পাবনায় করোনা সংক্রমণ বাড়ছে :২জনের মৃত্যু সংক্রমণের হার ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ

প্রকাশিত

 

পাবনা প্রতিনিধি- : সারাদেশের মতো পাবনায় হঠাৎ করেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দুইজন রোগীর মৃত্যুসহ করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৮৮ জন। বুধবার দুপুরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজন রোগী মৃত্যুবরণ করেন। এরা হলেন সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের স‚র্য সরকারের ছেলে আব্দুর রশিদ সরকার (৫০) এবং শহরের আরিফপুর মহল­ার আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে ইয়াসমিন আক্তার (৩৮)। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা.আইয়ুব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মহামারির প্রথম থেকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও গতকাল বুধবার এই সংক্রমন ছিল ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এর আগে গত সোমবার ছিল ১৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। পাবনা জেলার নয় উপজেলার মধ্যে ঈশ্বরদী উপজেলায় করোনা সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি হলেও কেপিআই জোন হওয়ায় ঈশ্বরদী নিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। করোনা সংক্রমণ আকস্মিকভাবে বেড়ে গেলেও জেলার করোনা চিকিৎসা সেবার এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি।
পাবনা জেলার সিভিল সার্জন ডা. মনিসর চৌধুরী বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় মোট ৬৫৯ টি নমুনা পরীক্ষায় ৮৮ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।’ গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণের হার ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ বলে জানান তিনি। যা এখন পর্যন্ত পাবনায় সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ড। তিনি জানান, করোনা সংক্রমণ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ায় এবং বিভিন্ন এলাকায় মানুষের নির্বিঘেœ চলাচলের ফলে পাবনাতেও করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে।
পাবনা জেলা সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী জানাগেছে, এ পর্যন্ত পাবনা জেলায় তিন হাজার ৭শ’ ৮৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সর্বমোট শনাক্তের হার ৪ দশমিক ২৭ শতাংশ হলেও, গত সাত দিনের শনাক্তের হার ৭ দশমিক শূন্য ৪৭ শতাংশ বলে জানায় স্বাস্থ্য বিভাগ। পাবনায় শনাক্ত বেশীরভাগই ঈশ্বরদী উপজেলার রোগী বলে জানান সিভিল সার্জন। তিনি বলেন, ‘ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ শ্রমিকের অবাধ চলাচলের ফলে ঈশ্বরদীতে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে জেলার সার্বিক করোনা সংক্রমণে।’ জেলার মোট করোনা আক্রান্ত রোগীর প্রায় এক তৃতীয়াংশই পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলাতে বলেও জানান তিনি।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আসমা খান বলেন, ‘এ পর্যন্ত ঈশ্বরদী উপজেলায় প্রায় ১২ শতাধিক করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন।’ গত দুই সপ্তাহে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। আক্রান্তদের বেশীরভাগই রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারী বলে জানান তিনি।
ডা. আসমা খান বলেন, ‘পারমাণবিক প্রকল্প, ঈশ্বরদী ইপিজেডসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ অঞ্চলে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ লোকের সমাগম হয়, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি এমনিতেই বেশি, উপরন্তু কুষ্টিয়া ও নাটোরের সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ঈশ্বরদীতে করোনা সংক্রমণ প্রতিদিনই বাড়ছে।’
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হলেও, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এবং মেগা প্রকল্প হওয়ার কারণে এবং কেপিআই জোন হওয়ায় ঈশ্বরদীতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারছে না বলে জানান ডা. আসমা। তিনি বলেন, ‘জনসাধারণকে সচেতন করার চেষ্টা করা হলেও, জনগণের অসেচতনতার কারণে কোনো উদ্যোগই সফল হচ্ছে না’
করোনা সংক্রমণের হার বাড়তে থাকলেও পাবনাতে এখনো করোনা চিকিৎসা সেবায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। পিসিআর ল্যাবের অনুমোদন হলেও এখনো তা স্থাপন করা হয়নি। এ ছাড়া, করোনা চিকিৎসায় নিবেদিত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ দেওয়ার কাজ এখনো শেষ হয়নি। এ অবস্থায় করোনা সংক্রমণ দ্রæত গতিতে ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হবে স্বাস্থ্য বিভাগকে। এমনটাই মনে করছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
সিভিল সার্জন ডা. মনিসর চৌধুরী আরও বলেন, ‘জনসাধারণকে বার বার সচেতন করার চেষ্টা করা হলেও, অনেকেই এখনো সচেতন হতে চাইছেন না।’
করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করলে একটি-দুটি হাসপাতাল দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না, সেহেতু পরিস্থিতি যেন ভয়াবহ আকার ধারণ না করে, সেজন্য সবাইকে এখনই সচেতন হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।