নড়াইলের লোহাগড়ার ইউপি চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা

প্রকাশিত
লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা : নড়াইলের লোহাগড়ার দিঘলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও  আওয়ামীলীগ নেতা লতিফুর রহমান পলাশ(৫১)কে  কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা ৩০ এর দিকে এঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হল রুমে বৃহস্পতিবার সকালে হাটবাজার ইজারা সংক্রান্ত কমিটির সভাসহ কয়েকটি সভা ছিল। প্রথমে হাটবাজার-বালুমহল ইজারা সংক্রান্ত কমিটির সভা শেষ হলে কয়েকজন চেয়ারম্যান উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস রুমে চা-নাস্তা খাচ্ছিলেন। দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা লতিফুর রহমান পলাশ নিজেও তাদের সাথে বসে নাস্তা করছিলেন। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য লতিফুর রহমান পলাশ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ব্যাংকে যাবার কথা বলে বের হন। নিজ ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর বুলু কাজীকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান পলাশ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসের সামান্য দূরে পাকা রাস্তার মোড়দিয়ে বের হবার সময় অস্ত্রধারী দূর্বৃত্তরা হঠাৎ চেয়ারম্যানকে লক্ষ করে গুলি ছোড়ে। চেয়ারম্যান মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলে দুর্বৃত্তরা আরো গুলি করে এবং কুপিয়ে জখম করে। দুর্বৃত্তরা মেম্বর বুলু কাজীকে ভয় দেখালে বুলু কাজী পালিয়ে গিয়ে লোকজনদের ডাকতে শুরু করে। এসময় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে দ্রুত লোহাগড়া হাসপাতালে আনবার পথে চেয়ারম্যানের মৃত্য হয়। এলাকার লোকজন জানায়,তারা পরপর দুটি গুলির শব্দ শুনেছে। ঘটনার পর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সিকদার আব্দুল হান্নান রুনুর নেতৃত্বে শহরে প্রতিবাদ মিছিল বের হয়।
লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, খুনের কারণ এখনো যানা যায়নি। লাশের ময়না তদন্ত নড়াইল সদর হাসপাতালে সম্পন্ন হবে। লাশের শরীরে একাধিক গুলি ও কোপের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পর লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন দ্রুত হাসপাতালে যান। লোহাগড়া হাসপাতালের দায়িত্বরত জরুরী বিভাগের ডাক্তার দেবাশীষ জানান, হাসপাতালে আনার পূর্বেই চেয়ারম্যানের মৃত্য হয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতালে চেয়ারম্যানের আত্মীয়স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।