প্রথম স্বামীর পরিকল্পনায় ময়মনসিংহে দ্বিতীয় স্বামী খুন স্বামী-স্ত্রী আটক

প্রকাশিত

জুবায়ের খন্দকার, ময়মনসিংহঃ-   গত বুধবার ১৭ই ফেব্রুয়ারী প্রথম স্বামীর সহায়তায় দ্বিতীয় স্বামী আশিক ইমরানকে হত্যার ঘটনায় প্রথম স্বামী এবং ঘাতক স্ত্রীকে আটক করেছে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

আটককৃতরা হচ্ছে- রাজিবুল ইসলাম রুবেল ও জাকিয়া সুলতানা। গ্রেফতারকৃত পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বিকার করেছে পুলিশ জানিয়েছে।ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন চ্যানেল সিক্সকে বলেন-ময়মনসিংহ নগরীর কেওয়াটখালী এলাকার আব্দুর রউফের মেয়ে জাকিয়া সুলতানা এবং  পার্শ্ববর্তী এলাকা বলাশপুরের ফয়জুল মিয়ার ছেলে রাজিকুল ইসলাম রুবেলের সাথে প্রেমের মাধ্যমে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই স্বামী ঘরে থাকাবস্থায় জাকিয়া সুলতানা নতুন করে একই এলাকার আশিক ইমরানের সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। যার ফলে জাকিয়া সুলতানা বিয়ে করেন আশিক ইমরানকে।

আশিকের ঘরে থাকাবস্থায় আবারো প্রথম স্বামী রাজিকুল ইসলাম রুবেলের সাথে চলে মন দেয়া নেয়ার খেলা। জাকিয়া সুলতানা ও রাজিকুল ইসলাম রুবেল দুজনে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয় তারা দু’জন আবারো এক সাথে ঘর বাঁধবে। কিন্তু সে বিয়েতে বাঁধা হয় দাঁড়ায় জাকিয়া সুলতানার দ্বিতীয় স্বামী আশিক ইমরান। সে বেচে থাকলে তাদের একত্রে ঘর বাধা আর এ জীবনে হবে না। আর তাই ওকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে হবে। দুজনের পরিকল্পনা এক আশিক ইমরানকে হত্যা করতে হবে। হত্যার পরিকল্পনায় আগে থেকেই রাজিকুল ইসলাম রুবেল চাকু কিনে নিয়ে আসে।

দু’জনের পরিকল্পনা মতে গত ১৫ই ফেব্রুয়ারী রাতে জাকিয়া সুলতানা তার দ্বিতীয় স্বামী আশিক ইমরানকে কেওয়াটখালী এলাকার রেললাইনের পাশে ডেকে নিয়ে আসে। পরিক্লপনা অনুযায়ী সেখানে আগে থেকেই চাকু নিয়ে ওত পেতে বসে থাকা প্রথম স্বামী রাজিকুল ইসলাম রুবেল তার শক্র আশিক ইমরান পেয়ে উপুর্যপুরী ছুরিকাঘাতের পাশাপাশি জবাই করে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে আশিক ইমরানের পিতা আলাল উদ্দিন বাদি হয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা নং ৬১(২)২১ দায়ের করেন।পুলিশ পরিদর্শক ফারুক হোসেন আরো বলেন, ঘটনার রাতে ঘাতক জাকিয়া সুলতানা তার দ্বিতীয় স্বামীকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে থানায় জিডি করতে আসেন। তার কথা বার্তায় সন্দেহ দেখা দিলে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে তার স্বামীকে রেল লাইনের পাশে পাওয়া যেতে পারে এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেই রাতেই কেওয়াটখালী রেললাইন এলাকায় গেলে আশিক ইমরানের জবাইকৃত মৃত দেহ পাওয়া যায়। জাকিয়া সুলতানা একজন মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানালেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার এই পুলিশ পরিদর্শক।

এদিকে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার বলেন-আটককৃত জাকিয়া সুলতানাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার একটি সূত্র থেকে জানা গেছে। পরে জাকিয়া সুলতানা প্রথম স্বামী রাজিকুল ইসলাম রুবেলকে বুধবার রাতে আটক করা হয়। তারা উভয়েই এ হত্যার দায় স্বিকার করেছে। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাকুও উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যার সাথে আরো কেউ জড়িত কি-না তার তদন্ত চলছে।