পিরোজপুরের রাজনীতি,জোটের মারপ্যাচে বিএনপি,জটিলতা বেশি আ”লীগে

প্রকাশিত

পিরোজপুর থেকে-ইসমাইল হোসেন হাওলাদার,

পিরোজপুর জেলার রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে চলছে ভিন্ন মাত্রার জটিলতা। জেলার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু পিরোজপুর সদর। মূলত সদরের রাজনীতির প্রভাব থাকে সব উপজেলাতেও। সদর থেকে গত দুই মেয়াদের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি থেকে কোন নেতা মনোনয়ন না পাওয়ায় নেতাদের মধ্যে ছিল হতাশা। আগামীতেও জামায়াত ও অন্যদলের সাথে জোটের মারপ্যাচে বিএনপি থেকে কারো এমপি প্রার্থী হবার সম্ভাবনা না থাকার কারণে চলছে জটিলতা। অপর দিকে ক্ষমতাসীনদল আওয়ামীলীগে বর্তমানে একাধিক প্রভাবশালী নেতা মাঠে থাকায় অভ্যন্তরিন কোন্দল চরমে পৌছেছে। মূলত জাতীয় নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় সব দলের রাজনীতির সমীকরন চলছে নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির প্রতিযোগীতাকে ঘিরে।

জানা যায়, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সদর আসনের এমপি একেএমএ আউয়াল ছিল আওয়ামীলীগের জেলার রাজনীতির একক অধিপতি। আওয়ামীলীগের এক যুগের রাজনীতির এ চিত্র বর্তমানে বদলে গেছে। আওয়ামীলীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতা মাঠে সক্রিয় থাকায় কোনঠাসা এখন এমপি আউয়াল। আর মাঠে থাকা একাধিক প্রভাবশালী নেতারা আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশি হবার কারনে দলীয় রাজনীতিতে শুরু হযেছে চরম কোন্দল। নানা কারনে এমপি আউয়ায়েল প্রভাব ধীরে ধীরে কমতে থাকলেও দলের মধ্যে প্রকাশ্যে কোন্দল শুরু হয় বছর দুই আগে । দুই বছর আগে এমপি আউয়ালের আপন ভাই পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেকের সাথে তার বিরোধ তৈরি হয়। এ বিরোধই এক পর্যায় রূপ নেয় আওয়ামীলীগের দলীয় কোন্দলে। পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক বর্তমানে জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি। জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাডভোকেট হাকিম হাওলাদারসহ আওয়ামীলীগের বড় একটি অংশ নিয়ে বর্তমানে হাবিবুর রহমান মালেকের নেতৃত্বে তৈরি হয়েছে আউয়াল বিরোধী বলয়। এ বলয় মাঠে নেমেছে যাতে আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পায় হাবিবুর রহমান মালেক। আর নতুন এ মেরুকরনে যোগ হয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে একেএমএ আউয়ালের একক আধিপত্যের কারণে দলের মধ্যে কোনঠাসা অবস্থায় থাকা নেতাকর্মীরা। পিরোজপুর পৌরসভায় গত তিন মেয়াদ ধরে হাবিবুর রহমান মালেক মেয়র থাকার সুবাদে তৈরি হওয়া ব্যক্তি অবস্থান এ বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে আউয়াল বিরোধী বলয়কে।
সব মিলিয়ে দুই বারের এমপি আউয়ালকে এ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন লাভে মোকাবেলা করতে হচ্ছে তার আপন ভাইয়ের সাথে। তবে তিনি আগামীতেও দলের মনোনয়ন চাইবেন।

এ আসনে আরেক হেবিওয়েট প্রার্থী হলেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম। আইনজীবীদের এ নেতার রয়েছে হাই কমান্ডে প্রভাব। এছাড়া সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি ও আইনবিভাগ সাথে দলের তৈরি জটিলতা নিরসনে শ ম রেজাউল করিমের ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছে তার অনুসারীরা। এরপরে তিনি বর্তমান আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক হওয়ায় আগামী নির্বাচনে তিনি গুরুত্তপূর্ন মনোনয়ন প্রত্যাশী। অপরদিকে পিরোজপুরে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন নিয়ে আরেক জটিলতা দেখা দিয়েছে শেখ এ্যানী রহমানের মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায়। পিরোজপুরের সাবেক এমপি বাকশাল আমলের গর্ভনর এনায়েত হোসেন খানের মেয়ে ও বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাষ্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান টোকনের স্ত্রী এ্যানী রহমান। শেখ পরিবারের পুত্রবধুর পরিচয়ের প্রভাবে নির্বাচনের আগ মুহুর্তে মাঠে এলেও এ্যানী রহমান আগামী নির্বাচনের জন্য এখন আলোচিত নাম। তার সাথেও আছে দলীয় একটি অংশ। পিরোজপুর ২ আসনের সাবেক এমপি অধ্যক্ষ শাহ আলমও চাইবেন প্রার্থী হতে। আসন বিন্যাসের কারনে তিনি আগামী নির্বাচনে সদর আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী। এছাড়াও আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রচারনা চালাচ্ছে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সাজ্জাত সাকিব বাদশা। ছাত্রলীগের সাবেক আরেক কেন্দ্রীয় নেতা ইছাহাক আলী খান পান্না বিগত দুই নির্বাচনে পিরোজপুর ২ আসন থেকে মনোনয়ন চাইলেও এবার অজ্ঞাত কারনে তিনি সদর আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে ঘোষনা দেন।

অপরদিকে বিএনপির মধ্যে গত দুই মেয়াদে এমপি প্রার্থী হতে না পারার হতাশার কারণে দলের কার্যক্রমে প্রভাব রয়েছে। এ আসনে ৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে এমপি হন জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। এর মধ্যে ২০০১ এ বিএনপি তথা চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এমপি হন সাঈদী। এরপরে ২২ জানুয়ারী যে নির্বাচন হবার কথা ছিল তাতেও জোট থেকে প্রার্থী নিশ্চিত ছিল দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। ফলে দীর্ঘদিন পিরোজপুরে বিএনপির নেতারা নিজেদের বঞ্চিত বলে মনে করতো। আগামী নির্বাচনে সাঈদী না থাকলেও তার ছেলে শামীম বিন সাঈদী জোট থেকে প্রার্থী হবার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। তাকেই শক্ত প্রার্থী হিসেবে মনে করা হচ্ছে। জোটের মারপ্যাচে প্রার্থী হতে পারে সাবেক মন্ত্রী জাতীয় পার্টি একাংশের মোস্তফা জামাল হায়দার। সব মিলিয়ে চরম হতাশ বিএনপি নেতারা। আর এ কারণেই দলীয় রাজনীতিতে বিএনপির কেউ তেমন কোন ঝুঁকি নিতে চায় না। তারপরেও একেবারে হাল ছেড়ে না দিয়ে মাঠে আছে বেশ কয়েকজন। বর্তমানে বিএনপির যে কয়জন নেতা রাজনীতিতে সক্রিয় ও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তারা হলেন জেলা বিএনপির সভাপতি গাজী নুরুজ্জামান বাবুল, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, সহ-সভাপতি ফকরুল ইসলাম, এলিজা জামান প্রমূখ।