নেত্রকোনা জেলার বেসরকারি এতিমখানা গুলোর চালচিত্র

প্রকাশিত

আসাদ তালুকদার:
নেত্রকোনা জেলার ৪০ টি বেসরকারী এতিমখানায় জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিবছর ৮৫০ জন এতিমকে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ১ কোটি ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়। অভিযোগ রয়েছে সঠিকভাবে বরাদ্দ পায় না প্রান্তিক পর্যায়ে থাকা এতিমরা। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, নেত্রকোনা সদরের রাবেয়া খাতুন বালিকা এতিমখানা (রেজিনং-০১৮০), কাগজেপত্রে এতিম থাকার কথা ৬৯ জন, বরাদ্দ পান ৮,২৮,০০০ টাকা, কিন্তু সরেজমিনে এতিম পাওয়া যায় ১০ জন, মদনে তালুককানাই কামরুন্নেৃসা রেজিনং-০২৬৮, এতিম থাকার কথা ১৬ জন, পাওয়া যায় ৫জন, বরাদ্দ ১,৯২,০০০ টাকা। দূর্গাপুরের জামিউল উলুম এতিমখানা (রেজিনং-০১৫৮) ক্যাপিটেশন গ্র্যান্টপ্রাপ্ত এতিম শিশুর সংখ্যা ৩২ জন, বরাদ্দকৃত অর্থ ৩,৮৪,০০০টাকা, কিন্তু পরিচালনাপর্ষদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে। গনমাধ্যমকর্মীরা সরেজমিনে এতিম শিশুদের তালিকা দেখতে চাইলে তারা কোন সঠিক তালিকা দেখাতে পারেননি। । মানবকল্যানকামী অনাথালয় (রেজি নং-০২১৬) এতিম সংখ্যা ৪৫, বরাদ্দকৃত অর্থ ৫,৪০,০০০ টাকা। এতিমখানাটির রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়মানুবর্তিতা চোখে পরার মত হলেও উল্লেখিত সংখ্যক এতিমদের সরেজমিন পরিদর্শনে পাওয়া যায়নি। কারণ হিসেবে জানানো হয় তারা ছুটিতে আছেন। কর্তৃপক্ষ জানান, পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাব রয়েছে। এথেল সেবা সদনের (রেজিনং-০৪২৩) সংখ্যা ২৬ জন, বরাদ্দকৃত অর্থ ৩,১২,০০০ টাকা। এতিমখানাটিতে এতিম নেই, নেই কোন সাইনবোর্ড। কলমাকান্দার দারুল উলুম শিশু কল্যান সংস্থা (রেজিনং-০৫১৮), এতিম থাকার কথা ২৪ জন, পাওয়া যায় মাত্র ৩ জনকে, এতিমদের খাওয়ার কোন ব্যাবস্থা নেই,থাকতে মাদ্রাসার শিশুদের সাথে গাদাগাদি করে। এতিমখানাটির পরিচালক মজিবর রহমান খন্দকার এতিমখানার বরাদ্দকৃত টাকা নিজের ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধে সহায় হয় বলে কথা প্রসঙ্গে অশপটে স্বীকার করেন। পাশাপশি যথেষ্ট স্বচ্ছল এই ব্যক্তি সরকারের বয়স্ক ভাতাও নেন। দাবি করেন এসব করছেন সরকারি অফিস আদালত ম্যানেজ করেই। কেন্দুয়ার সরাপাড়া হাফিজিয়া এতিমখানা (রেজিনং-০৬০২), এতিম থাকার কথা ১৮ জন, বরাদ্দ পায় ২, ১৬,০০০ টাকা। একজনও নেই সেই এতিমখানায়। খাওয়ার কোন ব্যাবস্থাও নেই। কলমাকান্দার উসমানিয়া এতিমখানা (রেজিনং-০৬৪৪), এতিম থাকার কথা ১০জন, বরাদ্দ পায় ১,২০,০০০ টাকা। আশ্চর্য হলেও সত্য, এতিমখানাটির ছাত্র-শিক্ষক কাগজেপত্রে থাকলেও বাস্তবে এটির কোন কার্যক্রম নেই, নেই একজন এতিমও। তারপরও বছরের পর বছর বরাদ্দ পান অফিস ম্যানেজ করে বলে জানান এর পরিচালক উসমান সাহেব। আল আমিন এতিমখানা (রেজিনং-০১৪৮) এতিম থাকার কথা ৫৫জন, বরাদ্দ ৬,৬০,০০০ টাকা, কিন্তু এতিম আছে মাত্র ২ জন, এতিমদের খাওয়ার কোন ব্যাবস্থা এতে নেই। এব্যাপারে নেত্রকোনা জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহ. পরিচালক আলাল উদ্দিন জানান, বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।
সব এতিমখানাইকি এমন? না, জেলা সদরের আফজালুল উলুম এতিমখানা, আল মাদ্রাসাতুল করমীয়া মাজহারুল উলুম এতিমখানা , মদনের হাজ¦ী ওয়াহেদ আলী এতিমখানা, কলমাকান্দার নাগনী চারিকুমপাড়া হাফিজিয়া এতিমখানা, দূর্গাপুরের কমরউদ্দিন মেমোরিয়াল এতিমখানা পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পেলেও এতিমদের দক্ষ জনশক্তি ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরন্তর সংগ্রাম করে যাচ্ছেন এগুলোর পরিচালনা পর্ষদ।
নেত্রকোনা জেলা সংবাদদাতা
আসাদ তালুকদার
০১৭৩৫-০৫১৪০৩