‘নজিরবিহীন’ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমে

প্রকাশিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক-

দমকা বাতাস ও শুকনো অবস্থা আরও ভয়ঙ্কর করে তুলছে যুক্তরাষ্ট্রের দাবানলকে। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দেশটির পশ্চিমে ‘নজিরবিহীন’ দাবানল ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। ওরেগন অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা পাঁচটি ছোট শহর ধ্বংস করে দিয়েছেন দাবানল। সেখানে অনেকের মৃত্যুও হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে দমকা বাতাস ওরেগন ও ওয়াশিংটনের বড় অংশে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে দিচ্ছে। অথচ প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমের ঠাণ্ডা ও আর্দ্র জলবায়ুর কারণে এই অঞ্চলে এমন ঘটনা একেবারে বিরল।

ওরেগনের ডেট্রয়েট, ব্লু রিভার, ভিডা, ফিনিক্স ও ট্যালেন্ট শহর চষে বেড়িয়েছে আগুনের শিখা- বুধবার এ কথা বলেছেন গভর্নর কেট ব্রাউন। সেখানকার দক্ষিণাঞ্চলের মেডফোর্ডের অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। সংবাদ ব্রিফিংয়ে ব্রাউন বলেছেন, ‘আমাদের অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে দাবানলের কারণে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও সম্পদ হারানোর ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়া দাবানলে সান ফ্রান্সিসকো অদ্ভুত কমলা আভায় ঢাকা পড়েছে।

প্রায় ১০০টি দাবানল দেশের পশ্চিমে দেখা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় ২৮টি যেখানে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি পুড়ে ছাই। ধোঁয়ার মেঘ তৈরি হওয়ায় সান ফ্রান্সিসকো ঢাকা পড়েছে অদ্ভুত কমলা আভায়।

কোয়েন নিউজ জানিয়েছে, পোর্টল্যান্ডের ৬০ মাইল দক্ষিণে দাবানলে মারা গেছেন ১২ বছর বয়সী এক ছেলে ও তার দাদী। পুলিশ বলছে, ওকানোগোন কাউন্টিতে আগুন থেকে বাঁচার জন্য পালাতে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ ওয়াশিংটনের এক বছর বয়সী একটি শিশু ও তারা বাবা মা।

ওরেগনে অনিয়ন্ত্রিত আগুনের সঙ্গে না পেরে হাল ছেড়ে দিয়েছেন দমকল কর্মীরা। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের সরে যেতে ‘এখনই চলে যান’ আদেশ দিয়েছে, যার মানে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে কেবল কয়েকটি মিনিট আছে।

পোর্টল্যান্ডের দক্ষিণ পশ্চিমের শহর ডেট্রয়েট থেকে মাঝরাতে বাড়ি ছেড়েছেন জডি ইভান্স। টেলিভিশন স্টেশন নিউজ চ্যানেল ২১ কে তিনি বলেছেন, ‘মনে হয়েছে, নরকের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।’

প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর পশ্চিমের কর্মকর্তারা বলেছেন, এত বেশি বিধ্বংসী আগুনের সঙ্গে মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতা আগে তাদের হয়নি।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply