নাক ধরে চলতে হয় শিক্ষার্থীসহ পথচারিদের মদনে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ পৌর সভার ডাস্টবিন

প্রকাশিত

মদন,নেত্রকোনা সংবাদদাতা: নেত্রকোনার মদন পৌর পৌরসভায় ডাস্টবিন না থাকায় একমাত্র মদন শহীদ স্বরনিকা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি পৌর সভার ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাসা বাড়ির একমাত্র ডাস্টবিন এ বিদ্যালয়টি। এতে শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের যাতায়তে দারুণ দূর্ভোগ ও পরিবেশ মারাত্বক দূষিত হচ্ছে। ফলে নাক ধরে চলাচল করতে হয় শিক্ষার্থীসহ পথচারিদের।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্কাস উদ্দিন গত ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ ইং তারিখে পরিবেশ অধিদপ্তর আগারগাঁও ঢাকাসহ বিভিন্ন দপ্তরের বিদ্যালয়ের খেলার মাঠকে পরিবেশ নষ্ট থেকে রক্ষার জন্য আবেদন করলেও এর কোন পদক্ষেপ নেয়নি পরিবেশ অধিদপ্তর। উক্ত বিদ্যালয়ে ৪০০ জন শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে। বিদ্যালয়টি শুধু ডাস্টবিন নয় এটি বর্তমানে গরু ছাগলের চারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। শুধু তাই নয় সুয়ারেজ লাইনের ময়লা মাঠের সাথে সংযোগ করে দেয়ার ফলে শিক্ষার্থী চাকুরীজীবি,কর্মচারী, হাসপাতালের রোগী ও এলাকাবাসী নাকে ধরে চলাচল করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বি ত বার্ষিক খেলাধুলা থেকে। এলাকাবাসী,বিদ্যালয়ের অভিভাবক শিক্ষকরা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন,ইউএনও অফিস ও উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রায় ১০০-২০০ মিটারের মধ্যে উপজেলা সদরের একমাত্র বালিকা বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটির করুন অবস্থা খুবই দুঃখজনক। জরুরী ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা। অপর দিকে উপজেলার কেন্দ্রীয় শাহী মসজিদ,প্রেস ক্লাব প্যাথলজির পেছনে ময়লা আবর্জনার স্তুপ গড়ে উঠায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এ নিয়ে উপজলো পরিষদের মাসকি সমন্বয় সভায় একাধকিবার আলোচনা হলেও কোন সুরাহা হয়নি। বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর অসি আক্তার, ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নুসাইবা উমির্, জানায়, ময়লা আর্বজনা থাকায় আমরা নাক বন্ধ করে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করি। খেলাধুলাও করতে পারি না। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে বলেছি। তবে স্যারেরা জানান আমাদের কিছুই করার নেই।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্কাস উদ্দিন বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার আমি মাসিক সমন্বয় সভা পৌর মেয়র ও পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করলেও কোন কাজ হচ্ছে না । শিশুদের কথা চিন্তা করে জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উর্ধ্বতন কতৃূপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তোতা মিয়া জানান,বিদ্যালয়ের মাঠটি ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করার শিশুরা খেলাধুলা থেকে বি ত হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে পরিবেশ অধিদপ্তরে একটি আবেদন করা হয়েছে। এর ফলেও কোন কাজের কাজ হচ্ছে না।
আওয়ামী লীগ নেতা ভুক্তভোগী ক্যাপ্টেন (অব) মন্জুরুল হক বলেন, আমি নিজেও এ ব্যাপারে ব্যাক্তিগত ভাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে কথা বলেছি এর পরেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
এ ব্যাপারে পৌর মেয়র আব্দুল হান্নান তালুকদার শামীম বলেন, আসলে বিষয়টি দুঃখ জনক, মহল্লার লোকজনকে আমি ডেকে ছিলাম বিদ্যালয়ের মাঠে না ফেলে ব্যাক্তিগত সুইপারের মাধ্যমে প্রতিদিনের ময়লা আবর্জনা সড়িয়ে নেওয়ার জন্য। তারা আমার ডাকে সাড়া দেয়নি। তবে বিষয়টি আমার নজরে আছে।

এ ব্যাপারে পরিবেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সাথে ০২৮১৮১৮০০ ও ০১৭১২-২৭৮১০৯নম্বরে ফোন করলে সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।