পেসারদের দাপট, দ. আফ্রিকায় ভারতের টেস্ট জয়

প্রকাশিত

 ক্রীড়া ডেস্ক: জোহানেসবার্গের নিউ ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে টেস্টে হারের রেকর্ড নেই ভারতের। তিন ড্র ও এক জয় নিয়ে এই মাঠে স্বাগতিকদের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টেস্টে নেমেছিল বিরাট কোহলির দল।

এবার সেই সাফল্যের পাতায় যোগ হলো আরেকটি অধ্যায়। তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৬৩ রানে হারিয়ে ওয়ান্ডারার্সে অপরাজিত থাকার রেকর্ড অক্ষুণ্ণ রাখল ভারত।

দক্ষিণ আফ্রিকায় এটি ভারতের তৃতীয় টেস্ট জয়। শেষ জয়টি এসেছিল ২০১০ সালের ডিসেম্বরে। অর্থাৎ ভারতীয়রা দীর্ঘ ৭ বছর পর জয় করল প্রোটিয়া-দুর্গ। তবে সিরিজ হারের লজ্জা তো আর এড়াতে পারেনি ভারত। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ ফাফ ডু প্লেসিদের।

উইকেটের ‘বাজে’ আচরণের কারণে তৃতীয় দিনের খেলা বন্ধ রেখে দিনের খেলা শেষ করে দিয়েছিলেন আম্পায়াররা। শনিবার চতুর্থ দিনের শুরুতেই বৃষ্টির বাগড়া। এক ঘন্টা দেরিতে শুরু হয় ম্যাচ।

২৪১ রানের লক্ষ্যে ১ উইকেটে ১৭ রান নিয়ে দিন শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকার রানের চাকা সচল রাখেন ডিন এলগার ও হাশিম আমলা। দুজন দলকে পৌঁছে দেন ১২৪ রানে। কিন্তু এরপরই ছন্দপতন। মোহাম্মদ শামির দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১৭৭ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিক দল।

অসমান বাউন্সের কারণে ব্যাটসম্যানরা খাবি খাচ্ছিল বেশ। কোনো বল উঁচু, আবার কোনো বল নিচু হয়ে আসছিল। প্রত্যাশামাফিক গতি এবং বাউন্স না পাওয়ায় ব্যাটসম্যানরা ছিলেন দ্বিধায়। দুই ব্যাটসম্যান এলগার ও আমলা বারবার পরাস্থ হচ্ছিলেন। তবুও বাজে বল শাসন করে আক্রমণাত্মক খেলে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন তারা। দুজন চার ঘন্টা উইকেটে কাটিয়ে ১১৯ রান সংগ্রহ করেন ৫০ ওভারে।

জয়ের থেকে তখন ১১৭ রান দূরে দক্ষিণ আফ্রিকা। স্বাগতিকদের থামাতে প্রয়োজন ছিল মাত্র একটি উইকেটের! দলকে ব্রেক থ্রু এনে দেন ইশান্ত শর্মা। ডানহাতি এই পেসারের বলে শর্ট মিড উইকেটে ক্যাচ দেন ১৪০ বলে ৫২ রান করা আমলা। চা-বিরতির ২০ মিনিট আগে তার বিদায়ে নড়বড়ে হয়ে যায় প্রোটিয়া ব্যাটিং অর্ডার। ৫৩ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে ম্যাচও হেরে বসে তারা।

আমলার বিদায়ের পর মুহূর্তেই সাজঘরে ফেরেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। বুমরাহর হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা বলে রাহানের হাতে ক্যাচ দেন মাত্র ৬ রানে। ফাফ ডু প্লেসি আউট হন ইশান্ত শর্মার নিচু হয়ে যাওয়া বলে। চা-বিরতির পর মাত্র ১৫ বলের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তাতেই ম্যাচ শেষ তাদের।

উইকেটের পেছনে দারুণ সময় কাটালেও উইকেটের সামনে পুরোই ফ্লপ কুইন্টন ডি কক। রানের খাতা খোলার আগে বুমরাহর বলে এলবিডব্লিউ তিনি। ৫ উইকেট পওয়া শামির এক ওভারে আউট ফিল্যান্ডার ও ফিকোয়াও।

ম্যাচসেরা নির্বাচিত হওয়া ভুবনেশ্বর কুমারের বলে পূজারার হাতে স্লিপে ক্যাচ দেন কাগিসো রাবাদা। মরনে মরকেল ও লুঙ্গি এনগিডিকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেটের বৃত্ত পূর্ণ করেন শামি।

তৃতীয় দিনেই এগিয়ে ছিল ভারত। ২৪১ রানের লক্ষ্য দিয়ে দিনের শেষ প্রান্তে এইডেন মার্করামের উইকেট তুলে নেয় ভারত। শুরুতেই সাফল্য এনে দেন শামি। সফরকারীরা চতুর্থ দিনে বাকি কাজটুকু সারে খুব সহজেই। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন এলগার। ৮৬ রানে অপরাজিত থেকে পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়ে আনেন বাঁহাতি এই ওপেনার। পাশাপাশি ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ‘ক্যারিং ব্যাট থ্রু আ কমপ্লিটেড ইনিংস’-এর কীর্তি গড়েন।

প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই টেস্ট সিরিজ জিতে নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ ম্যাচ জিতে ভারত হোয়াইটওয়াশের হাত থেকে বাঁচল। পাশাপাশি র‌্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের অবস্থান আরো জোরালো করল। ১২৪ পয়েন্ট নিয়ে দক্ষিণ আফিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরু করেছিল ভারত। প্রোটিয়ারা পিছিয়ে ছিল ১৩ পয়েন্টে। দুই টেস্ট হারায় ৩ পয়েন্ট হারায় ভারত আর দক্ষিণ আফ্রিকার যোগ হয় ৮ পয়েন্ট। কিন্তু শেষ টেস্টটি জিতে নিজেদের পয়েন্ট আরো বাড়িয়ে নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া।

ডিন এলগার-হাশিম আমলা চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। ওয়ান্ডারার্সের উইকেটই বুমেরাং হলো দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে।

ব্যাট হাতে ৬৩ রান ও বল হাতে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা ভুবনেশ্বর কুমার। আর দাপটের সাথে সিরিজ খেলা ফিল্যান্ডার ১৫ উইকেট ও ৯৪ রানে পেয়েছেন সিরিজসেরার পুরস্কার।

১ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দলের রঙিন পোশাকের মহারণ শুরু হবে। ছয়টি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে দুই দল।