প্রেমিককে পেতে দুই সন্তানকে খুন করলেন প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশিত

কিছু বাস্তব ঘটনা হার মানাবে নাটক সিনেমার কাহিনিকেও। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে ফেনীতে। পরকীয়া প্রেমের সূত্রপাত হয় ২০০৮ সালের দিকে। ঘটনার বেশকিছু বিষয় এখনো ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।

সৌদি প্রবাসী কবি রেজাউল হক। রেজাউল বিয়ে করেন পারিবারিকভাবে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরের অহিদুল্লার মেয়ে নাছিমা আক্তারকে ১৯৮৮ সালে। খুব ভালোভাবেই চলছিল তাদের সংসার। কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে দুটি মেয়ে।

দিনে দিনে মেয়ে দুটি বড় হয়। তাদের লেখাপড়া যেন ভালোভাবে চলে এ কারণে গৃহশিক্ষকের ব্যবস্থা করা হয়। গৃহশিক্ষক মশিউর মূলত কম্পিউটার চালানো শেখাতো বাচ্চাদের।

ওই সময় কবি রেজাউল ছুটিতে বাড়িতে আসেন। বেশ সুখে শান্তিতে তারা সংসার করছিল। তবে স্বামীর প্রতি ভক্তি ভালোবাসা কমতে শুরু করে। স্বামী কিছুতেই কিছু বুঝতে পারছিলো না। ধীরে ধীরে সন্দেহ করতে থাকে স্ত্রীকে। শেষ পর্যন্ত সন্দেহই সত্যি হলো। অবশেষে প্রমাণ মিললো মেয়ের কম্পিউটার শিক্ষকের সঙ্গেই স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক।

বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি রেজাউল হক। হতাশা আর টেনশনে চারদিকে অন্ধকার দেখে সে। কুল কিনারা না পেয়ে বিষয়টি র‌্যাবকে অবগত করে। সহযোগিতা কামনা করেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর। পরে র‌্যাব স্ত্রী নাছিমা খাতুন এবং কম্পিউটার শিক্ষক মশিউরকে থানায় নেয়। সংসার টেকাতে রেজাউল স্ত্রীর শত অপরাধ ক্ষমা করে দেয়। সন্তানের কথা মাথায় রেখে স্ত্রীর সঙ্গে ফের সংসার শুরু করে।

৩ বছর দেশে থাকার পর আবার সৌদিতে পাড়ি জমান রেজাউল। এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল স্ত্রী নাছিমার সঙ্গে। সৌদি আসার আগে রেজাউল তার স্ত্রী এবং ২ কন্যাকে ঢাকাতে ভাড়া বাসায় রেখে আসে।

ধীরে ধীরে রেজাউলের মেয়ে দুটি বড় হতে থাকে। ২০১১ সালের শেষে কলেজ পড়ুয়া বড় মেয়ের জন্য বিয়ের প্রস্তাব আসে যার মধ্যে সেই গৃহশিক্ষক মশিউরের নামও ছিল। মেয়েকে কার সঙ্গে বিয়ে দেয়া হচ্ছে সেই বিষয়টি স্বামী রেজাউলকে গোপন করা হয়েছিল।

একটা সময় মেয়ের সম্মতিক্রমে ফেনীর শাহিন পাটোয়ারী নামে এক যুবকের সঙ্গে বিয়েও ঠিক হয় বড় মেয়ে নাবিলা হকের। তবে একদিন একটি ফোনে আকাশ ভেঙে পড়ে সৌদি প্রবাসী রেজাউল হকের।

শাশুড়ি হাসিনা বেগম ও স্ত্রী নাছিমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন তার বড় মেয়ে ব্রেন স্ট্রোক করে মারা গেছে। এমন খবর শুনে আদরের মেয়ের কথা চিন্তা করে ভেঙে পড়েছেন রেজাউল হক।

ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ভিসা জটিলতার কারণে বাংলাদেশে যেতে পারেননি তিনি। স্ত্রীর সঙ্গেও ভালোভাবে কথা বলতে পারেনি। নানা ওজুহাত দেখিয়ে ছোট মেয়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেয়নি শাশুড়ি হাসিনা বেগম।

বেশ কিছুদিন পরে রেজাউল জানতে পারে স্ত্রী নাসিমাও আর বেঁচে নেই। শোনা যায় বড় মেয়ের শোকে সেও পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছেন। এ খবরে দিসেহারা হয়ে পড়েন এ কবি। দেশেও যেতে পারেননি তিনি।

এখানেই শেষ নয়, পরবর্তী রহস্য জানতে আমাদের সঙ্গে থাকুন