প্রচন্ড তাপদাহে পুড়ছে গাজীপুর, বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলা, বিপর্যস্ত জনজীবন

প্রকাশিত

তুহিন সারোয়ার- গাজীপুরে প্রচন্ড তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরম অব্যাহত থাকায় জনজীবন একেবারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। প্রচন্ড তাপদাহে শুধু মানুষ নয়, প্রাণীকুল পর্যন্ত অস্থির হয়ে পড়েছে। এমনকি মেঘের আনাগোনা থাকলেও বৃষ্টির লক্ষণ নেই। আর দাবদাহের সাথে শুরু হয়েছে বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলা। সবমিলিয়ে তীব্র গরম আর লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে এ অঞ্চলের জনজীবন। গরমে মানুষের অবস্থা বেগতিক। স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে হাঁপিয়ে উঠছে জনসাধারণ।

দিনের বেলায় রোদের কারণে বাসা-বাড়ি থেকে বের হওয়ার উপক্রম নেই। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা অব্যাহতভাবে বেড়েই চলেছে। দিনে যেমন রোদের খরতাপ তেমনি রাতে বইছে গরম হাওয়া। ফলে অফিসগামী মানুষ, শ্রমিক, শিক্ষার্থী এবং অল্প বয়সের শিশুরা গরম ও তাপদাহে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। জৈষ্ঠ্যের প্রখর তাপদাহের অস্বস্তিতে পড়েছে শ্রমজীবী মানুষ। শুধু মানুষ নয়, গোটা প্রাণীকূলও দাবদাহ থেকে রক্ষা পেতে একটু স্বস্তির জায়গা খুঁজছে।

জ্যৈষ্ঠ মাস পড়লেও বৃষ্টি একেবারে না থাকায় প্রখর তাপ এবং ভ্যাপসা গরমে সকাল থেকে প্রয়োজন ছাড়া মানুষ কাজ ছাড়া বাইরে বের হচ্ছে না। এমনকি কম সংখ্যক শ্রমিক কাজে যাচ্ছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে শহরের রাস্তাঘাট একেবারে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে এবং মানুষ একেবারে কাহিল হয়ে পড়েছে। অসহনীয় গরমে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবিরতা দেখা হয়েছে। গাজীপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। মানুষ তৃষ্ণা নিবারণে ডাব, শরবত, খাবার স্যালাইন, আইসক্রিম, শসা ও কলা কেনার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। প্রচন্ড গরমে বিকেলে অনেকেই নদীতে ঘন্টার পর ঘন্টা গোসল করে। এছাড়া গরমে বেড়েছে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ। জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বৃদ্ধসহ শিশুরা।

গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে লোড শেডিং চরম পর্যায়ে। প্রতিদিনই বেশ কয়েকবার করে বিদ্যুৎ চলে যায়। কখনো কখনো ২/৩ ঘন্টা পর্যন্ত বিদ্যুতের দেখা পাওয়া যায়না। এতে শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে প্রচন্ড খরতাপে কৃষি কাজে কৃষকদের মাঠে কাজ করা কষ্টকর হয়ে উঠেছে। প্রচন্ড গরম আর বৃষ্টিপাত তুলনামুলক ভাবে না থাকায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অতিষ্ঠ প্রাণিকুলও। ভ্যাপসা গরমে সবচেয়ে বেশী প্রভাব পড়েছে শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে। মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে দিনের স্বাভাবিক কাজ কর্ম। কর্মজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। হাট বাজারে টিনশেডের দোকানে বসে থাকা হয়েছে দুরূহ। তার ওপর লোড শেডিং সাধারণ মানুষকে অস্থির করে তুলেছে। অনেক স্কুল, প্রাইভেট স্কুল ও কিন্ডার গার্ডেনে ফ্যান না থাকায় ছাত্র/ছাত্রীরা বিদ্যালয়ের বাইরে স্কুল ঘরের ছায়ায় অথবা গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে একটু স্বস্তি বোধ করছে। মাধবদী পৌর শহর ও আশ পাশের দোকান গুলেতে ফ্রিজজাত বিভিন্ন জুস, আইসক্রীম ও পানীয় বিক্রি বেড়েছে আর এতে করে ইতিমধ্যেই ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে উদ্বেগজনক হারে। বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মানুষ ডায়রিয়ায় ও নিওমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশী। স্থানীয় চিকিৎসক শিবলী খান বলেন, সুস্থ থাকতে হলে রাস্তার ধারে ফুটপাতে খোলা জায়গায় বিক্রি করা শসা,আনারস,লেবুর শরবতসহ এসব খাবার এড়িয়ে চলার পরার্মশ দেন। গরমে বাইরের খাবার খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। গরমে সবাইকে প্রচুর পানি পানের পরামর্শ দেন। ঘরের পরিবেশ যতটা সম্ভব ঠান্ডা রাখা গেলে ডায়রিয়া ও শ্বাসজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশস্কা কম থাকবে বলে তিনি জানান।

গাজীপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, গাজীপুর অঞ্চলে বর্তমানে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গতকাল গাজীপুর বিভাগে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী তিন/চারদিন গরমের তীব্রতা থাকবে। এরপর বৃষ্টি হতে পারে।