নিজেকে বিজয়ী দাবি করলেন ইমরান খান

প্রকাশিত

ডেস্ক: ফল ঘোষণার আগেই পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে নিজেকে বিজয়ী দাবি করেছেন দেশটির সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

বিরোধীদের আনা কারচুপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। ঘোষণা দিয়েছেন, প্রয়োজনে ক্ষমতায় আসার পর এ নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করবেন।

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ২১ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ দেখিয়ে এখন পর্যন্ত সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেনি পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন সূত্রকে উদ্ধৃত করে পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, নির্বাচনি ফলাফল প্রেরণের যান্ত্রিক ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় এখন বিকল্প পদ্ধতিতে ফল একত্রিত করছে কমিশন। নির্বাচন কমিশন বলছে, ‘শিগগিরই’ চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে। পাকিস্তানের ৩৪২ আসনবিশিষ্ট জাতীয় পরিষদে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২৭২টি আসনে। বাকিগুলো সংরক্ষিত আসন। এরমধ্যে ৬০টি নারীদের জন্য ও বাকি ১০টি ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত।

বুধবার (২৫ জুলাই) ২৭২টি আসনে নির্বাচনের কথা থাকলেও দুটি আসনে ভোট স্থগিত করা হয়। নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে একটি দলকে কমপক্ষে ১৩৭টি আসনে জয় নিশ্চিত করতে হবে। এখন পর্যন্ত ৪৯ শতাংশ ভোট গণনার ভিত্তিতে পাওয়া কমিশন ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ১১৯টি আসনে এগিয়ে রয়েছে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ (পিটিআই)। পিএমএল-এন এগিয়ে রয়েছে ৫৯টিতে আর পিপিপি ৩৮টি আসনে।

চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগেই নিজেকে বিজয়ী দাবি করে ইমরান বলেন, ‘আমরা সফল হয়েছি, জনগণ আমাদের প্রতি তাদের রায় দিয়েছেন। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশন কোনও নির্দিষ্ট দলের নয়, সবার। যাদের অভিযোগ আছে আমাদের জানান। আমরা সম্মিলিত হয়ে অভিযোগ তদন্ত করব। আমার মতে, এটাই পাকিস্তানের সবচেয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ছিল। যারা কারচুপির অভিযোগ করছেন তাদের সঙ্গে নিয়েই আমি তদন্তে নামতে প্রস্তুত।’

পাকিস্তানে এমন সময় এই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন দুর্নীতির দায়ে আদালত কর্তৃক অযোগ্য ঘোষিত হয়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। লন্ডনের ফ্ল্যাট ক্রয় সংক্রান্ত এক দুর্নীতির মামলায় তার বিরুদ্ধে দণ্ড ঘোষিত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ইমরানকে পেছন থেকে মদত দিতে নওয়াজকে নির্বাচন পর্যন্ত কারাগারে রাখতে সে দেশের সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগ এক হয়ে কাজ করেছে। অভিযোগ উঠেছে,পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হয়েছে নওয়াজের পরিবারকে। অভিযোগের সমর্থন পাওয়া গেছে পাকিস্তান হাইকোর্টের এক বিচারকের কথায়। তিনি রবিবার (২২ জুলাই) বলেছিলেন, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বিচার বিভাগের কাজেও হস্তক্ষেপ করছে।

গ্যালাপ পাকিস্তানের জনমত জরিপকে উদ্ধৃত করে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, প্রায় ১০ কোটি ৬০ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ বুধবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ২০১৩ সালেও একইরকম পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল।