পার্বতীপুর মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে টাকা নেয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত

আব্দুল্লাহ আল মামুন, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে প্রতারনা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের নিয়ামতপুর মুন্সিপড়া এলাকার মৃত-আঃ রহিমের কন্যা নিভা সরকার ঈশা তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ্য করেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ১৫/০১/১৮ তারিখে ট্রেইনার পদে আবেদন করেন তিনি। প্রাথমিক বছাইয়ের পর পার্বতীপুর উপজেলায় লিখিত পরীক্ষা শেষে জান্নতুন ফেরদৌস, নিভা সরকার ঈশা ও শিখা প্রত্যাসসহ মোট ৩জনের একটি প্যানেল ০২/০৩/১৮ই তারিখে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। পার্বতীপুর থেকে পাঠানো প্যানেলের ২য় স্থানে ছিলেন নিভা সরকার ঈশা। এ
সময়ে টাকার বিনিময়ে চাকুরী দেয়ার প্রলোভন দেখালে পার্বতীপুরে দায়িত্বরত
মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানার খপ্পরে পড়েন ঈশা। চাহিদা অনুযায়ী
চাকুরীর প্রত্যাশায় অনেক কষ্টে ২৫হাজার টাকা জোগাড় করে স্বাক্ষী রেখে তার
(মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা) হাতে তুলে দেন। তবে ঢাকায় চুরান্ত বাছাইয়ে ঈশা’র
চাকুরী না হওয়ায় টাকা ফেরত চান তিনি। কিনÍু মহিলা বিষয়ক কর্মকতা টাকা
নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলে, টাকা ফেরতের প্রতিকার চেয়ে ও তার শাস্তির
দাবীতে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক,
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব ও ডিজির নিকট ২৫/০৬/১৮ং তারিখে
লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেন ভুক্তভোগী ওই নারী। এর পূর্বের কর্মস্থল দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে থাকা অবস্থায় “নবাবগঞ্জ মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ” শিরোনামে ২৭ এপ্রিল ২০১৮ইং তারিখে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় অর্থ লোভী এই নারীর বিরুদ্ধে
খবর প্রকাশ হয়। সেখানে ভিজিডি বিতরণে ট্যাগ কর্মকর্তাদের প্রাপ্য সম্মানী
না দেয়া, পরিবহন খরচ ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদেরকে চেকে না দিয়ে হাতে হাতে কম
দেয়া, মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদানকারী কমিটির সভাপতিকে না জানিয়ে অনুমোদন
বিহীন ভাতা ভোগীদের প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা, ইউএনওসহ বিভিন্ন দপ্তরের
সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে দুর্ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাপক
অনিয়ম-দুনীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়। এছাড়াও জাতীয় সঙ্গীত অবমাননাসহ
বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে একাধিকবার পত্রিকার শিরোনামে এসেছিলেন এই
কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, যদিও তার (মহিলা
বিষয়ক কর্মকর্তা) ব্যক্তিগত বিষয়ে আামদের হস্তক্ষেপ করা ঠিক নয় তবে অফিস
চলাকালীন সময়ে একজন কর্মকর্তা হিসেবে তার চলাফেরা ও পোষাক আসাকে যতেষ্ট
মার্জিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনেকরি।

অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করলে পার্বতীপুরে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেবেকা
সুলতানা বলেন, বিশেষ ক্ষমতাশীল একজন তার সাথে নৈতিকতার দ্বন্দে পরাজিত
হয়ে গভীর ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে তাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করতে দূর থেকে
পার্বতীপুরের জনৈক বিশেষ ব্যক্তিকে ব্যবহার করে এ ধরনের মিথ্যা প্রচার
চালিয়ে আসছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহানুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি
বলেন বিষয়টি অবগত আছি এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা
হবে।