পেকুয়া কো- অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে আত্মসাৎ মামলা

প্রকাশিত

পেকুয়া-কুতুবদিয়া(কক্সবাজার)প্রতিনিধি.-
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার অতি বৃহত্তম সমবায় সমিতি পেকুয়া কো অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন (পেকুয়া ঋণদান সমিতি) এর বর্তমান চেয়ারম্যানসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে সমিতিতে সদস্যদের সঞ্চয়কৃত অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে আত্মসাৎ মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ১৫ জুলাই সমিতির অন্যান্য সদস্যদের পক্ষে ৫৭৫০ নং সদস্য সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড পশ্চিম বাইম্যাখালী এলাকার বাসিন্দা মরহুম বশরত আলীর পুত্র মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিবাদী করা হয় সমিতির চেয়ারম্যান সদ্য প্রতারণা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী ও পেকুয়া ছালেহা কবির সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক থেকে সাময়িক অব্যহতিপ্রাপ্ত মাষ্টার নাছির উদ্দিন এবং সমিতির সেক্রেটারী তারেক ছিদ্দিকী, ম্যানেজার বাবু অসিম বিশ^াস। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সুষ্ট তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য পেকুয়া থানার ওসি (প্রশাসন) কে নিদের্শ দেন।
মামলার বাদী আরজিতে উল্লেখ করেন বিবাদীরা সমিতির দায়িত্বশীল চেয়ারম্যান, সেক্রেটারী এবং ম্যানেজার হয়। এ সুবাধে তারা অবৈধ ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আদালতকে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে সমিতির সাধারণ সদস্য সদস্যাদের সঞ্চয়কৃত অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আত্মসাৎ করতে মেতে উঠেছে। সমিতির ব্যাংক একাউন্ট বিবাদীদের নামে হওয়ায় বিবাদীদের মধ্যে চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারী পলাতক এবং ম্যানেজার কারাগারে থাকা অবস্থায় তাদের যৌগ সাজসে ৮ জুলাই ১৮ ইং তারিখ চট্টগ্রামস্থ’ ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক চকবাজার শাখা হতে সমিতির একাউন্ট থেকে আত্মসাৎ করার কুমানষে ২ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেন। এছাড়াও ৪ জুলাই ২০১৭ ইং হতে ১২ জুন ২০১৮ পর্যন্ত সমিতির কার্যকরী কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের না জানিয়ে বিবাদীদের যৌগসাজসে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে সমিতির সদস্য সদস্যাদের রক্ষিত অর্থ হতে ৯ লক্ষ ৭৯ হাজার ৫ শত টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। বিবাদীরা নিয়মবহিভুত ভাবে সমিতির দৈনিক হিসাব থেকে এসব অর্থ উত্তোলন করেন যা হিসাবে ধার এবং অগ্রীম উল্লেখ করা হয়েছে সমিতির চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিনের নামে। সমিতিতে এসব অর্থের কোন ধরণের বিল ভাউচার নেই। ইতিপূর্বে সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং সেক্রেটারী, ম্যানেজার, সহকারী ম্যানেজারসহ আসামীরা যৌগ সাজসে সমিতির প্রতিষ্টাতা সদস্য মোহাম্মদ আলম কে ৫ লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলে ৫টি খালী স্ট্যাম্প ও ৫টি খালী চেক নেওয়ার পর সমস্ত ডকুমেন্ট স্বাক্ষর নিয়ে পরবর্তীতে টাকা প্রদান না করলে মোহাম্মদ আলম বাদী হয়ে একই আদালতে তাদের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন যার নং ১৫৮৪/১৭। গত ২০ জুন আসামীদের বিরুদ্ধে উক্ত মামলায় আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করলে আসামীরা পলাতক হয়ে যায়। এরই মধ্যে ম্যানেজার এবং সহকারী ম্যানেজার জেলে থাকা অবস্থায় সমিতির একাউন্ট থেকে চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন ও সেক্রেটারী তারেক ছিদ্দিকী গত ৮ জুলাই দুপুরে ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক চকবাজার শাখা থেকে ২ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেন। সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্তরা পলাতক থাকায় সমিতি পরিচালনার স্বার্থে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সেক্রেটারী, ম্যানেজার নিযুক্ত হলে আসামীদের অপকর্মগুলো প্রকাশ পায়। সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্তরা আসামীদের কে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সমিতির উত্তোলিত অর্থ ফেরত চাইলে আসামীরা তা অস্বীকার করেন এবং টাকা ফেরত দিবে না বলে চাপ জবাব দেন।
এদিকে আত্মসাৎ মামলার বাদী তার আরজিতে আরো উল্লেখ করেছেন আসামীরা প্রতিনিয়ত সমিতির টাকা উত্তোলন করে সমিতির উন্নয়নমূলক কাজ না করে ব্যক্তি গত কাজে ব্যবহার করেন। যা সমিতিতে কোন ধরণের বিল ভাউচার নেই তা নিয়মবহিভ’ত ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এভাবে সমিতির সাধারণ সদস্য সদস্যাদের সঞ্চয়কৃত অর্থ দিনের পর দিন আত্মসাৎ করে যাচ্ছেন। ফলে এক সময় সমিতি দেউলিয়া হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিতে পারে। এ থেকে উত্তরণের জন্য সাধারণ সদস্য সদস্যাদের পক্ষে উল্লেখিত ব্যক্তিগণের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছি।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, আমরা দরিদ্র বলে দৈনিক আয় থেকে খেয়ে না খেয়ে মাসিক কিছু টাকা সমিতিতে সঞ্চয় করি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। এ সব সঞ্চয়কৃত অর্থ নিয়ে সমিতি দিন দিন বৃহ আকার হলে সমিতির সঞ্চয়কৃত অর্থের প্রতি কুদৃষ্টি পড়ে সমিতির চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন এবং সেক্রেটারী তারেক ছিদ্দিকীর। তারা প্রতিনিয়ত ওই সব অর্থ কোন ধরণের বিল ভাউচার ছাড়াই উত্তোলন করে তাদের ব্যক্তিগত কাজে এবং ব্যবসায় ব্যবহার করে তা পুনরায় সমিতিতে ফেরত না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। বর্তমানে সমিতির সদস্য সদস্যারা সমিতির এসব অবস্থা দেখে সমিতির সঞ্চয়কৃত অর্থ ফেরত নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এভাবে হলে সমিতি ধবংস হয়ে যেতে পারে এবং দেউলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা দেখে আমি শেষ পর্যন্ত সদস্য সদস্যাদের পক্ষে সমিতিকে এসব আত্মসাৎকারীর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আদালতে আশ্রয় নিয়েছি।
এ ব্যাপারে মামলার কৌশলী জামাল হোছাইন এডভোকেট উক্ত মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।