নরসিংদীতে লাগামহীন নিত্য পণ্যের বাজার ! বিপাকে সাধারণ মানুষ

প্রকাশিত

নরসিংদী প্রতিনিধি:
দেশে করোনা ভাইরাসের অজুহাতে নরসিংদী জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে বেড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। এই সুযোগে মজুদ করতে অনেকেই চাল, ডাল, পেঁয়াজ সহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হাট-বাজারগুলোতে ভীড় করছেন সাধারণ জনগণ। অপরদিকে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ীগণ। এতে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। আর বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার পরিদর্শনের কাজ চলছে।
শুক্রবার নরসিংদী বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ নারীরা ইজি বাইকে ২/৩টি করে চাউলের বস্তা তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা করোনায় ব্লক ডাউন হলে চাউল পাওয়া যাবেনা বা অতিরিক্ত দামে ক্রয় করতে হয়। তাই তারা ২৫ কেজি একটি চাউলের বস্তা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশী দামেই কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া পেয়াজের বাজারে গিয়ে লক্ষ্য করা গেছে একই চিত্র। যারা আগে এক থেকে দুই কেজি পেয়াজ ক্রয় করতেন তারা এখন ৪/৫ কেজি করে পেয়াজ ক্রয় করছেন। তাদেরও আশঙ্কা করোনায় ভবিষ্যতে দাম বৃদ্ধি পাবে পেয়াজের। আর এই সুযোগে বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরী করে পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতাগণ প্রতিকেজি ৫ থেকে ১০ টাকা বেশী বিক্রি করছেন।
পরদিন শনিবার জেলার বৃহত্তম পুটিয়া বাজারে গিয়ে দেখা গেছে সাধারণ জনগণের উপচেপড়া ভীড়। কারণ ভবিষ্যতের জন্য অতিরিক্ত পণ্য মজুদ করা। যাতে করোনায় সঙ্কট দেখা দিলেও তাদের কোনো সমস্যা না হয়।
বাজারে আসা কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিকেজি চাউল বিক্রি হচ্ছে ৫/৭ টাকা বেশী দরে। এছাড়া ২৫ কেজির এক বস্তা চাউলের দাম প্রকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ১শ থেকে ৩শত টাকা পর্যন্ত বেশী দামে। শুধু চাউল নয়, গত সপ্তাহে পেয়াজ কিনেছেন ৩০ থেকে ৩৫ টাকা আর এখন কিনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। আর এই বর্তমান সময়ে মাছ মাংস ও শাক-সবজ্বির বাজারেও কিছুটা উর্দ্ধগতি বলে জানান তারা।
বাজারে গত সপ্তাহ থেকে এ সপ্তাহে চাউলের বাজার কিছুটা বেশী থাকার কথা স্বীকার করে চাউল ব্যবসায়ী আব্দুল করিম জানান, গত সপ্তাহ থেকে প্রতিকেজি চাল ৫ থেকে ৭ টাকা বেশী ধরে বিক্রি করতে হচ্ছে। কেননা পাইকারী বাজার ২৫ কেজির এক বস্তা চাউল ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশী দিয়ে কিনে আনতে হয়।
এই অবস্থায় বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছে নরসিংদী জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ। প্রতিদিন জেলার হাটবাজার গুলোতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করার ফলে অর্থদণ্ড দেয়ায় নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে নিত্য পণ্যের দাম। এছাড়া নিয়মিত বাজার পরিদর্শন ও দ্রব্যমূল্য তদারকি ও পর্যবেক্ষন করছে জেলা পুলিশও।
বাজারের এই উর্দ্ধগতি বিষয়ে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার জানান, বর্তমানে করেনা ভাইরাইস পরিস্থিতিতে বাজারে যাতে করে দ্রব্যমূল্য হাতের নাগালে থাকে এবং সাধারণ জনগনের ক্রয়ক্ষমতার ভেতরে থাকে সেই লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত বাজার পরিদর্শনের পাশাপাশি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে যাচ্ছে। এতে জড়িমানা ও কারাদণ্ড উভয়ই দেয়া হচ্ছে।
এছাড়া বাজারে পর্যাপ্ত পরিমানে পণ্য মজুদ থাকা সত্ত্বেও বর্তমান করোনা ভাইরাসকে কেন্দ্র করে বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করার চেষ্টা করে আসছে। এমতাবস্থায় জেলা পুলিশের পাশাপাশি সকল থানা পুলিশ হাট-বাজার নিয়মিত পর্যবেক্ষন করছেন বলে জানালেন নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হাসান।
নরসিংদী জেলা প্রশাসনর পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসটি) ও করোনা ভাইরাস মনিটরিং সেলের আহবায়ক ইমরুল কায়েস জানান, করোনা ভাইরাসের অজুহাতে ব্যবসায়ীরা যাতে করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে সেই লক্ষ্যে নরসিংদী জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন এর নির্দেশনায় প্রশাসনের একাধিক ভ্রাম্যমান আদালতের পাশাপাশি সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে জেল ও জড়িমানা করে যাচ্ছে। ফলে বাজার অনেকটা নিয়ন্ত্রনে চলে আসছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসকে পুজি করে বাজারগুলোতে ব্যবসায়ীরা যাতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করতে না পার তার জন্য নিয়মিত পরিদর্শনের পাশাপাশি ভ্রাম্যমান আদালতের নিয়মিত তদারকী দাবী সাধারণ মানুষের।