পিতার বিরুদ্ধে কন্যাকে ধর্ষনের অভিযোগে থানায় মামলা

প্রকাশিত

মৃণাল চৌধুরী সৈকত :
টঙ্গীতে পিতা কর্তৃক কন্যাকে বিয়ে করার প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় ভয়ভীতি দেখিয়ে পর্যায় ক্রমে ধর্ষনের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। এঘটনায় নারী লোভী ও একাধিক বিয়ে করা লম্পট ও পাষন্ড পিতা মো.বাহাদুর আলম (৫৮) কে গ্রেফতার করেছে টঙ্গী থানা পুলিশ। থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার ঝগড়ারচর এলাকার মৃত ইয়াসিন বেপারীর ছেলে বাহাদুর আলম এক এক করে ৮টি বিয়ে করে। ৮ পরিবাওে তার ১০ জন ছেলে মেয়ে রয়েছে। বিবাহিত স্ত্রীদের মধ্যে এখনও ২ জন তার সংসার করছে। ১ জন মারা গেছে। বাকি স্ত্রীরা বিভিন্ন কারণে তাকে ছেড়ে চলে গেছে। বাহাদুর আলম পেশায় একজন জমির কেনা বেচার দালাল। তার তৃতীয় স্ত্রী মনোয়ারার বেগম ১ কন্যা সন্তানের জননী হওয়া সত্বেও চরিত্রহীন ও অত্যাচারী স্বামীর সংসার ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করে চলে যায়। একমাত্র মেয়ে মুন্নি আক্তার তার পিতার অত্যাচার সইতে না পেরে ঢাকায় এসে গার্মেন্টসে চাকুরি করে জীবন চালাতে শুরু করে। কিছুদিন যেতে না যেতেই বাহাদুর আলম তার মেয়ে মুন্নিকে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে বাড়ি নিয়ে যায় এবং ওসমান নামে এক যুবকের সাথে বিয়ে দেয়। বিয়ের পর মুন্নির সংসারে মিম নামে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। কিছুদিন যেতে না যেতেই বিভিন্ন অজুহাতে বাহাদুর আলম মুন্নিকে আবারও বাড়ি নিয়ে আসে এবং জোর পূর্বক টঙ্গীর গাজীপুরা এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে কন্যাকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে প্রায় ৬ মাস বসবাস শুরু করে। কন্যা মুন্নি তা মেনে নিতে পারেনি। ঘর থেকেও বের হওয়ার কোন উপায় ছিলোনা বলে জানায় মুন্নি।

এক পর্যায় সে পালিয়ে গিয়ে বকশিগঞ্জের সূর্যনগর গ্রামের আবেদুজ্জামান নামে এক যুবককে বিয়ে করে। লম্পট চরিত্রহীন পিতা বাহাদুর আলম সেখানেও বাধ সাধে পিতা বাহাদুর আলম। মুন্নিকে নতুন বাড়িঘর করে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয় তার জন্মদাতা পিতা। এতে রাজি না হওয়ায় মুন্নির স্বামীকে মিথ্যা কথা বলে সংসার ভেঙ্গে দেয় বলে অভিযোগ মুন্নির। গত এক সপ্তাহ পূর্বে মুন্নি আক্তার তার পিতার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে টঙ্গী থানায় আসে পিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে। কিন্তু কোন তথ্য প্রমান না থাকায় থানা পুলিশ সে সময় মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে সে প্রানের ভয়ে চলে যায় তার নানীর বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার বহরিয়া গ্রামে এবং তার সৎ ভাই কামরুল ইসলাম ওরফে জমিদার মিয়া ও তাদেও আত্বীয় স্বজনকে বিষয়টি জানায়।

এখবর পেয়ে মুন্নির পিতা মুন্নিকে কৌশলে বিষয়টি মিমাংশা করার কথা বলে গত মঙ্গলবার টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার মেহেদীর চাচার বাড়ি নামে পরিচিত বাড়ির ৪র্থ তলার ভাড়া বাসায় মুন্নিকে নিয়ে আসে এবং ছোট স্ত্রী ও ২ বাচ্চাকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে মুন্নিকে আটকে রেখে পর্যায় ক্রমে ধর্ষন করে। বিষয়টি মুন্নি তার সৎ ভাই কামরুল ইসলাম ওরফে জমিদার মিয়াকে মোবাইল ফোনে জানালে সে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় গত শুক্রবার রাতে টঙ্গী থানার এস আই জহুরুলসহ একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে মুন্নিকে উদ্ধার ও লম্পট চরিত্রহীন পিতা বাহাদুর আলমকে আটক করে। এঘটনায় কন্যা মুন্নি বাদী হয়ে টঙ্গী থানার মামলা নং-৫/৫৬৪ ধারা-নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধিত এর ৯ (১) জোর পূর্বক ধর্ষনের অভিযোগ রজু করে।
পিতার বিরুদ্ধে মামলা রজুকারীনি মুন্নি আক্তার জানায়, আমার জীবন ও পরপর দুটি সংসার ধ্বংশ করে আমাকে পথে নামিয়ে দিয়েছে ওই কুলাঙ্গার। সে আমার একদিকে যেমন জন্মদাতা অপরদিকে সে আমার স্বামীও বটে। সে শুধু আমার জীবনটাই ধ্বংশ করেনি আমার সৎ ভাই কামরুল ইসলাম ওরফে জমিদারের প্রথম স্ত্রীকেও ধ্বংশ করেছে। আমি ওর বিচার চাই, ওর ফাঁসি চাই।
অভিযুক্ত বাহাদুর আলম বলেন, আমাকে বিরুদ্ধে এটা একটা ষড়যন্ত্র। আমার প্রথম স্ত্রীর ঘরের ছেলে কামরুল ইসলাম ওরফে জমিদার আমার তৃতীয় স্ত্রীর ঘরের কন্যা মুন্নিকে দিয়ে ৩ লঅখ টাকা দাবী করেছিলো টাকা না দেয়ায় তারা আমাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসিয়ে দিয়ে আমার অর্থ-সম্পদ আত্বসাতের চেষ্টা করছে।
এব্যাপারে টঙ্গী থানার এস আই জহুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভিকটিম মুন্নি মামলা করেছেন, সেই মোতাবেক তাকে মেডিকেল পরিক্ষার জন্য গাজীপুরের শহীদ বঙ্গতাজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত বাহাদুর আলমকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মেডিকেল রিপোর্ট আসলে বুঝা যাবে ঘটনার সত্যতা আছে কি না।
##