নোবেলের লুকিয়ে তিন নম্বর বিয়ে ! অত্যাচারে মুখ খুললেন স্ত্রী মেহরুবা

প্রকাশিত

তুহিন সারোয়ার-

এক দিকে নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। আর এক দিকে ‘সারেগামাপা’ খ্যাত গায়ক নোবেল-কে নিয়ে ওপার বাংলায় বিতর্ক যেন থামছে না। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আলটপকা কথা বলার জন্য বিস্তর শোরগোল হয় দুই বাংলাতেই। কাঁটাতার পেরিয়ে বিতর্কের রেশ ছড়িয়ে পড়ে ত্রিপুরাতেও। মামলাও রুজু করা হয়েছে এই গায়কের বিরুদ্ধে। এরই মাঝে আবার নতুন বিতর্ক নোবেল-কে ঘিরে। অভিযোগ, তিন নম্বর বিয়েটি গোপনে করেছেন নোবেল। শুধু তাই নয়। তৃতীয় স্ত্রী-কে বেধড়ক মারধর করেন বলে আরও অভিযোগ।
কিছু দিন আগের জোর গুঞ্জন, গত নভেম্বরেই গোপনে বিয়ে সেরে ফেলেছেন গায়ক নোবেল! কিন্তু বিয়ের মতো এমন এক শুভ পরিণয়ের খবর গোপন কেন? অভিযোগ, এটি নোবেলের তিন নম্বর বিয়ে। এমনকী বিয়ের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটও সামনে এসেছে। যেখানে পরিষ্কার ভাবে লেখা রয়েছে, ৫ লক্ষ টাকা পণ নিয়ে ২০১৯-এর ১৫ নভেম্বর মেহরুবা সালসাবিল-কে বিয়ে করেন মঈনুল হাসান নোবেল।
ঈদের আগেই স্ত্রী সালসাবিল-কে নিয়ে  খিলগাঁও-তে এক আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াতের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন নোবেল। আর সেখান থেকেই প্রথম আলো-কে দেওয়া একটি টেলিফোনিক সাক্ষাৎকারে তৃতীয় বিয়ে সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন এই গায়ক। তাঁর কথায়, “প্রেম করে বিয়ে করেছি। পরিচয় হওয়ার পর আড়াই মাস প্রেম করেছি। একটা সময় আমরা দুজন সিদ্ধান্ত নিলাম বিয়ে করব। করে ফেলেছি।”
‘প্রথম আলো’-কে জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারের সবাই এই বিয়ের বিষয়টি জানত। নোবেলের মা, বাবা, মামা এবং কাকা বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের দিন হাজিরও ছিলেন সেখানে। কিন্তু মেয়ের বাড়ির কেউ কিছুই জানত না। নোবেল বললেন, “বলতে পারেন, মেয়ে পালিয়ে বিয়ে করেছে। আমি পারিবারিকভাবেই করেছি।” যদিও তাঁর বিয়ের একমাস পরই শ্বশুরবাড়িতে সব কিছুই জানাজানি হয়। পরবর্তীতে তাঁরা এই বিয়ে মেনে নেন বলেও জানিয়েছেন নোবেল।

তাহলে বাকি সব বিয়ে স্রেফ গুজব?

প্রথম আলো-কে সেই সাক্ষাৎকারে নোবেল বলছিলেন, তাঁর জীবনে সম্পর্ক অনেক হয়েছে। কিন্তু বিয়ে তিনি একবারই করেছেন। স্ত্রী সালসাবিলকে নিয়ে এই মুহূর্তে ঢাকার নিকেতনে থাকেন বলেও স্বীকার করে নিয়েছেন গায়ক। নোবেলের কথায়, “আমার সঙ্গে এর আগে কোনও মেয়ের বিয়ে হয়নি। তবে আমার সঙ্গে অনেক মেয়ের রিলেশন ছিল। এত মেয়ের রিলেশন ছিল যে গুনে শেষ করা যাবে না। আর বয়সের কারণে এটা হয়ই। বিয়ের আগে সবার জীবনে এমন প্রেম থাকেই। কারও কম, কারও বেশি। আমার একটু বেশিই ছিল। এ অবস্থায় এখন যদি বলা হয় এটি আমার তৃতীয় বিয়ে, ঠিক নয়। তৃতীয় বিয়ের খবরটি গুজব, বিভ্রান্তিকর।”

নোবেলের জন্মস্থান বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে। স্থানীয় একটি মিডিয়াকে নোবেলের এক বন্ধু জানিয়েছেন, স্কুলে পড়ার সময় থেকেই নারীকেন্দ্রিক একাধিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন ‘গুণধর’ গায়ক। এমনকী সে সময়ে জল এতদূর গড়িয়েছিল যে, স্বর্ণকলি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। তারপরই আর গোপালগঞ্জে নোবেলের দেখা মেলেনি বলে জানালেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গায়কের সেই বন্ধু।
স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এর আগে রিমি নামক এক যুবতীর সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলেন বাংলাদেশি গায়ক। কিন্তু গায়কের বিরুদ্ধে বারবারই গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ তুলে রিমি নামের সেই মহিলাই পরবর্তীতে ডিভোর্স দিয়েছিলেন নোবেলকে। এরপরও এক আত্মীয়াকে নোবেল বিয়ে করেন বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়। কিন্তু সেই সম্পর্কও ভেঙে গিয়েছিল বলে বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে খবর হয় এক সময়ে।

নোবেলের এই স্ত্রী-কে মারধরের বিষয়টি নিয়েই এবার সরব হয়েছেন সমাজকর্মী অমি রহমান পিয়াল। তাঁর দাবি, আগের দুই স্ত্রী-র মতোই তৃতীয় স্ত্রীকেও বেধড়ক মারধর করেন নোবেল। সোশ্যাল পোস্টে পিয়াল লিখেছেন, “এই তো সপ্তাহ দুয়েক আগেই নিজের মা-বোনকে গভীর রাতে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন নোবেল। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামালায়। আর স্ত্রী? তাঁর কী অবস্থা? জি বাংলার সেলিব্রিটির প্রেমে পড়ে পরিবারের কাছে সম্পর্ক চুকিয়ে দিয়ে এল ওই যুবতী। তাঁকে নিয়ম করে তিনবেলা মারধর করে বাংলাদেশের সুপারস্টার সিঙ্গার। মানুষ যেমন তিন বেলা খাবার খায়, আমাদের গায়ক তিন বেলা স্ত্রীকে মারে।”