে আর ফিরতে পারেনি চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা।

প্রথম ইনিংসে ১৭৬ রান করেও মুমিনুলের রানের ক্ষুধা কমেনি! তাই দ্বিতীয় ইনিংসেও ছুঁয়েছেন তিন অঙ্ক। প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরির রেকর্ডও গড়েছেন। ঢুকেছেন এলিট ক্লাবে। যেখানে রয়েছেন স্যার ডন ব্র্যাডম্যান, সুনীল গাভাস্কার ও জাভেদ মিঁয়াদাদের মতো কিংবদন্তিরা।

দুই সেঞ্চুরির কোনটিকে এগিয়ে রাখবেন মুমিনুল হক? মুমিনুল জানালেন, দ্বিতীয় ইনিংসে হাঁকানো সেঞ্চুরিটি তার কাছে বেশি মূল্যবান। সংবাদ সম্মেলনে কারণটাও বলেছেন, ‘দ্বিতীয় ইনিংসেরটা এগিয়ে রাখব। কারণ ওটা ম্যাচ বাঁচানো ইনিংস ছিল।’

ম্যাচ বাঁচানো সেঞ্চুরি করে কোনো উদযাপন করেননি। হেলমেট খুলে ব্যাট উঁচিয়ে অভিবাদনের জবাব দিয়েছেন। অথচ প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করে কী খ্যাপাটে উদযাপনই না করেছিলেন! দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরির পর উদযাপন না করার কারণ জানাতে গিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়া মুমিনুল বলেন, ‘আসলে ওই রকমভাবে চিন্তা ভাবনা করিনি। দ্বিতীয় ইনিংসটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আসলে আপনি যে প্রশ্ন করলেন, এর উত্তর আমার কাছে নাই (হাসি)।’

উত্তর না থাকলেও বার্তা পরিষ্কার ছিল মুমিনুলের। বিভিন্ন অজুহাতে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের গুডবুকে ছিলেন না মুমিনুল। তাকে দল থেকে বাদও দিয়েছিলেন প্রাক্তন কোচ। সেই চন্ডিকা হাথুরুসিংহের দলের বিপক্ষে প্রথম মুখোমুখিতেই মুমিনুলের জোড়া সেঞ্চুরি। সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য এসব বিষয় এড়িয়ে গেলেন বাংলাদেশের ‘ব্র্যাডম্যান, তকমা পাওয়া বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, ‘ওইরকম কোনো চিন্তা ভাবনা ছিল না। কোনো খেলোয়াড়ের পক্ষেই এরকম চিন্তা ভাবনা করা সম্ভব না যে, টার্গেট করে এটা-ওটা করব।’

পঞ্চম দিনে ভালো ব্যাটিং করে ম্যাচ ড্র করার রেকর্ড বাংলাদেশের খুব কমই আছে। পূর্বের পরিসংখ্যান বাংলাদেশের পক্ষে ছিল না। কিন্তু মুমিনুলের মহাকাব্যিক ইনিংসে বাংলাদেশ গৌরবের ড্র করে। তার জোড়া সেঞ্চুরি বড় আবেগের, অনেক ভালোবাসার। যে ভালোবাসায় সিক্ত পুরো বাংলাদেশ।