নেত্রকোনায় শিক্ষককে হত্যার দায়ে একজনের ফাঁসি

প্রকাশিত

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার মনাষ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজুর্ন বিশ্বাসকে (৪৫) প্রকাশ্য বিদালোকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার দায়ে মামলার প্রধান আসামি কালা চাঁনের (৪৪) বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ, ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অপর তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। নেত্রকোনার জেলা ও দায়রা জজ কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন। খালাসপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- মো. এমদাদুল হক হীরা ওরফে সাগর, জেড এ ফোয়াদ খান ওরফে বাবুল ও মো. ভাসানী ওরফে শহিদুল ইসলাম।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, জেলার বারহাট্টার মনাষ সরকারী বিদ্যালয়ের নামে সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত ৩০ হাজার টাকা কোন কাজ না করেই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ছয়গাও গ্রামের জেড এ ফোয়াদ খান বাবুল ভাগ ভাটোয়ারা করে নেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষক অর্জুন বিশ্বাসকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। প্রধান শিক্ষক টাকা দিতে অস্বীকার করায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য বাবুল ক্ষিপ্ত হন। গত ২০১৫ সালের ২ ডিসেম্বর সকালে প্রধান শিক্ষক নিজ বাড়ি উপজেলার রামপুর দশাল থেকে সহকারী শিক্ষিকা সাফিয়া সুলতানা সুমীকে সাথে নিয়ে মোটর সাইকেল যোগে বিদ্যালয় যাওয়ার পথে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা বাবুলের বড় ভাই কালা চাঁন তাদের পথরোধ করে প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো দা দিয়ে নৃসংশ ভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মায়া রানী বিশ্বাস বাদী হয়ে কালা চাঁন, এমদাদুল হক হীরা ওরফে সাগর, জেড এ ফোয়াদ খান ওরফে বাবুল ও মো. ভাসানী ওরফে শহিদুল ইসলামকে আসামি করে পরদিন ৩ ডিসেম্বর বারহাট্টা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারী আদালতে ৪ আসামির বিরুদ্ধেই চার্জশীট দাখিল করে। বিজ্ঞ বিচারক ১৬ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন করে আসামি কালা চাঁনের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদন্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং মামলার অপর তিন আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমানিত না হওয়ায় তাদেরকে বেকসুর খালাস প্রদানের আদেশ দেন।
সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পি পি (চলতি দায়িত্বে) অ্যাডভোকেট সাইফুল আলম প্রদীপ, আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন মানবেন্দ্র বিশ্বাস ও মাজহারুল ইসলাম খান।