প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ডিএমডি

প্রকাশিত

গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন রাষ্ট্রায়ত্ত কোনো ব্যাংকের একজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি)। আর দুই নির্বাচন কমিশনার হবেন গ্রামীণ ব্যাংকেরই মহাব্যবস্থাপক। মহাব্যবস্থাপকদের বেছে নেবেন গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান।

গ্রামীণ ব্যাংক (পরিচালক নির্বাচন) বিধিমালা সংশোধনের উদ্দেশে সম্প্রতি এই খসড়া তৈরি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। আইন মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষার (ভেটিং) পর নতুন প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে গতকাল বুধবার এ তথ্য জানা গেছে। এবারেরটি গ্রামীণ ব্যাংক (পরিচালক নির্বাচন) বিধিমালা সংশোধনের তৃতীয় দফা উদ্যোগ। একই বিধিমালা আগেও দুবার সংশোধন করা হয়েছে।

জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের পর নতুন বিধিমালা জারি হবে।’

সরকার গ্রামীণ ব্যাংক (পরিচালক নির্বাচন) বিধিমালা প্রণয়ন করে ২০১৪ সালের এপ্রিলে। তখন বাংলাদেশ ব্যাংককে ছয় মাসের মধ্যে পরিচালক নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ছয় মাস পার হওয়ার আগেই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান পরিচালক নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না বলে জানিয়েছিলেন।

একই বছরের নভেম্বরে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিবর্তে একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজের নেতৃত্বাধীন কমিশন নির্বাচন করে দেবে বলে প্রজ্ঞাপন জারি করে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ সময় কিছুটা কৌশল অবলম্বন করে। কৌশলটা হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন গঠনের এক বছরের মধ্যে পরিচালক নির্বাচনের আয়োজন করা হবে।

মাঝখানে তিন বছর পার হলেও কমিশন আর গঠিত হয়নি, নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়নি। এই ফাঁকে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রামীণ ব্যাংকের পর্ষদ সদস্যদের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। সেই থেকে সরকারের নিয়োগ করা চেয়ারম্যানসহ তিন পরিচালক দিয়েই চলছে গ্রামীণ ব্যাংক। গ্রামীণ ব্যাংকের ১২ সদস্যের পর্ষদের বাকি ৯ জন ঋণগ্রহীতা সদস্য।

গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান খন্দকার মোজাম্মেল হক গত বছরের জুলাইয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে বিধিমালা সংশোধনের দাবি জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। এরই আলোকে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান।

খন্দকার মোজাম্মেল হক চিঠিতে বলেছিলেন, বিধি, উপবিধিগুলো সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হলে দ্রুততম সময়ে পরিচালক নির্বাচন করা যেতে পারে এবং বর্তমান সমস্যার সহজ সমাধান হতে পারে। এর ফলে পরিচালক নির্বাচনের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হবে।

গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান খন্দকার মোজাম্মেল হক চিঠিতে অর্থমন্ত্রীকে আরও বলেন, ‘বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠিত না হওয়ায় গ্রামীণ ব্যাংকের মতো সংবিধিবদ্ধ একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক নির্বাচন করা সম্ভব হচ্ছে না, যা আমরা কেউই কামনা করি না। একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ না থাকলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ আটকে থাকে এবং সার্বিক কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়।’

গ্রামীণ ব্যাংক (পরিচালক নির্বাচন) বিধিমালার ৫(১) ধারা অনুযায়ী নির্বাচিত পরিচালকদের পদ বহাল রয়েছে দাবি করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ঋণগ্রহীতা পরিচালকেরা, যা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

গ্রামীণ ব্যাংকে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ নেই ছয় বছরের বেশি সময় ধরে। লম্বা সময় পূর্ণ দায়িত্বের কোনো ব্যবস্থাপনা পরিচালকও (এমডি) নিয়োগ পাননি গ্রামীণ ব্যাংকে। ২০১১ সালের ১১ মে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ থেকে সরে যান নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর থেকেই ভারপ্রাপ্ত এমডি দিয়েই চলছে ব্যাংকটি।

অর্থমন্ত্রী অবশ্য মনে করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর সমর্থকদের মামলা দায়েরের কারণে ব্যাংকটির পরিচালক নির্বাচন করতে দেরি হয়েছে। সচিবালয়ে গত ২৪ ডিসেম্বর গ্রামীণ ব্যাংকের লভ্যাংশ প্রদান অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংকের চরিত্র বদলে গেছে। আগের চেয়ে এ প্রতিষ্ঠান অনেক সুসংহত।’

জানতে চাইলে গ্রামীণ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি রতন কুমার নাগ গত রাতে মোবাইল ফোনে প্রথম আলোকে জানান, ৮৯ লাখ সদস্যের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক। ২০১৬ সালের লভ্যাংশ ৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা সরকারকে দেওয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ থাকাটা খুবই জরুরি।