‘নির্বাচন না করলে কিছু করার নেই,’প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রকাশিত

ডেস্ক রিপোর্ট :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নির্বাচন না করলে কারও কিছু করার নেই, গতবারও করেনি। নির্বাচনে যদি না আসে, তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। নির্বাচন সময় মতোই হবে।

সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ইতালি ও ভ্যাটিকান সফর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আপনারা কেউ কি বিএনপির গঠনতন্ত্র দেখেছেন? সেখানে দলীয় চেয়ারপাসনের অনুপস্থিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানকে ভারপ্রাপ্ত করার কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু যাকে করা হয়েছে তিনিও একজন ফেরারি আসামি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাকে যখন জেলে নিয়ে গেল আমি জিল্লুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করলাম। আমি আমার বোনকেও করিনি, ছেলেকেও করিনি। আর আমি কিছু বলতে চাই না। আমরা কিছু বললে তো অনেক দোষ।

খালেদা জিয়ার রায় এবং বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধন নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কোর্ট রায় দিয়েছে, আমাদের কিছু করার নেই। এরপরও দোষ আসে আমাদের ওপর।

দেশবাসীর তিন সুখবর
দেশবাসীর জন্য ‘তিন সুখবর’দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তথ্য প্রযুক্তির ‘ফোরজি’, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ’ও ‘কার্গো বিমানের ওপর ব্রিটেনের নিষেদ্ধাজ্ঞা প্রত্যাহার’-এ তিন সুখবর তিনি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ইতালি সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আজ থেকে ফোরজির যুগে প্রবেশ করেছি। আমরা ইতিমধ্যে ফোরজির নিলাম সম্পন্ন করেছি। আজ থেকে ফোরজির যুগে প্রবেশ করেছি।

এ সময় আগামী মার্চ মাসের কোনো এক সময় বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইট উৎক্ষেপণ হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন ব্রিটেন দীর্ঘদিন যাবৎ কার্গো পরিবহন নিষিদ্ধ করে রেখেছিল, এখন তারা তা তুলে নিয়েছে। এটাও আমাদের জন্য একটা সুখবর।

সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ছাড়াও বিভিন্ন মিডিয়ার সিনিয়র সাংবাদিক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ইতালি ও ভ্যাটিকান সিটিতে চারদিনের সরকারি সফর করেন। তিনি আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) প্রেসিডেন্ট গিলবার্ট এফ হংবো এর আমন্ত্রণে ইফাদের বার্ষিক পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী পোপ ফ্রান্সিসের আমন্ত্রণে ভ্যাটিকান সিটির হলি সি সফর করেন। তিনি পোপ ও ভ্যাটিকান সিটির সেক্রেটারি অব স্টেট কার্ডিনাল পিয়েত্র পারোলিনের সঙ্গেও বৈঠক করেন।