পুলিশ পরিচয়ে কিশোরীকে তুলে নিলো যুবলীগ নেতা!

প্রকাশিত

নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর চাটখিলের ৮নং নোয়াখোলা ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মজিবুর রহমান শরীফের নেতৃতে পুলিশ পরিচয়ে মামার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার ১১ দিন পার হলেও একজন আসামিকেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। অথচ মামলা তুলে নিতে প্রতিদিনই আসামিরা সদলবলে বাড়িতে গিয়ে ও মুঠোফোনে হুমকি দিচ্ছে জানিয়েছেন ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর ভাই।

ঘটনার পর চাটখিল থানায় ছুটে গেলেও ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতির নাম থাকায় মামলা নিতে চায়নি পুলিশ। পরে যুবলীগ সভাপতির নাম বাদ দেয়ায় দুইদিন পর ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে সহযোগী কামাল (৩০) ও জামাল (২৮) নামে দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করে পুলিশ। এমনটাই অভিযোগ ভিকটিমের বাবার।

পরদিন ১১ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালী জেলা নারী ও শিশু স্পেশাল আদালতে হাজির করা হলে ওই দিনই আদালতের নির্দেশে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

তবে ঘটনার তিনদিন পর ডাক্তারি পরীক্ষা ও থানা পুলিশ কর্তৃক লিখিত ভুল-ভ্রান্তিতে ভরা এজাহারের কারণে মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় ভিকটিমের পরিবার।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ওই কিশোরী ইয়াছিন হাজীর বাজার সংলগ্ন মামার বাড়িতে বেড়াতে যায়। রাত দেড়টার দিকে আসামিরা মামার বাড়িতে গিয়ে পুলিশ পরিচয়ে দরজা ধাক্কাতে থাকে। এ সময় দরজা খুলে দিলে আসামিরা ঘরে ঢুকে প্রথমেই ওই কিশোরীর নাম ঠিকানা জিজ্ঞেস করে, ভোটার আইডি কার্ড ও জন্মসনদ দেখতে চায়। পরে মোটরসাইকেলে জোর করে উঠিয়ে দূরের একটি বাগানে নিয়ে তিনজন পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে চোখ বেঁধে বাড়ির কাছে রেখে যায় এবং মুখ খুললে মা-বাবা, ভাই-বোনসহ সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

ভিকটিমের মা বলেন, চাটখিল থানার ওসি জহিরুল আনোয়ার ধষর্ণের ঘটনা আসলেই ঘটেছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে প্রথমে মামলা নিতে অস্বীকার করে। পরে ঘটনার দুই দিন পর মূল আসামি ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি শরীফের নাম বাদ দিতে রাজি হলে মামলা গ্রহণ করে।

তবে মামলা গ্রহণ না করতে চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে চাটখিল থানার ওসি জহিরুল আনোয়ার জানান, ভিকটিমের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছেন। আসামিদের ঠিকমতো শনাক্ত করতে না পারায় গ্রেফতার বা প্রতিকার করা সম্ভব হয়নি।