প্রতিমাসে গড়ে ৫৫টি শিশু ধর্ষণের শিকার

প্রকাশিত

বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণ বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত প্রতিমাসে গড়ে ৫৫ জনের বেশি শিশু এমন পৈশাচিক বর্বরতার শিকার হচ্ছে। অর্থাৎ, এই তিন মাসের হিসেবে অনুযায়ী দেশে প্রতিদিন প্রায় দুটো শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ধর্ষণের মতো অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে শিশুরা।

এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের (বিএসএএফ)। তাতে বলা হয়, ওই তিন মাসে মোট ১৭৬টি শিশু ধর্ষিত হয়েছে। জানুয়ারি ও ফ্রেব্রুয়ারিতে ৫৫টি করে এবং মার্চে ৬৬টি শিশুকে ধর্ষণ করা হয়। অর্থাৎ, মাসে গড়ে ৫৫টির বেশি শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে। সেখানেই শেষ নয়, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৫ জনকে। এই পরিসংখ্যান অতীতের যেকোনো রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। ধর্ষিত ১৭৬ জন শিশুর মধ্যে এক থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ১৫ জন, ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী ৩৭ জন এবং ১৩ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে রয়েছে ৫৭ জন। এ ছাড়াও ৬৭ জন শিশুর বয়স কোনো সংবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়নি।

২৬৯টি বেসরকারি সংস্থার প্ল্যাটফর্ম বিএসএএফ। তারা মোট ১৫টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত শিশু অধিকার লঙ্ঘন বিষয়ক সংবাদ পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য প্রকাশ করে। সেখানে আরো বলা হয়, গত বছর ধর্ষণের শিকার হয়েছিল ১৪৫ শিশু। প্রথম তিন মাসে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেনি। তবে গত বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় চলতি বছর গণধর্ষণ এবং প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ কমেছে যথাক্রমে ৫৫ শতাংশ এবং ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুরা বেশি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই মূলত দরিদ্র এবং শ্রমজীবী বাবা-মায়ের সন্তান।

সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা জেলায়। ঢাকায় ২৫টি, চট্টগ্রামে এবং নারায়ণগঞ্জে ৯টি করে, খুলনায় ৬টি এবং যশোর ও সিলেটে ৫টি করে। ২০১৭ সালের হিসেবেও ঢাকা সবার আগে। এখানে ৬৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া গাজীপুরে ২৮টি এবং নারায়ণগঞ্জ ২৪টি। ধর্ষণে কম বয়সীদের জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও আশঙ্কাজনক। পত্রিকায় পাওয়া তথ্যে ধর্ষকদের বয়স পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১৮ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে, ৫৬ জনের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ২০ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে এবং ১১ জনের বয়স ৪৫ বছরের বেশি।

শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক আবদুস সহিদ মাহমুদ জানান, বাংলাদেশে শিশু নিরাপত্তার পরিস্থিতি খুবই খারাপ। ধর্ষণসহ বিভিন্ন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেই চলছে। আর তা দিন দিন বাড়ছে। বেশির ভাগ ঘটনায়  বিচারের দীর্ঘসূত্রতা এবং বিচার হলেও রায় কার্যকর না হওয়া বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি তো এত খারাপ হওয়ার কথা নয়।