পুলিশের সংশ্লিষ্টতা পেল না পিবিআই

প্রকাশিত

খুলনার খালিশপুর থানা-পুলিশের বিরুদ্ধে শাহ জালাল ওরফে শাহ জামালের দুই চোখ নষ্ট করার অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গোয়ালখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছিনতাইকালে জনগণের কাছে ধরা পড়ে গণধোলাইয়ে শাহ জালালের দুই চোখ নষ্ট হয়েছে। কে বা কারা শাহ জালালের দুই চোখ নষ্ট করার সঙ্গে জড়িত ছিল, তদন্তকালে তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

১৬ জানুয়ারি বিকেলে খুলনা মহানগর হাকিম মো. শাহীদুল ইসলামের আদালতে প্রতিবেদনটি জমা দেন পিবিআই খুলনা জেলার পুলিশ পরিদর্শক মো. বাবলুর রহমান খান। ১৫ জানুয়ারি পুলিশের বিরুদ্ধে করা ওই মামলার শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ওই দিন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় বিচারক মামলার পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেন আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি।

শাহ জালালের বাবা জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে করা পুলিশের ওই তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁরা আস্থা খুঁজে পাচ্ছেন না। এ কারণে আগামী শুনানির দিন ওই তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করবেন তাঁরা। সেই সঙ্গে সঠিক প্রতিবেদন পেতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করার জন্য আবেদন করা হবে।

শাহ জালাল ওরফে শাহ জামালের বাড়ি পিরোজপুরের কাউখালীতে। পরিবারের ভাষ্য, শাহ জালাল একজন সবজি ব্যবসায়ী। স্ত্রীকে বাড়ি নিয়ে যেতে গত বছরের ১৭ জুলাই খুলনা নগরের খালিশপুর নয়াবাটি এলাকায় থাকা শ্বশুরবাড়ি এসেছিলেন। পরদিন ১৮ জুলাই রাতে খালিশপুরের গোয়ালখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ছিনতাইয়ের অভিযোগে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেই রাতেই স্ত্রী ও শাশুড়ির সঙ্গে থানায় শাহজালালের দেখা হয়। তখনো তাঁর চোখ ভালো ছিল। কিন্তু পরদিন ১৯ জুলাই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তাঁরা শাহ জালালের চোখ নষ্ট অবস্থায় দেখতে পান। ওই দিন সকালে ছিনতাইয়ের অভিযোগে সুমি আক্তার নামের এক কলেজছাত্রী শাহ জালালসহ দুজনের বিরুদ্ধে খালিশপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় শাহ জালাল জামিনে আছেন।

গত ৭ সেপ্টেম্বর ‘নির্যাতন’ করে শাহ জালালের দুই চোখ নষ্ট করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে খালিশপুর থানার ওসি নাসিম খানসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন শাহ জালালের মা রেনু বেগম। মামলার অন্য আসামিরা হলেন ওই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল, এসআই সেলিম মোল্লা, এসআই মিজান, এসআই মামুন, এসআই নুর ইসলাম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) তাপস রায়, এএসআই সৈয়দ সাহেব আলী, আনসারের নায়েক রেজাউল, ল্যান্স নায়েক আবুল হোসেন ও সিপাহি আফসার আলী। অন্য দুই আসামি হলেন শাহ জালালের বিরুদ্ধে করা ছিনতাই মামলার বাদী সুমি আক্তার ও পুলিশের সোর্স রাসেল।

ওই দিন মামলাটি আমলে নিয়ে বিচারক ১৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেছিলেন। সেদিন বিচারক মামলাটির তদন্তভার দেন পিবিআইকে। ১৮ অক্টোবর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছিল। এর মধ্যে ওই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু পিবিআই পরপর তিনবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সময় নেয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী মো. মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘পিবিআই যে প্রতিবেদন দাখিল করেছে, তা সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট। পুলিশ বাহিনীকে বাঁচানোর জন্যই ওই প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করছি। প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেওয়া হবে। তা ছাড়া সুষ্ঠু বিচার পেতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য আবেদন করা হবে।’