পিলখানা হত্যাযজ্ঞে ১৮৫ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) সদরদপ্তর পিলখানায় রক্তাক্ত বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার দায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন ও ১৯৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর খালাস পেয়েছেন ৪৯ জন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫২ আসামির মধ্যে ৮ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন ও চারজনকে হাইকোর্টে খালাস দেওয়া হয়েছে। আর পিন্টু নামে আরেক আসামির মৃত্যু হয়েছে।

নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ পাওয়া ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। বাকিদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং খালাস পেয়েছেন ১২ আসামি।

এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে জজ আদালতে খালাস পাওয়া ৬৯ জনের মধ্যে ৩১ জনকে যাবজ্জীবন ও ৪ জনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাকি ৩৪ জনের খালাসের রায় বহাল রাখা হয়েছে।

পিলখানা হত্যা মামলার ৮৫০ আসামির মধ্যে বিচারিক আদালত ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ১৮২ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৮ জনকে সাত বছরের কারাদণ্ড, ৪ জনকে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ২৯ জনকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার বিকেলে এ রায় ঘোষণা করেন। এ বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন—বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

বহুল আলোচিত পিলখানা হত্যা মামলা আসামির সংখ্যা বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় মামলা। এই মামলায় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত রায় দেন। এ মামলায় ৮৪৬ আসামির সাজা হয় ৫৬৮ জনের। তাদের মধ্যে বিচারিক আদালতের রায়ে ১৫২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২৫৬ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছিল। খালাস পেয়েছিলেন ২৭৮ জন।

এরপর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) হাইকোর্টে আসে। রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিত ব্যক্তিরাও জেল আপিল ও আপিল করেন। আর ৬৯ জনকে খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। এরপর ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি এসব বিষয়ে হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়; শেষ হয় ৩৭০তম দিনে গত ১৩ এপ্রিল। সেদিন শুনানি শেষে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরপর হাইকোর্ট রায়ের জন্য নির্ধারণ করেন রোববার (২৬ নভেম্বর)।

২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর সদর দফতরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এ ঘটনায় প্রথমে রাজধানীর লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। পরে এসব মামলা নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তরিত হয়। সিআইডি দীর্ঘ তদন্ত শেষে হত্যা মামলায় ২৩ বেসামরিক ব্যক্তিসহ প্রথমে ৮২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এ ছাড়া বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় ৮০৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। পরে আরও ২৬ জনকে অভিযুক্ত করে মোট ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে তৎকালীন বিডিআরের ডিএডি রহিমসহ চার আসামির মৃত্যু হয়।

মামলায় আসামিদের মধ্যে বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীরও দণ্ড হয়। সাজা ভোগকালীন পিন্টু অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। রক্তক্ষয়ী ওই বিদ্রোহের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী এ বাহিনীর নাম পরিবর্তন করা হয়। নাম বদলের পর এ বাহিনী এখন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) হিসেবে পরিচিত।