পটুয়াখালীতে চিকিৎসা না পেয়ে স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু বিক্ষুদ্ধ সহপাঠীদের হাসপাতাল ভাংচুর,পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন

প্রকাশিত

সুজয় চক্রবর্ত্তী,পটুয়াখালী-
পটুয়াখালীতে ডাক্তারের অবহেলায় ফারদিন খান অভি নামে এক স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতের সহপাঠিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভাংচুর চালিয়েছে । পরে পুলিশ ঘটনাস্থালে পৌছে পরিস্থতিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। এদিকে ডাক্তার সঠিক সময় চিকিৎসা না করায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে। তারা দোষী ডাক্তারের বিচারের দাবী জানায়। নিহত ফারদনি খান অভি পটুয়াখালী সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রভাতী শাখার দশম শ্রেণীর ছাত্র। পৌর শহরের কাঠপট্টী এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের দুই ছেলের মধ্যে অভি বড়। সে ক্লাসে ফাষ্ট বয় ছিলো।
নিহত অভির মা মমতাজ বেগম এবং পিতা মোঃ আনোয়ার খান জানায়, সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে অভিকে অচেতন অবস্থায় পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসেন তারা। এ সময় কর্তব্যরত ডাক্তারকে জানানো হয় অভি বিষ জাতীয় কিছু পান করেছে। এ সময় জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত ডাক্তার আনোয়ারর উল্যাহ শুধুমাত্র অভির প্রেসার মেপে বরিশাল নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। অভির সাথে থাকা স্বজনরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু ডাক্তার তাতে রাজি না হয়ে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেয়। এরপর অভিকে অভিভাবকরা ওয়ার্ডে নিয়ে দায়িত্বরত নার্সকে ব্যবস্থাপত্র দেখালে নার্স ঔষধ আনার জন্য বলেন। রাত ৮টার পরে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ এবং হাসাপাতালের মেডিসিন বিভাগে ডাক্তার মাজহারুল ইসলাম প্রশিক্ষনরত ডাক্তারদের নিয়ে ওয়ার্ডে আসলে অভির স্বজনরা তাকে দেখার জন্য অনুরোধ করেন। এসময় ডাক্তার মাজহারুল ইসলাম অভির হাত দেখে সুস্থ্য আছে বলে জানায়। কিন্তু স্বজনরা আশংকা বোধ করলে ডাক্তারকে পুনরায় অনুরোধ করেন। কিন্তু এটা মাজহারুল ইসলামের দায়িত্ব নয়,এখন তার ক্লাস চলছে,বলে স্বজনদের জানিয়ে ওয়ার্ড থেকে বেড় হয়ে যায়। পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্স অভির নারী স্পন্দন না পেয়ে জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত ডাক্তার তারেক হাসানকে নিয়ে আসে। এসময় ডাক্তার তারেক হাসান জানায় অভির মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে অভির মৃত্যু হয়ে এমন খবর শুনে হাসপাতালে উপস্থিত সহপাঠিরা হাসপাতালের দরজা-জানালার গ্লাস ভাংচুর করে। বিচারের দাবীতে বিক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান এবং মোঃ জসিম উদ্দিনসহ পুলিশের কয়েকটি দল ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। নিহতের স্বজনের কর্তব্যরত ডাক্তারের বিচারের দাবি জানায়।
পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো: আলাউদ্দীন হাসপাতালে উপস্থিত সাংবাদিকরেদ জানান,অভির অকাল মৃত্যুতে তারা সবাই শোকাহত। স্কুলের অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থীর এ মৃত্যু মেনে নেয়া কষ্ট কর। সঠিক তদান্তের মাধ্যমে এ হত্যা কান্ডের বিচার দাবী করেন তিনি।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মাহফুজুর রহমান জানান, অভির মৃত্যুতে কোন রকম গাফেলতি প্রমান হলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যাবস্থা নেয়া হবে। তবে পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে হাসপাতাল চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।