নওগাঁর সাপাহারে মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ তাহের উদ্দীনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

প্রকাশিত
সাপাহার (নওগাঁ)  সংবাদদাতা : নওগাঁর সাপাহার উপজেলার বর্ষীয়ান নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব ডা: তাহের উদ্দীন আহাম্মেদ (৯৭) কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টায় সদরের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রথম জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী আনুষ্ঠানিক ভাবে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সেলিম তরফদার, সাপাহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শামসুল আলম শাহ চৌধুরী, পোরশা উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আনোয়ারুল ইসলাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ্ব ওমর আলী, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামসুল আলম শাহ, তদন্ত (ওসি) মনির, সমাজসেবা অফিসার রেজওয়ানুল হক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নুরুল হক মাষ্টার, বনিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মতিউর রহমান সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক সহ এলাকার হাজার হাজার জনগসাধারণ। তাঁর পূর্বের গ্রামের বাড়ি পত্নীতলা উপজেলার মাহমুদপুরে জুম্মার নামাজের পর ২য় জানাযা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন  করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১:৪০ মিনিটে সদরের নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারনে শেষ নিশ্বাষ ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব ডা: তাহের উদ্দীন আহাম্মেদ।
ডা: তাহের উদ্দীন আহাম্মেদ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ছিলেন। সে সময় ছাত্র অবস্থায় ভাষা আন্দোলনেও যোগদান করেছিলেন। জম্মলগ্নথেকেই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে যোগদান করেছিলেন। ১৯৭৯ সালে সাপাহার থানা প্রতিষ্ঠায় তিনি অগ্রনী ভূমিকা রেখে ছিলেন। সে সময় উত্তর বঙ্গের তৎকালীন আওয়ামীলীগের জননেতা আঃ জলিল সাপাহারে এসে থানা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে ডা: তাহের উদ্দীনকে নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি তার জীবদ্দশায় সাপাহারে প্রথম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত করেন যা পরবর্তীতে জাতীয়করণ করা হয়। সাপাহারে তিনি একাধীক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, থানা সহ অসংখ্য জনহীতকর কর্মকান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি একজন সৎ রাজনিতীবিদ ও সাদা মনের মানুষও ছিলেন। শেষ জীবনে তিনি নওগাঁ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে নিযুক্ত ছিলেন। ডাঃ তাহের উদ্দীন আহম্মেদের বর্ণাঢ্য জীবনের সমাপ্তি ঘটায় সাপাহারবাসী একজন অবিভাবককে হারলেন। তার মৃত্যুতে বিকেল হতে মরহুমের বাসায় ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। ১৯২২ সালে তিনি ভারতের দক্ষিন দিনাজপুর জেলার তপন থানার শহর কুড়ী গ্রামে জম্মগ্রহণ করেন।