নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা রয়েছেন সভা সমাবেশে

প্রকাশিত

নিউজ নেত্রকোনা :নেত্রকোনার পূর্বধলা আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীদের ছবি সম্বলিত শুভেচ্ছা পোষ্টার ও বিভিন্ন রকমের ব্যনার, ফেস্টুন, তোরন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রাকৃতিক দূর্যোগ, সামাজিক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহন করছেন।। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে তৃনমূল থেকে শুরু করে দলের হাইকমান্ড পর্যন্ত সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে চলছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের লবিং তদবির। আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নেতা কর্মীরা উপজেলা সদর থেকে ইউনিয়ন ওয়াড পযন্ত সভা সমাবেশ ও নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে।গঠিত জাতীয় সংসদের ১৬১. নেত্রকোনা-৫ আসন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনী মাঠে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের হেভিয়েট প্রার্থী রয়েছেন তিনজন এর মধ্যে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন পূর্বধলা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি স্থানীয় এমপি ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল (বীরপ্রতিক)এর নেতা কর্মী সমর্তক ও সাধারন জনগকে নিয়ে রয়েছেন মাঠ পর্যায়। সাথে আছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন অন্যদিকে রয়েছেন আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের প্রধান সমন্বয়কারী পুলিশের সাবেক ডিআইজি মুহ আবদুল হাননান খান। তার সাথে আছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আইয়ুব আলী। । উপজেলা সদর থেকে ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায় প্রভাবশালী হিসাবে রয়েছেন।স্থানীয় সাংসদ সদস্য ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল (বীরপ্রতিক) এমপির সমর্থকরা।এলাকায় আহমদ হোসেনের সমর্থকরাও রয়েছেন মাঠে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পূর্বধলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এরশাদ হোসেন মালু। একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা কর্মী ও অনুসারীরা এলাকায় বিভিন্ন সভা সমাবেশে করছেন । অন্যদিকে বিএনপির দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির নেতা কর্মীরা উপজেলা সদর থেকে ইউনিয়ন ওয়াড পযন্ত নির্বচনী প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি ডা. মোহাম্মদ আলীকে পরাজিত করে ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল বীর প্রতিক এমপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫জানুয়ারী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে । বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল বীর প্রতিক দ্বিতীয় বারের মত এমপি নির্বাচিত হন।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছেন। ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল বলেন,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও জননেত্রী সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করেছি। এখন পূর্বধলা একটি মডেল উপজেলায় পরিনত হয়েছে।অপর প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমদ হোসেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে।দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে সভা, সমাবেশ, কর্মীসভা করে যাচ্ছেন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে।  সমর্থিত নারান্দিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে হিরনপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আহমদ হোসেন। ওই সভায় আহমদ হোসেন নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা দিয়ে দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। আওয়ামী লীগের অপর প্রার্থী মুহ. আবদুল হাননান খান। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন বড় ভাই মরহুম আবদুল ওয়াদুদ খানের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনে অংশ গ্রহন, কলেজ জীবনে ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলার গুরুদয়াল কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় হাবিবুর রহমান শিক্ষা কমিশন আন্দোলনে কিশোরগঞ্জ মহকুমার ছাত্র সংগ্রাম কমিটির সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব, ১৯৬১ সালে তৎকালীন স্পীকার ফজলুল কাদের চৌধুরীর জনসভায় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এরই ফলশ্রুতিতে কিশোরগঞ্জ থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। তিনি ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলা ‘‘বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা”র প্রধান তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা নিয়োগ পান। পলাতক আসামী মেজর হুদাকে ব্যাংকক থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারী ভাবে মনোনয়ন লাভ করেন। জেল হত্যা মামলা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলার তদন্ত, তদারকি অফিসার হিসাবে নিয়োগ পেয়ে ২০০০ সালে ঢাকা রেঞ্জের অতিঃ ডিআইজি হিসেবে কর্মরত থাকাবস্থায় চাকুরী শেষে অবসর গ্রহন করেন। তিনিও নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবে নিজের প্রার্থীতা ঘোষনা করেন।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছেন।সাবেক ছাত্রনেতা মিছবাহুজ্জামান চন্দনও নির্বাচনী মাঠে রেেছন।অপর দিকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যার্শীরা হলেন সাবেক এমপি মরহুম ডা. মোহাম্মদ আলীর সহধর্মীনি কেন্দ্রীয় বিএনপি কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রাবেয়া আলী, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক আবু তাহের তালুকদার, পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাবুল আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান তালুকদার, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এ.এস.এম শহীদুল্লাহ ইমরান, ড. আবদুল জলিল, লন্ডন প্রবাসী ব্যারিস্টার মওদুদ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন বড়ভাই মরহুম আবদুল ওয়াদুদ খানের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনে অংশ গ্রহন, কলেজ জীবনে ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলার গুরুদয়াল কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় হাবিবুর রহমান শিক্ষা কমিশন আন্দোলনে কিশোরগঞ্জ মহকুমার ছাত্র সংগ্রাম কমিটির সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব, ১৯৬১ সালে তৎকালীন স্পীকার ফজলুল কাদের চৌধুরীর জনসভায় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
বিএনপি ঃ এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রাবেয়া আলীর স্বামী মরহুম ডা. মোহাম্মদ আলী ছিলেন তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। একটি উপজেলাসহ পাঁচবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে বিএনপি নেত্রী রাবেয়া আলীর। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় নেত্রী অধ্যক্ষ রাবেয়া আলী এলাকায় ঘন ঘন আসা যাওয়া করছেরন। বিএনপির তৃনমূলে রাবেয়া আলীকে নিয়ে ব্যাপকভাবে প্রচারনা শুরু হয়েছে। বিএনপির অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক আবু তাহের তালুকদার দীর্ঘদিন যাবৎ ভোটের মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন। জেলা বিএনপির দলীয় কর্মসূচীতে আসছেন না। সাবেক ছাত্রনেতা আবু তাহেরের অনুসারীরা এলাকায় ব্যাপক জনসংযোগ করছেন। এ আসনে বিএনপির অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী ১/১১বিএনপির চরম সংকটময় মূহুর্তের ৮০ দশকের ১০১ কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ ফোরামের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, এফবিসিসিআইয়ের সদস্য, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এ কে এম আবদুল্লাহ ওরফে শরীফ আহমেদ। তিনি এলাকায় গনসংযোগসহ দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে সভা সমাবেশ করে যাচ্ছেন । এ আসনে বিএনপির তরুন মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক ছাত্রনেতা এ.এস.এম শহীদুল্লাহ ইমরানের এলাকায় ব্যাপক গ্রহনযোগ্যতা রয়েছে। তিনি এলাকায় ঘন ঘন আসছেন।
এ আসনে বিএনপির অপর সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান তালুকদার মরহুম মোহাম্মদ আলীর চাচাত ভাই। তিনি বিগত উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তীব্র প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন। বিগত ৩বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাইদুর রহমান তালুকদার দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। অতীতে চাচাত ভাই ডা. মোহাম্মদ আলীর সাথে এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাইদুর রহমান তালুকদারের প্রচন্ড বিরোধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে ভাবীর নেতৃত্বের সাথে সাইদুরের কোন মতবিরোধ নেই। তালুকদার পরিবার থেকে শেষ পর্যন্ত একজন দলীয় প্রার্থী হলে ভোটের মাঠে চমকের সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন তৃনমূলের বিএনপির নেতাকর্মীরা। জাতীয় পার্টি ঃ এ আসনে জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হিসেবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন উপজেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার আজাদ। তিনি দলীয় কর্মী সমর্থকদের সাথে নিয়ে ব্যাপক প্রচারনা শুরু করেছেন।