পেকুয়ায় সড়কের কাজ শেষ না হতেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং!

প্রকাশিত

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি-
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নে প্রায় ২ কোটি টাকা বাজেটের বাইম্যাখালী-সিকদার পাড়া সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং। পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বাইম্যাখালী থেকে সিকদার পাড়া পর্যন্ত ১২৫০ মিটার সড়ক নির্মাণে ২ কোটি ১৮ লক্ষ ৭৬ হাজার ৫শত ৫৩ টাকা বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।  ইতিমধ্যেই সড়কের অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু নির্মাণের ১৫ দিনের মাথায় উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং। সম্পূর্ণ কার্পেটিং তুলে সড়কটি ফের নির্মাণের দাবি তুলেছে এলাকাবাসী।

জানা যায়, সড়কের কার্পেটিং কাজে সীমাহীন অনিয়ম হলেও রহস্যজনক কারণে নিরব রয়েছে সড়কের কাজ তদারকীর দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়।

সরেজমিন গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাইম্যাখালী থেকে সিকদার পাড়া পর্যন্ত ১২৫০ মিটার সড়কের নির্মাণ কাজ চলছে। গত ৪/৫ মাস পূর্বে সড়কের কার্পেটিং ও অন্যান্য কাজ শুরু করে ঠিকাদার। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে সড়কের কাজটি বাস্তবায়নের জন্য কার্যাদেশ পান বান্দরবান জেলা শহরের ইউটিং মারমা নামের এক ঠিকাদার। তবে ইউটিং মারমা সড়কের কাজ নিজে বাস্তবায়ন না করে মোটাংকের কমিশন হাতিয়ে নিয়ে কাজটি বিক্রি করে দেন পারভেজ নামের চকরিয়ার এক ঠিকাদারকে। আর এদিকে চকরিয়ার ওই ব্যক্তি ইউটিং মারমার কাছ থেকে সাব কন্ট্রাকে কাজটি নিয়ে সড়কের কাজের শুরুতেই নানান অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে যেনতেনভাবে বাস্তবায়ন করছেন। ইতিমধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। সড়কে নিম্নমানের বিটুমিন, পাথর ও বালু ব্যবহারের কারণে কাপেটিং উঠে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।

পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বাইম্যাখালী গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আজমগী, ব্যবসায়ী মো.শফি, বাদশাহ, যুবলীগ নেতা আনছার, জয়নাল, আওয়ামীলীগ নেতা আলমগীর, অভিযোগ করে বলেন, অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে এমনটি হয়েছে। সিডিউল অনুযায়ী সড়কের কাজ করেনি সাব ঠিকাদার পারভেজ।  সামান্য বৃষ্টির পানিতে সড়কে সমস্যা হয়েছে। কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। উন্নয়নের জোয়ারে দুর্নীতিতে ভাসছে সড়ক উন্নয় কাজ।কাজে দায়িত্বে থাকা অফিসারকে অনিয়মের কথা বারবার বলেছি। কিন্তু তারা কর্ণপাত করেনি।উল্ঠো আমাদের ধমক দেয়। তারা সড়কের কাজে অনিয়ম-দূর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলজিইডির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সড়কটি বাস্তবায়নে নিয়োজিত সাব ঠিকাদার পারভেজ জানায়, বৃষ্টির কারণে সমস্যা হচ্ছে। এটি সব জায়গায় হচ্ছে। শুধু আমার বেলায় নয়। বৃষ্টি হলেই তো একটু উঠবেই। সড়কের কাজে কোনো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে না বলে তিনি দাবী করেন। সাব ঠিকাদারী নিয়ে সড়কের কাজ বাস্তবায়নের নিয়ম রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউটিং মারমার পক্ষ হয়ে তিনি কাজটি বাস্তবায়ন করছেন। যেখানে সমস্যা দেখা যাচ্ছে প্রয়োজনে পুনরায় সেখানে কার্পেটিং করা হবে।

পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বাইম্যাখালী গ্রামের কয়েকজন সচেতন বাসিন্দা মৌখিক অভিযোগ করে এ প্রতিবেদককে জানান, পেকুয়া এলজিইডি অফিসের  উপ-সহকারী প্রকৌশলী সড়কের কাজের তদারকীর দায়িত্বে থাকা সাঈদুর রহমান কমিশনের বিনিময়ে ঠিকাদারকে কাজে অনিয়মের সুযোগ করে দিয়েছেন বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

পেকুয়া এলজিইডি অফিসের উপ-সহকারী সাঈদুর রহমান বলেন, উপজেলার মধ্যে যে ক’টি সড়কের কাজ চলছে সবচেয়ে টেকসই কাজ হচ্ছে এ সড়কে। কোন ধরনের অনিয়ম হয়নি। তবে ঠিকাদার সব সময় ফিল্ডে আসেনা।

তবে এ ব্যাপারে জানতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর পেকুয়ার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী কমল কান্তি পালের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া যায়নি।