এবার জুতা নিক্ষেপ নওয়াজের মুখে

প্রকাশিত
ডেস্ক নিউজঃ পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফের পর এবার হামলার শিকার হলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। রবিবার লাহোরের একটি জনসভায় জুতা ছুড়ে মারা হয় তাকে। জুতাটি তার মুখ লক্ষ করে নিক্ষেপ করা হয়। তবে তা বাম কানে লাগে। খাজা আসিফের মতোই এক্ষেত্রেও একটি উগ্র ধর্মীয় সংগঠন এই হামলা চালায়।
জিও টিভি জানায়, এরপরেও নিজের বক্তব্য শেষ করেন তিনি। যদিও তা অনেকটাই কাটছাঁট করে ফেলেন। হামলাকারী জামিয়া নাইমিয়া সেমিনারির প্রাক্তন ছাত্র বলে জানিয়েছে পুলিশ। সভা চলাকালীন মঞ্চের সামনে এসে হঠাৎই জুতা ছুড়ে মারে সে।
নওয়াজ শরিফের দেহরক্ষীরা তাকে ধরে ফেলে এবং মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তবে তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে তিনি চান না বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে অন্য এক জনসভায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা  আসিফের মুখ কালো রং ছোড়ে মারে এক ব্যক্তি। পাঞ্জাব প্রদেশে শনিবার রাতের এই ঘটনায় ফয়েজ রসুল নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কট্টর ধর্মীয় ভাবাবেগের বশেই সে এই কাণ্ড ঘটায় বলে মনে করছে পুলিশ।
লাহোর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে শিয়ালকোটের একটি রাজনৈতিক জনসভায় বক্তৃতা রাখছিলেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই সময় লম্বা দাড়িওয়ালা এক ব্যক্তি মঞ্চের সামনে এগিয়ে গিয়ে খাজা আসিফের মুখ লক্ষ্য করে কালো রং ছুড়ে মারে। তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে জনসভায় উপস্থিত অন্যান্যরা। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর দায়ের করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মঞ্চের পেছনে গিয়ে মুখে রং পরিষ্কার করে ফিরে এসে নিজের বক্তব্য শেষ করেন  আসিফ। রাজনৈতিক শত্রুতার জেরে বিরোধীরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিরোধীরাই ওই ব্যক্তিকে টাকা দিয়ে এমন কাণ্ড করিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, ‘ওই লোকটাকে আমি চিনি না। মনে হচ্ছে, বিরোধীরা কিছু টাকাপয়সা দিয়ে লোকটাকে কালি ছেটাতে বলেছে। তবে লোকটাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। পুলিশকে বলব ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দিতে।’
পুলিশের দাবি, জেরায় রসুল তাদের জানিয়েছে, দেশের সংবিধানে নবী মুহাম্মদের (সা.) শেষ কথা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিল আসিফের দল। আর সেই প্রচেষ্টা শুধু তার নয়, লক্ষ লক্ষ পাকিস্তানির ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে। এই প্রতিবাদেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে কালি ছিটিয়েছেন তিনি।