‘নিরপেক্ষ ও সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করার সৎ সাহস সরকারের নেই’

প্রকাশিত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, একটি নিরপেক্ষ ও সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করার সৎ সাহস সরকারের নেই। এখন পরাজয়ের আশঙ্কা সরকারের মনে কাজ করছে।

সোমবার (০৯ অক্টোবর) দুপু‌রে ঢাকা রি‌পোর্টার্স ইউনি‌টির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়ত‌নে এক প্রতিবাদ সভায় এ কথা বলেন তিনি।

গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার কিংবা যে কোনো গ্রহণযোগ্য সরকারের নিশ্চয়তা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাজপথে আন্দোলনের বিকল্প নেই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আর একতরফা নির্বাচন করতে পারবেন না। জনগণের আশা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচন করার যোগ্যতা শেখ হাসিনার নেই। কারণ তারা আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে পরাজিত হবে।

তিনি বলেন, এখন জনগণের মাঝে নির্বাচন নিয়ে কোনো উৎসাহ উদ্দীপনা নেই। কারণ তারা ভোট দিতে পারেনা। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হলে জনগণ সেই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে না। যেই নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনা, সেই নির্বাচনে বিএনপি যাবে কেনো? সুতরাং এখন নির্বাচন নয়। এখন একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত হচ্ছে শেখ হাসিনার পদত্যাগ। সরকারের পদত্যাগ নিশ্চিত হবে এবং সকল রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবীরা নির্বাচনকালী সহায়ক সরকারের ব্যাপারে ঐক্যমত হবে তারপর নির্বাচন। এর আগে নির্বাচন নিয়ে আর কোনো কথা নয়।

প্রধান বিচারপতিকে বাধ্য করে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা কোনো বিষয়বস্তু না, বিষয়বস্তু হলো বিচার বিভাগ। আওয়ামী লীগের লোকেরা অশ্রাব্য এবং অসংশোধনীয় ভাষায় গালাগালি করে, তাতে কি আদালত অবমাননা এবং মানহানি মামলা হয় না? প্রধান বিচারপতির এই ছুটির আগে এক মাসের ছুটি নিয়ে কিন্তু তিনি জাপান ও কানাডা সফর করেছেন। সেই ছুটির চিঠি কিন্তু আইনমন্ত্রী টেলিভিশনে দেখাননি।

তিনি বলেন, এবারের চিঠিতে পাঁচটি ভুল নিয়ে প্রধান বিচারপতি স্বাক্ষর করেছেন। আদৌ উনি কি স্বাক্ষর করেছেন? উনি (প্রধান বিচারপতি) অসুস্থ, কিন্তু কই গেলেন? ঢাকেশ্বরী, গেলেন অস্ট্রেলিয়ান এমবাসিতে (দূতাবাস), সরকারের ফরমায়েশ লোকেরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেন। কিন্তু আইনজীবীদের দেখা করতে দেওয়া হলো না। গোটা ব্যবস্থাটাই কিন্তু বিচার বিভাগের ওপর নগ্ন হামলা। তাহলে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব কোথায়? আর গণতন্ত্র শব্দটা বাদ দেন, সেটা কাগজে-কলমে আছে।

তিনি আরও বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায় তো সাতজন একসঙ্গেই ঐকমত্যের ভিত্তিতে একসঙ্গেই স্বাক্ষর করেছেন, এস কে সিনহার ছুটি নিতে হয়, বাকি ছয়জনও ছুটি নেন না কেন? এস কে সিনহার জন্য জ্বলে, বাকিদের জন্য জ্বলে না?

এসময় আরও উপ‌স্থিত ছি‌লেন বিএন‌পির গণ‌শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সে‌লিম ভূঁইয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, মো. আবদুল আউয়াল খান ও কাদের গণি চৌধুরী, কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মিজানুর রহমান প্রমুখ।

Be the first to write a comment.

Leave a Reply