পায়রা নদীতে মাছ নেই, জেলেরা হতাশ

প্রকাশিত

আমতলী প্রতিনিধি-

জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মাছ না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন। চোখে মুখে ছিল হতাশার ছাপ।

বরগুনার আমতলী উপজেলায় পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীতে হঠাৎ করে মাছের উপস্থিতি কম দেখা যাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে শনিবার দুপুরে আমতলী লোসা ঘাটে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টি মাছ ধরার নৌকা  বাঁধা ছিল। জেলেরা অলস এবং দুশ্চিন্তায় সময় কাটাচ্ছে।

মাছ ধরার নৌকার মালিক আক্কেল আলী ও মোঃ আরিফ এবং মাঝি বসির আলি আমাদেরকে জানান- বিগত বছরগুলোতে এ সময় অনেক মাছ পেলেও চলতি মৌসুমে মাছের আকাল। বৈশাখ মাসের শেষ প্রায়, সারাদিন নদীতে জাল ফেলেও তারা কোন মাছ পাচ্ছেন না। এছাড়াও জেলেরা বলেন, এমনিতে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা এবং  সারাদেশে লকডাউন চলছে। তার উপর  নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। ছেলে মেয়ে নিয়ে দুমুঠো খাব, তাই এখন কষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। তবে জেলেরা আশা করছেন, বৃষ্টি হলে মাছ পড়বে তাই তারা প্রকৃতির (আল্লাহ) দিকে তাকিয়ে আছে।

উপজেলার মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে- বাজারে নদীর মাছ খুবই সংকট। যা বাজারে পাওয়া যাচ্ছে তার দাম খুবই অস্বাভাবিক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ক্রেতা বলেন- সারাদিন রোযা রেখে নদীর মাছ দিয়ে ভাত খাবো তাও এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই চাষের মাছ অথবা মাংস নিয়ে বাসায় ফিরছি।
মৎস্য ব্যবসায়ী বারেক প্যাদা বলেন, মাছের আমদানি কম হওয়ায় আমরা লোকসানের ঝুঁকিতে পড়েছি।

আমতলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোসা: হালিমা সরদার বলেন- জেলেরা চরগড়া, কারেন্ট, বেহুন্দি এসব অবৈধ জালের ব্যবহার, নদীতে চর পড়ে স্বাভাবিক প্রবাহে বিঘ্ন, লোনা পানি, বৃষ্টি কম হওয়া, পূর্বে উপজেলায় ১২০০ জন জেলে ছিল যা বর্তমানে ৬৭৮৫ জন। এইসব কারণে নদীতে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আশা করছি বৃষ্টি হলেই কয়েক দিনের মধ্যে মাছ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।