নিকলীতে আজ শশ্বান খোলা গণহত্যা দিবস

প্রকাশিত

হিমেল আহমেদ, নিকলী (কিশোরগঞ্জ) –

কিশোরগঞ্জে নিকলীতে আজ ২২ শে সেপ্টেম্বর শশ্বান খোলা গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের ২২শে সেপটেম্বার যখন মুক্তিকামী বাংলা মায়ের দামাল ছেলেদের স্বাধীনতা যুদ্বের তুমুল লড়াই। স¦াধীনতা অর্জনের মাত্র তিন মাস বাকী আজকের এই দিনে ,রচিত হয়েছিল একটি কাল রাতের । এ রাতেই নিকলীর সোয়াইজনী নদীর তীরে শশ্বান খোলায় পাক হানাদার কর্তৃক সংঘটিত হয়েছিল একটি গণহত্যা।এ গনহত্যার শিকার হয়েছিল সংখ্যালগু পরিবারের ৩৪জন নিরাপরাধ মানুষ।
ভয়াল ২২ শে সেপটে¤¦র বেলা প্রায় ২টা মধ্যাহ্ন ভোজের সময়। দামপাড়া বর্ম্নপাড়পয় ও টেকপাড়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী দোশর তৎকালীন চেয়ারম্যান টেকু মিয়া ও রূপে টেহার বাপ দামপাড়ার স্থানীয় কয়েক জন পাক দোশর দিয়ে খবর জানায়,গ্রামের সকল পুরুষ থানায় যেতে হবে ,কেন ? জনতে চাইলে পাক দোশররা জানায়,এ গ্রামের হিন্দু পরিবারদের পরিচয় পত্র(কার্ড) দেওয়া হবে যেন যুদ্বকালীন সময় নিরাপদে চলতে পারে।পূর্ব থেকে নদীঘাটে রাখা পাকসেনাদের নৌকায় ৩৯জন সংখ্যালগু গ্রামবাসী কে আটক করে নিকলী থানায় নিয়ে আসে, তাদের মধ্যে ১৪-১৫ বছর বয়সী চার কিশোর কে বসিয়ে রাখা হয়। পাকসেনাদের নি র্দেশে চলে অন্যদের উপর অমানবীক,পৈশাচিক নির্যাতন । ।তখন রাত ৮টা কি ৯টা নিকলীর গ্রামগুলিতে ঘুট-ঘুটে অন্ধকার ।চারিদিকে নীরব নি:স্তব্দ ,যুদ্বাতংক ,আলোবিহীন গ্রামে ঝিঁ-ঝিঁ পোূূূূূূকার কলরব ।মাঝে-মধ্যো ূশিয়াল তাড়ানো কুকুরের থেমে-থেমে ঘেউ-ঘেউ শব্দ । ।
এ সময় গ্রামের সহজ সরল,খেটেখাওয়া লোকজন ,পরিবার পরিজন নিয়ে রাতের আহার শেষে নিদ্রায় যেতে ব্যাস্ত। ঠিক তখনই বেয়নট দিয়ে আহত করা ৩৫ জনকে রশির বাঁধনঅবস্থায় থানার অদূরে শশ্বান খোলায় নিয়ে যায়।কিছুক্ষন পরেই এক ঝাকগুলির শব্দ শুনতে পায় ,থানায় আটক ১৪ বছর বয়সী বাদলবর্মন সহ অন্যান্যরা। গুলির প্রচন্ড শব্দে আতংক ছড়িয়ে ছিল থানার পার্শবর্তী গ্রামের মানুষের মধ্যে। থানায় আটক চার কিশোর বুঝতে পেরেছিল যে সবাই কে হত্যা করা হয়েছে। ভয়াল সেই কাল রাতের বিভৎসতার কথা বলতে গিয়ে বার-বার কেঁদে উঠছিলেন গগহত্যা থেকে বেঁেচে যাওয়া কিশোর বাদল বর্মন(৬০)। পর দিন ২২ শে সেপ্টেম্বর হত্যাকান্ড থেকে আহত অবস্থায় বেঁচে যাওয়া কামীনি বর্মন ছাড়া ৩৪জনের মৃত দেহ , সকাল ৮টাÑ৯টার সময় থানা থেকে ৩ কি:মি: দুরে খরস্রোতা নদী, ঘোড়াউত্্রায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল।সে দিন মুক্তিপ্রাপ্ত চার কিশোরের দুইজন জীবিত বাদল বর্মন ও বাদল সূত্রধর । ঐ দিন তারা বাড়ী ফিরে দেখতে পান ২২শে সেপটেম্বর ঘটে যাওয়া পৈশাচিক তান্ডবের দৃশ্য। ঐ রাতে স্থানীয় রাজাকার ,আলবদর, আলশামস এর দোশররা প্রতিটি হিন্দু বাড়িতে লুটতরাজ সহ নারী ভোগে মেতে উঠেছিল। নির্যাতিত নারীদের আর্তচিৎকারে টেকপাড়া ও বর্মনপাড়ার বাতাস যেন ভারি হয়ে আসছিল বলে দীর্ঘশ্বাশ ফেলেন বাদল বর্মন।এ প্রতিনিধি কে তিনি আরও জানান স্বাধীনতার সাতচল্লিশ বছর পেরিয়ে গেলেও গনহত্যায় নিহতদের পরিবার শহীদ পরিবার হিসাবে স্বীকৃতি পায়নি ।অথছ মুক্তিযুদ্বে বিতর্কিত অনেকেই সম্মানী ভাতা পাচ্ছে কিন্তু গণহত্যায় নিহতদের অসহায় স্বজনদের খবর রাখেনা কেউ শুধু তাই নয়, এ দিবসটিকে যথাযথ পালন না করায় নতুন প্রজন্ম এদিবসটি সম্পর্কে কিছুই জানেনা । নিহতদের পরবিারের উদ্বোগে ২০১৫ সাল থেকে ্এ দিবসটি পালন করে আসেেছ।