পরকীয়া নাটক সাজিয়ে রাতভর প্রবাসীর স্ত্রীকে নির্যাতন

প্রকাশিত

কুমিল্লা দাউদকান্দি উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের বেকিসাত পাড়া গ্রামে পরকীয়ার নাটক সাজিয়ে সামাজিক বিচারের নামে জনসম্মুখে আসমা আক্তার নামে চার সন্তানের মা এক প্রবাসীর স্ত্রীকে পিটিয়ে পুরা শরীর থেঁতলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় নির্যাতিতা আসমার বোন নারগিস আক্তার বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আসামি প্রবাসী কবিরের ভাই সাইফুল ও একই গ্রামের মৃত আবুল হাসেমের ছেলে বাবুলকে গ্রেফতার করে।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- একই গ্রামের বারেক মিয়ার ছেলে মোস্তাক, মোবারকের ছেলে মিন্টু ও নির্যাতিতা আসমার জা শিল্পী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী কবির হোসেনের স্ত্রী আসমা আক্তার ৪ সন্তানের জননী। নির্যাতিতার এক ছেলে হাফেজ। আরেক ছেলেও মাদ্রাসায় পড়ে। অন্য দু’জনের একজন কেজিতে পরে। আরেকজনের বয়স ৪ বছর। গত ৩১ জুলাই রাত ১০টার দিকে ‘পরকীয়ায় জড়িত’ থাকার অভিযোগে পার্শ্ববর্তী বারপাড়া গ্রামের আলম নামে এক ব্যক্তিকে ডেকে এনে জোর করে আসমার ঘরে আটকে রাখা হয়।

অভিযোগ, আটককৃত ওই দু’জনের ওপর রাতে দফায় দফায় নির্যাতন চালায় প্রবাসী কবিরের ভাই সাইফুল, বাবুল, মিন্টু, মোস্তাক ও অপর এক ভাই খোকনের স্ত্রী শিল্পী। পরের দিন সকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন তালুকদারের উপস্থিতিতে সামাজিক বিচারের আয়োজন করা হয়। এ সময় সালিশে প্রতিবেশী মিন্টু মাতব্বরদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লাঠি নিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় আসমার উপর নির্যাতন চালানো হয়। এছাড়াও ব্যাপক মারধর করা হয় পাশের গ্রামের আটক আলমকেও।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন তালুকদার গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি তাদের পারিবারিক ষড়যন্ত্রের অংশ। প্রবাসী কবিরের চার ভাই ও এক ভাবি মিলে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিচারের উদ্দেশ্যে ওইদিন সকালে বৈঠক শুরুর পর হঠাৎ করেই কবিরের এক ভাই এসে আসমাকে মারধরের নির্দেশ দিতে থাকে। পরে আমার ইউনিয়নের তিনজন সদস্য ও আশপাশের লোকজন মিলে আহত দু’জনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠায় এবং আমি আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেই।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ ঘটনার প্রধান আসামি সাইফুলসহ অপর আসামি বাবুলকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। শীঘ্রই তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।