প্রবাসীকে লুটের ঘটনায় ৪ পুলিশসহ ৭ জনের রিমান্ড

প্রকাশিত

নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীতে প্রবাসীকে বহনকারী গাড়ী ও মালামাল লুটের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত ৪ পুলিশসহ ৭ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আসামিদের মধ্যে ৩ জনের ৩ দিন ও ৪ জনের ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শুনানি শেষে নরসিংদীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহিন আক্তার এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৩ দিনের রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত হোসেন, উপপরিদর্শক আজহারুল ইসলাম ও গাড়িচালক নুরুজ্জামান মোল্লা। ২ দিনে করে রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কনস্টেবল মাইনুল ইসলাম, সাইদুল ইসলাম এবং সহযোগী নূর মোহাম্মদ ও সাদেক মিয়া।
এর আগে বুধবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে গ্রেফতারকৃত আসামিদের নরসিংদীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: ওয়ায়েজ আলী করণীর আদালতে সোপর্দ করে ডিবি পুলিশ। তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে মালয়েশিয়া প্রবাসী নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার হাইরমারা এলাকার সোহেল মিয়া একটি ভাড়া করা গাড়িতে করে চার আত্মীয়ের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন। গাড়িটি নরসিংদীর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাহেপ্রতাব এলাকায় বিএল সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নেয়ার জন্য থামে। এসময় একটি মাইক্রোবাস থেকে নেমে উপপরিদর্শক সাখাওয়াত ও আজহার আলীসহ ৪/৫ জন নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রবাসী সোহেলের গাড়িতে অবৈধ মালামাল রয়েছে বলে দাবি করেন। পরে তল্লাশির নাম করে প্রবাসী সোহেলের কাছ থেকে দু’টি স্বর্ণের বার, স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল সেটসহ প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেন।
এ ঘটনা বাসীর আত্মীয় মো. শাহজাহান লিখিতভাবে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে জানান। গোয়েন্দা পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে সিএনজি স্টেশনের সিসি টিভির ফুটেজ দেখে ঘটনার সত্যতা পান এবং রায়পুরা থানার চার পুলিশসহ অন্য তিন আসামিকে শনাক্ত করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমে ডিবি পুলিশ এসআই সাখাওয়াত হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআই আজহারুল ইসলাম, কনস্টেবল মাইনুল ইসলাম, সাইদুল ইসলামকে আটক করা হয়। আটকের সময় এসআই সাখাওয়াতের কাছ থেকে ডাকাতির ১৮ হাজার টাকা, এসআই আজহারুল ইসলামের ট্রাঙ্ক থেকে ১০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের বার ও সাদেক মিয়ার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) দিনগত রাত আনুমানিক ১২ টার দিকে মো: শাহজাহান মিয়া বাদী হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে ৭০ লাখ টাকা ডাকাতির অভিযোগ উঠে, যা তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সাইদুর রহমান।
গাড়িচালক নুরুজ্জামান মোল্লার পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, গত শনিবার রায়পুরা থানা পুলিশ নুরুজ্জামানকে ধরে থানায় নিয়ে আসলে ১০ হাজার টাকা রফাদফায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে ডিবি পুলিশ তাকে পূণরায় গ্রেফতার করে।
এব্যাপারে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন ঘটনাটি অস্বীকার করেন।
নরসিংদী আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. রহুল ইসলাম রিমান্ড মঞ্জুরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।